নার্নিয়ার ‘আসলান’ চরিত্রে মেরিল স্ট্রিপ: ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থীরা, মুখ খুললেন গ্রেটা গারউইগ
সিএস লিউইসের নার্নিয়া সিরিজের 'দ্য ম্যাজিশিয়ানস নেফিউ' চলচ্চিত্রে আসলান চরিত্রের কণ্ঠ হিসেবে মেরিল স্ট্রিপের অন্তর্ভুক্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আমেরিকান কট্টরপন্থী খ্রিস্টানরা। পরিচালক গ্রেটা গারউইগ তাঁর সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

Entertainment ডেস্ক: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন
সিএস লিউইসের বিখ্যাত নার্নিয়া সিরিজের অন্যতম উপন্যাস ‘দ্য ম্যাজিশিয়ানস নেফিউ’-এর নতুন চলচ্চিত্র সংস্করণে ‘আসলান’ চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপকে নির্বাচন করেছেন পরিচালক গ্রেটা গারউইগ। নার্নিয়ার এই যিশু-প্রতিম সিংহ চরিত্রটিতে একজন নারীর কণ্ঠ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কট্টরপন্থী খ্রিস্টান বা ইভানজেলিক্যাল আলোচকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাময়িকী ‘এম্পায়ার’-এ এই চলচ্চিত্রের প্রথম ঝলক এবং পরিচালক গারউইগের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার পর সমালোচনা নতুন করে চাঙ্গা হয়। সাক্ষাৎকারে ‘বার্বি’ খ্যাত পরিচালক গারউইগ মেরিল স্ট্রিপকে কাস্টিং করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং নিজের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, বিতর্ক উসকে দেওয়ার জন্য নয়, বরং এমন একজন সত্তোরোর্ধ্ব অভিনয়শিল্পীকে তাঁর প্রয়োজন ছিল যিনি একই সঙ্গে গভীর প্রজ্ঞা ও শিশুর মতো বিস্ময় ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।
গারউইগ বলেন, “আমি এমন কাউকে চেয়েছিলাম যিনি প্রজ্ঞাবান কিন্তু আত্মম্ভরী নন; যার মধ্যে গাম্ভীর্য রয়েছে তবে তা বিষাদগ্রস্ত স্ব-গাম্ভীর্য নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে সেরা অভিনয়শিল্পীদের তালিকা মোটেও দীর্ঘ নয় এবং স্ট্রিপ সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তবে পরিচালক আসলান চরিত্রটিকে এই সংস্করণে নারী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু নিশ্চিত করেননি।
এই ঘোষণার পর আমেরিকান কনজারভেটিভ ও কট্টরপন্থী খ্রিস্টান প্রতিনিধিরা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রেডিও উপস্থাপক জেনা এলিস অভিযোগ করেন যে, গারউইগ “ঐশ্বরিক নারীত্ব দিয়ে খ্রিষ্টকে অপবিত্র করছেন।” অন্যদিকে টেক্সাসের প্রচারক ডেভিড ফেয়ারচাইল্ড এই নির্বাচনকে “সৃজনশীল বর্বরতা” বলে অভিহিত করেছেন।
কনজারভেটিভ মাধ্যম ‘দ্য ডেইলি ওয়ার’-এর ইসাবেল ব্রাউন স্ট্রিপকে কাস্টিং করার সিদ্ধান্তকে আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিএস লিউইস নার্নিয়ার জগতে আসলানকে মূলত খ্রিষ্টের অবতার রূপেই উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন। ‘দ্য ভয়েজ অব দ্য ডন ট্রিডার’ উপন্যাসের সমাপ্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে আসলান বাকি চরিত্রদের জানিয়েছিল যে তারা তাদের নিজেদের পৃথিবীতে তাকে অন্য নামে চিনবে। ব্রাউনের মতে, স্ট্রিপকে এই চরিত্রে নেওয়া খ্রিস্টধর্মের প্রতি এক ধরনের পরিকল্পিত উপহাস।
তবে সবাই এই সমালোচনার সঙ্গে একমত নন। খ্রিস্টান লেখিকা মেরি পেজুলো কট্টরপন্থীদের এই ক্ষোভের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অনেকে যিশুকে এক হিংস্র পশু হিসেবে উপস্থাপন করতে আপত্তি জানান না, কিন্তু একজন নারীর কণ্ঠ দিলেই তা তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। তিনি লিখেছেন, খ্রিষ্টকে সিংহ বা শিকারি পশু হিসেবে দেখানোকে যদি পবিত্র শিল্প মনে করা হয়, তবে একজন নারী তাঁর কণ্ঠ দিলে তাকে অশুভ ভাবা এক ধরনের আয়রনি।
নতুন এই চলচ্চিত্রটিতে ফ্যান্টাসি জগতকে একটি রক অপেরা প্রিজমের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে রূপদানের পরিকল্পনা করেছেন গারউইগ। সিনেমার প্রচারণামূলক ছবিতে আসলানের চোখ তৈরি করা হয়েছে ডেভিড বোয়ির মতো দুটি ভিন্ন রঙের চোখের আদলে। মূল চরিত্রের রহস্যময় জাদুকরের ভূমিকায় অভিনয় করছেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ এবং হোয়াইট উইচ বা ‘জাডিস’ চরিত্রে অভিনয় করছেন এমা ম্যাকি।
‘দ্য ম্যাজিশিয়ানস নেফিউ’ গল্পে দুটি শিশু অন্যান্য জগতের সন্ধান পায় এবং দুর্ঘটনাক্রমে লন্ডনে এক রানীকে নিয়ে আসে। যদিও চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করা মেরিল স্ট্রিপের কণ্ঠ এখনো কেউ শোনেননি, তবুও তিনি ইতিমধ্যেই মূল খল চরিত্র হোয়াইট উইচকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন।
