প্রযুক্তি ডেস্ক: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
নতুন আইফোন কিনতে চান কিংবা পুরোনো আইফোন বদলে রিফার্বিশড কোনো মডেল নিতে চান? গার্ডিয়ানের ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গ্যাজেট বিশেষজ্ঞ স্যামুয়েল গিবস হাজারেরও বেশি ডিভাইস পর্যালোচনার পর অ্যাপলের বিভিন্ন মডেলের আইফোনের পারফরম্যান্স ও কার্যক্ষমতা তুলে ধরেছেন। ব্যবহারকারীর নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী কোন আইফোনটি উপযুক্ত, তা নির্ধারিত হয় ব্যাটারি লাইফ, ক্যামেরা ও পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে।
অ্যাপল সম্প্রতি তাদের আইফোন ১৮ প্রিমিয়াম সিরিজের নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলের ঘোষণা দিয়েছে, যা আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া যাবে। এতে আরও দ্রুতগতির চিপ এবং উন্নত ক্যামেরার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো ভাঁজ করা ফোন ‘আইফোন ডিউও’ উন্মোচন করেছে অ্যাপল। বইয়ের মতো খোলা যায় এমন এই ফোনে বাইরের দিকে ৫.৪ ইঞ্চি এবং ভেতরের দিকে ৭.৬ ইঞ্চির স্ক্রিন রয়েছে, যা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাজারে আসছে। তবে সাধারণ আইফোন ১৮ না আসায় বর্তমানে আইফোন ১৭-ই অ্যাপলের স্ট্যান্ডার্ড মডেল হিসেবে থাকছে। অন্যদিকে, মেমোরি উপাদান বা র্যামের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরোনো ও নতুন সব মডেলের দামে প্রায় ১০০ পাউন্ড যুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মডেল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে আইফোন ১৭-কে। এতে রয়েছে ৬.৩ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ ওলেড ডিসপ্লে, যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ রিফ্রেশ রেট প্রদান করে। এআই প্রযুক্তি ও এ১৯ চিপ সমৃদ্ধ এই ফোনটির মূল মেমোরি শুরু হয়েছে ২৫৬ জিবি থেকে। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা এবং ১৮ মেগাপিক্সেলের ‘সেন্টার স্টেজ’ সেলফি ক্যামেরা রয়েছে। এর ব্যাটারি চার্জ দিয়ে প্রায় দুই দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
যাঁরা ভালো মানের ক্যামেরা চান, তাঁদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে আইফোন ১৭ প্রো। ৬.৩ ইঞ্চি ওলেড ডিসপ্লে ও এ১৯ প্রো চিপের এই ফোনে অ্যালুমিনিয়াম ইউনিবডি ডিজাইন রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা সেন্সর, যা কার্যকর ৮ গুণ পর্যন্ত অপটিক্যাল জুম সুবিধা দেয়। সাধারণ ব্যবহারে এর ব্যাটারি প্রায় ৪২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ ও বড় স্ক্রিন যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স অন্যতম। ৬.৯ ইঞ্চি ডিসপ্লের এই ফোনে অ্যাপলের শক্তিশালী এ১৯ প্রো চিপ ও ২৫৬ জিবি থেকে ২ টিবি পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে। একবার চার্জ দিলে সাধারণ ব্যবহারে এই ফোন প্রায় ৫৫ ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। তবে ব্যাটারির আকার বড় হওয়ার কারণে ডিভাইসটি তুলনামূলক ভারী।
সবচেয়ে পাতলা ও হালকা ফোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘আইফোন এয়ার’ মডেলটিকে। মাত্র ৫.৬৪ মিলিমিটার পুরু ও ১৬৫ গ্রাম ওজনের এই ডিভাইসে ৬.৫ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ ওলেড স্ক্রিন এবং এ১৯ প্রো চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে পাতলা ফ্রেমের কারণে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রায় ৪০ ঘণ্টা। এতে শারীরিক ন্যানো-সিম স্লট নেই, সম্পূর্ণভাবে ই-সিম প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এর পেছনে কেবল একটিমাত্র ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে।
অ্যাপলের সবচেয়ে কমদামী নতুন ফোন হলো আইফোন ১৭ই। পুরোনো আইফোন ১৪-এর ডিজাইনে তৈরি এই ডিভাইসে ৬.১ ইঞ্চি ওলেড ডিসপ্লে, এ১৯ চিপ, ২৫৬ জিবি স্টোরেজ ও সিরামিক শিল্ড ২ সুরক্ষা রয়েছে। এটি সাধারণ ব্যবহারে দুদিনের বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয়। তবে এতে ক্যামেরা কন্ট্রোল বোতাম, আল্ট্রা-ওয়াইড বা টেলিফোটো ক্যামেরা এবং সেন্টার স্টেজ প্রযুক্তির মতো বেশ কিছু ফ্ল্যাগশিপ ফিচার বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো মডেল আইফোন ১৬-তেও ভালো মানের ফিচার রয়েছে, যা প্রায় পাঁচ বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার সাপোর্ট পাবে। অন্যদিকে, অ্যাপলের নতুন আইওএস ২৭ সফটওয়্যারটি ২০১৯ সালের আইফোন ১১ পর্যন্ত পুরোনো ডিভাইসে সাপোর্ট করে। ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, ব্যাটারি দুর্বল হলে সম্পূর্ণ ফোন পরিবর্তন না করে ৬৫ থেকে ১১৯ পাউন্ডের মধ্যে অ্যাপল থেকে নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এছাড়া পরিবেশ ও বাজেট সুরক্ষায় নতুন ফোনের বিকল্প হিসেবে রিফার্বিশড আইফোনও একটি ভালো পছন্দ হতে পারে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

