Technology ডেস্ক: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ও বিকৃত ভিডিও বা ‘ডিপফেক’ নিয়ন্ত্রণে মেটার সুরক্ষাব্যবস্থাকে চরম অপ্রতুল বলে আখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওভারসাইট বোর্ড। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের এক রাজনীতিক ও এক মুসলিম নারী অধিকারকর্মীর ডিপফেক ভিডিও ফেসবুক থেকে অবিলম্বে সরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেক জায়ান্ট মেটাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, স্কটল্যান্ডের লেবার পার্টির একজন নারী কাউন্সেলরকে নিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও ফেসবুকে রেখে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ওই ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে যুক্ত করা অডিওর মাধ্যমে শরণার্থী সম্পর্কে চরম বিতর্কিত বক্তব্য দিতে দেখানো হয়েছিল তাকে। অডিওর সঙ্গে মুখের ভেতরের নড়াচড়ার সামঞ্জস্য না থাকায় এটি এআই-নির্মিত বলে চিহ্নিত করা যায়। এমনকি ওভারসাইট বোর্ড সরাসরি বিষয়টি মেটার নজরে আনার পরও সংস্থাটি দাবি করে, কনটেন্টটি তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেনি এবং এতে কোনো এআই লেবেল দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
তবে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ব্লগে ওভারসাইট বোর্ড স্পষ্ট করে, ভিডিওটি মেটার ঘৃণাত্মক আচরণ বা ‘হেটফুল কনডাক্ট’ নীতি লঙ্ঘন করেছে। কারণ এতে শরণার্থীদের ঢালাওভাবে অপরাধমূলক ও যৌন আক্রমণাত্মক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। বোর্ড জানায়, ভিডিওটি সরানো ছাড়াও এটিতে ‘হাই রিস্ক এআই’ বা উচ্চ ঝুঁকির এআই লেবেল যুক্ত করা উচিত ছিল।
অন্য একটি আদেশে, ইউরোপের এক তরুণী মুসলিম অধিকারকর্মীকে নিয়ে তৈরি এআই ভিডিও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নারী জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী ও মেয়েদের ঋতুস্রাবজনিত স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে একটি প্রচারাভিযানে যুক্ত ছিলেন। তাকে নিয়ে তৈরি একটি বিকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অস্বাভাবিক ব্যায়াম করছেন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন। মেটার প্ল্যাটফর্মসহ অনলাইনে এ ধরনের ভিডিও কোটি কোটি বার দেখা হয়েছে। বোর্ড এটিকে মেটার বুলিং ও হয়রানি নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ওভারসাইট বোর্ডের কো-চেয়ার পামেলা সান মার্টিন জানান, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক, সব ধরনের নারীদের প্রকাশ্যে কথা বলা বন্ধ করতে ও তাদের হয়রানি করতে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেসব নারী সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে জনসমক্ষে যুক্ত থাকেন, তাদের অসমভাবে এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এজন্য মেটাসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের আরও শক্ত নীতিমালা প্রয়োজন।
এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে মেটার নীতিমালায় মোট নয়টি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে ওভারসাইট বোর্ড। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই কনটেন্ট চিহ্নিত হলে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেটির বিস্তার কমিয়ে দেওয়া, যাতে ব্যবহারকারীদের ফিডে তা সহজে না আসে। এছাড়া এ ধরনের সংবেদনশীল কনটেন্ট দেখার আগে সতর্কবার্তা বা ওয়ার্নিং স্ক্রিন যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড আরও বলেছে, বারবার এ ধরনের ডিপফেক কনটেন্ট শেয়ার করা অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে ব্যক্তিমালিকানাধীন কোনো সাধারণ মানুষের না বলা কথা বা না করা কাজকে এআই দিয়ে বিকৃত করা হলে, সেটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ম্যানিপুলেটেড কনটেন্ট’ হিসেবে গণ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং রেফারির ভূমিকা পালনের জন্য ২০২০ সালে এই ওভারসাইট বোর্ড গঠন করে মেটা। বোর্ডের দেওয়া আদেশ মেটার জন্য মানা বাধ্যতামূলক। এই পর্যালোচনার বিষয়ে মেটার বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

