POTHIKTV
PCreate story
September 14, 2026

তিন প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে নগরকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলামের

Sheikh JunaedContributor
Follow🛡️ 3% Trust Score
তিন প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে নগরকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলামের

তিন প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে নগরকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলামের

তিতাস উদ্ধার, টাউনখাল বর্জ্যমুক্ত ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ

শেখ জুনায়েদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

একদিকে ময়লা-আবর্জনায় বিপর্যস্ত তিতাস নদী, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বর্জ্য ও দখলে সংকুচিত টাউনখাল। এর সঙ্গে প্রতিদিনের যানজট, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের দাপট—সব মিলিয়ে নাগরিক ভোগান্তিতে নাকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি থাকলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এবার এসব সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি বড় মিশন নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম। তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শহরের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সচেতন নাগরিকরা।

পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পৌরসভাকে আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। তবে সীমিত বাজেট, প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি এবং পৌরসভার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এর মধ্যেই শহরের দীর্ঘদিনের তিনটি বড় সমস্যা সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে তিনি কাজ করছেন। ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি পৌর শহরকে আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম মিশন—তিতাস নদী উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিচয় ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তিতাস নদী। কিন্তু দীর্ঘদিনের দূষণ, ময়লা-আবর্জনা ও নানা অব্যবস্থাপনায় নদীটির সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ অনেকটাই নষ্ট হয়েছে।

পৌর প্রশাসকের পরিকল্পনায় নদী থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং নদীকে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ রয়েছে। শুধু পরিষ্কার করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ থাকে, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তিতাসকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করা গেলে এটি শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও মানুষের বিনোদনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয় মিশন—টাউনখাল হবে বর্জ্যমুক্ত

শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ টাউনখাল। অথচ দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনা, দখল ও অব্যবস্থাপনায় খালটির স্বাভাবিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

খালটিকে বর্জ্য ও ময়লামুক্ত করার পাশাপাশি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছেন পৌর প্রশাসক।
তিনি জানান, টাউনখাল কার্যকরভাবে সংস্কার ও পরিচ্ছন্ন করা গেলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি শহরের পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে এবার পরিষ্কারের পাশাপাশি সেখানে যাতে পুনরায় বর্জ্য ফেলা না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম।

তৃতীয় মিশন—ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে যানজটমুক্ত শহর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সবচেয়ে দৃশ্যমান নাগরিক সমস্যাগুলোর একটি যানজট। বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
পৌর প্রশাসক জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনার পাশাপাশি অবৈধ গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শহরের যানজট কমিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে ।

তিন প্রতিশ্রুতি ঘিরে নাগরিক প্রত্যাশা

তিতাস নদী উদ্ধার, টাউনখাল আধুনিকায়ন এবং যানজট নিরসন—তিনটি উদ্যোগই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে পৌর প্রশাসকের ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নগরবাসীর ভাষ্য, শহরকে আধুনিক করতে হলে শুধু সড়ক বা ভবন নির্মাণ করলেই হবে না। পরিবেশ, পানি নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যান চলাচলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। সেই বিবেচনায় প্রশাসকের তিনটি উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তারা বলেন, এর আগেও বিভিন্ন সময় শহরের এসব সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়নি। এবার ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো যেন বাস্তবায়নের পথে যায় এবং মাঝপথে থেমে না যায়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
বিশেষ করে তিতাস ও টাউনখাল পরিষ্কারের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ফেলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ম প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুফল দিতে পারে।

নাগরিকদের প্রত্যাশা, সীমিত বাজেট ও জনবল সংকটের মধ্যেও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে পৌর প্রশাসন।

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়। তবে তিনটি উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে তিতাসপাড়ের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটি আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

1
0 comments·0 shares