এআই কেন্দ্র গড়ে তুলতে শিল্পীদের স্বার্থ বিসর্জনের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিরুদ্ধে
এআই সংস্থাগুলোকে সুযোগ দিতে অষ্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার কপিরাইট আইন শিথিলের পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন টেক জায়ান্টদের ডেটাসেন্টার বিনিয়োগ আকর্ষণে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছেন স্বতন্ত্র ও গ্রিনস দলের আইনপ্রণেতারা।

Technology ডেস্ক: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংস্থাসমূহকে অস্ট্রেলীয় শিল্পীদের তৈরি কনটেন্ট ব্যবহারে সুযোগ করে দিতে কপিরাইট সুরক্ষায় ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটির অ্যালবানিজি সরকার। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এক সমঝোতায় পৌঁছাতে সরকার এই পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে ফাঁশ হওয়া নথিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে কড়া সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সিনেটর ডেভিড পোকক অভিযোগ করেছেন, ডেটাসেন্টার অর্থায়নের লোভে সরকার স্থানীয় সৃষ্টিকর্তা ও কপিরাইট মালিকদের স্বার্থ বলির পাঁঠা বানাচ্ছে।
সম্প্রতি ওপেনএআই-এর গ্লোবাল পলিসি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান ও’লিয়ারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা লেবার সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা সতর্ক করে জানান যে, অস্ট্রেলিয়ার বিদ্যমান কপিরাইট আইনের কারণে সংস্থাটি স্থানীয়ভাবে তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণ দিতে পারছে না। এরপরই মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে ‘এআই অন অস্ট্রেলিয়ান টার্মস’ শীর্ষক সরকারি পরামর্শ সভার একটি নথি পেশ করেন সিনেটর পোকক।
ফাঁশ হওয়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাধারণ অস্ট্রেলীয়রা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কনটেন্ট এআই ব্যবহারে নিষেধ বা প্রত্যাহার (অপ্ট-আউট) না করেন, তবে এআই কোম্পানিগুলো বাই ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সেই সব কনটেন্টে প্রবেশাধিকার পেয়ে যাবে। পোকক বলেন, সাধারণ অস্ট্রেলীয়দের নিজস্ব সৃষ্টি ও বিনিয়োগের অধিকার সুরক্ষার দায়িত্ব তাদের নিজেদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একেবারেই অনুচিত।
নথিতে মূল সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইন্টারনেটে হাজার হাজার ছোট ও স্বতন্ত্র সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন, যাদের সবার সঙ্গে আলাদাভাবে স্বেচ্ছাসেবী চুক্তি করা এআই কোম্পানিগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এআই প্রশিক্ষণ থেকে নিজেদের কাজ রক্ষা করতে হলে শিল্পীদের ডিজিটাল সুরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা মূল অধিকারধারীদের মতে বাস্তবসম্মত নয়। অন্য একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট খাতের মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হলেই সংশ্লিষ্ট খাতের সবার কনটেন্ট ব্যবহারের অধিকার পাবে এআই প্রতিষ্ঠানগুলো।
এর আগে গ্রিনস সিনেটর সারা হ্যানসন-ইয়ং এ ধরনের সমঝোতার প্রস্তাবকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক অস্ট্রেলীয়র নিজের কাজের জন্য পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বড় টেক কোম্পানিগুলোকে বিনামূল্যে অস্ট্রেলীয়দের কাজ ব্যবহার করতে দিলে তা তাদের বাণিজ্যিক মুনাফাই বাড়াবে। উল্লেখ্য, এআই কোম্পানিগুলো ৫০ বিলিয়ন ডলারের ডেটাসেন্টার বিনিয়োগের বিনিময়ে কপিরাইট আইন শিথিলের প্রস্তাব দিচ্ছে এমন খবরের পর থেকেই স্থানীয় সংগীতশিল্পী, লেখক ও শিল্পীরা এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পীদের স্বার্থ সুরক্ষার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। লেবার সরকারের শিল্পমন্ত্রী টিম আইরস জানান, নতুন এআই নিয়মে কপিরাইট সুরক্ষা কমানোর কোনো সুযোগ নেই। অ্যাটর্নি জেনারেল মিশেল রোল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানান, যেকোনো নতুন কপিরাইট পরিবর্তনে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে।
উপ-প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লস বলেন, মার্কিন টেক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সীমান্ত প্রযুক্তিতে কাজ করার অর্থনৈতিক সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশাল। তবে তা অবশ্যই জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে হতে হবে। অন্যদিকে সহকারী প্রযুক্তি মন্ত্রী অ্যান্ড্রু চার্লটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিল্পীদের স্বার্থের বিনিময়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; এমনকি এর ফলে ডেটাসেন্টার বিনিয়োগ হাতছাড়া হলেও সরকার তা মেনে নেবে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
