যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগরের বিতর্কিত জ্যাকড’ গ্যাসক্ষেত্র অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি শরতের শেষ নাগাদ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর হলবোর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে হতে যাওয়া হাই-প্রোফাইল উপ-নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমালোচনা এড়াতে লেবার পার্টি তাদের অবস্থান গোপন করছে বলে অভিযোগ করেছে গ্রিন পার্টি।
অ্যাবারডিনের উপকূলবর্তী জ্যাকড’ ক্ষেত্রটি অনুমোদনের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে নিজের সুপারিশ দেওয়ার কথা ছিল জ্বালানি সচিব মিয়াতা ফাহনবুল্লেহের। তবে হোয়াইটহলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার দলীয় সম্মেলন মৌসুমের জন্য হাউস অফ কমন্স স্থগিত হওয়ার আগে এই সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই। ফলে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে এই সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা আসছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
হলবোর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনটি দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সাবেক সংসদীয় এলাকা। সেখানে লেবার পার্টির প্রার্থী সগল আবদি-ওয়ালির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি। জলবায়ু সংকটের মধ্যেও জ্যাকড’ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সরকারি ইঙ্গিতের তীব্র সমালোচনা করেছেন পোলানস্কি।
মনোনীত হওয়ার পর পোলানস্কি অভিযোগ করেন, লেবার পার্টি উত্তর সাগরে নতুন ড্রিলিংয়ের অনুমতি দিতে যাচ্ছে, তবে উপ-নির্বাচনের সময় এটি গোপন রাখতে চায়। তিনি বলেন, জনগণ যেখানে জলবায়ু নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ চায়, সেখানে লেবার পার্টি জীবাশ্ম জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে দলটি ভোটারদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের আচরণ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হওয়ার কারণে চলতি মাসের শেষে লিভারপুলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লেবার পার্টির সম্মেলনে জ্যাকড’ বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই বিলম্বের সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া জ্বালানি সচিব অ্যান্ড্রিউ বোউই। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সিদ্ধান্তের বিলম্ব যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও সময় নেবে। তিনি দাবি করেন, লেবার পার্টি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জ্যাকড’ ছাড়াও রোজব্যাংক তেলক্ষেত্র প্রকল্পের বিষয়ে পৃথক আরেকটি সিদ্ধান্ত পেন্ডিং রয়েছে। পরিবেশবাদীরা দুটি প্রকল্পই বাতিল করার দাবি জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকল্পগুলো চালু করার তাগিদ দিয়েছেন। রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক এমন চাপের মধ্যে লেবার সরকার কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে লেবার পার্টি উত্তর সাগরে নতুন ড্রিলিং লাইসেন্স না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে জ্যাকড’ ও রোজব্যাংক প্রকল্পের পেছনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিদ্যমান লাইসেন্সের অনুকূলে পরিবেশগত অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। ফলে এই পারমিট মঞ্জুর করা হলে তা ইশতেহারের সরাসরি লঙ্ঘন হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যদিও দলটির অনেক এমপি পুরো প্রকল্পেরই বিরোধিতা করছেন।
প্রক্রিয়া অনুযায়ী, জ্বালানি সচিব তার সুপারিশ নর্থ সি ট্রানজিশন অথরিটির কাছে পাঠাবেন, যারা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেবে। শিল্প খাতের দাবি অনুযায়ী, পিক টাইমে এই দুটি ক্ষেত্র যুক্তরাজ্যের তেল ও গ্যাসের মোট চাহিদার ১০ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। গত মাসে এই সংক্রান্ত পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং জ্বালানি সচিব বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
অন্যদিকে পরিবেশবাদীদের দাবি, এই তেল ও গ্যাস থেকে নির্গত কার্বনের ফলে অর্থনীতিতে প্রায় ৩৩৬ বিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতি হতে পারে। সেল (Shell) এবং নরওয়ের প্রতিষ্ঠান ইকুইনোর (Equinor) পরিচালিত এই ক্ষেত্রগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার লাইসেন্স থাকলেও আদালতের এক রায়ের পর পরিবেশগত অনুমোদন বাতিল করা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, তেল-গ্যাস ব্যবহারের ফলে তৈরি কার্বন নির্গমনের হিসাব দেওয়া বাধ্যতামূলক।
সূত্র: The Guardian – Business

