পপ ক্যারেক্টার থেকে ফ্যাশন আইকন: কাইলি মিনোগের চার দশকের রূপান্তরের গল্প
অস্ট্রেলীয় ধারাবাহিক ‘নেবারস’ থেকে আন্তর্জাতিক পপ সুপারস্টার হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে আসছে নতুন বই। চার দশকের কর্মজীবনে ফ্যাশনকে কীভাবে নিজের রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন কাইলি মিনোগ, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

Entertainment ডেস্ক: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
অস্ট্রেলীয় জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘নেবারস’-এর চার্লিন চরিত্র থেকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম পপ সুপারস্টার হয়ে ওঠার পেছনে কাইলি মিনোগের ফ্যাশন সচেতনতা একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর এই দীর্ঘ ও চমকপ্রদ সফরকে কেন্দ্র করে মাইকেল ক্র্যাগের লেখা নতুন বই ‘ক্যান্ট গেট ইউ আউট অফ মাই হেড: ইন সার্চ অফ কাইলি’ প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ফাইবার থেকে প্রকাশিতব্য এই বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে কীভাবে কাইলি নিজের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনকে ফ্যাশনের মাধ্যমে রূপান্তর ও উপস্থাপন করেছেন।
১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর নিজের ‘দ্য ডেলিঙ্কোয়েন্টস’ চলচ্চিত্রের অস্ট্রেলীয় প্রিমিয়ারে প্রথমবার ফ্যাশনের শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগান কাইলি। সেদিন তিনি অস্ট্রেলীয় ডিজাইনার মরিসি এডমিস্টনের তৈরি সিকুইনযুক্ত একটি পোশাক ও ছোট স্বর্ণালী রঙের উইগ পরে হাজির হন। একই সঙ্গে ইনএক্সএস (INXS) ব্যান্ডের রকার মাইকেল হাচেঞ্চের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবরও জনসমক্ষে আসে। এর আগে ১৯৮৮ সালে নিজের প্রথম অ্যালবামের প্রচ্ছদে কিংবা ধারাবাহিকের বিয়ের পোশাকে ফ্যাশন ছিল তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া, যার ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কিন্তু সেখান থেকেই নিজের চেহারার ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেন তিনি।
পপ ক্যারেক্টারের পরিবর্তন ও নতুন রূপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন কাইলি। এই বিষয়ে ২০১২ সালে প্রকাশিত ‘কাইলি/ফ্যাশন’ ছবির বইটির ভূমিকায় খ্যাতনামা ডিজাইনার জাঁ পল গলতিয়ে লিখেছিলেন, কাইলি প্রতিনিয়ত সময়ের বিবর্তন ও ফ্যাশনের সঙ্গে নিজেকে বদলেছেন, রূপান্তর করেছেন এবং খাপ খাইয়ে নিয়েছেন—তবুও তিনি নিজের মৌলিক সত্তা ধরে রেখেছেন।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে কাইলি তাঁর তথাকথিত ‘স্মাইলি কাইলি’ ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের ঝুঁকি নেন। ১৯৯১ সালের ‘লেটস গেট টু ইট’ ট্যুরের জন্য তিনি বেছে নেন ততটা পরিচিত না থাকা ডিজাইনার জন গ্যালিয়ানোকে। সেই সফরের খোলামেলা পোশাক ও কাঁচুলি বেশ বিতর্ক তৈরি করে। ব্রিটিশ সঙ্গীত পত্রিকা এনএমই (NME) তখন তাঁর বিরুদ্ধে তরুণ ভক্তদের কাছে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বার্তা’ পাঠানোর অভিযোগ আনে। তবে কাইলি সেই সময় একটি সাক্ষাৎকারে জানান, শরীর ঢেকে রাখার পোশাক তৈরির জন্য তিনি গ্যালিয়ানোকে নিয়োগ দেননি; বরং নিজের পুরোনো ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ‘কাইলি মিনোগ’ অ্যালবামের প্রচ্ছদের জন্য ফ্যাশন স্টাইলিস্ট কেটি গ্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন তিনি। সেখানে দেখা যায় খালি পায়ে, চোখে চশমা এবং পল স্মিথের স্যুট পরা এক ব্যতিক্রমী কাইলিকে। এর মাধ্যমে তিনি নিজের পপ ইমেজে এক নতুন ও আকর্ষণীয় মাত্রা যোগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর স্টাইলিস্ট উইলিয়াম বাকারের সৌজন্যে তিনি ওভেন গ্যাস্টার, আন্তোনিও বেরার্দি ও ভেরোনিক লেরোয়ার মতো আধুনিক ও স্বতন্ত্র ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
নতুন সহস্রাব্দের শুরুতে বা ২০০০ সালে দাতব্য দোকান থেকে মাত্র ৫০ পেন্স দিয়ে কেনা গোল্ডেন হট প্যান্ট পরে ‘স্পিনিং অ্যারাউন্ড’ মিউজিক ভিডিওতে হাজির হন কাইলি। এই পোশাকটি পপ সঙ্গীতে তাঁর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পোশাকটির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তীতে এটি ‘আর্টস সেন্টার মেলবোর্ন’-এ দান করা হয়, যা বর্তমানে কাচের বাক্সে শিল্পকর্ম হিসেবে প্রদর্শিত হয়।
এর পরের বছর অর্থাৎ ২০০১ সালে ‘ক্যান্ট গেট ইউ আউট অফ মাই হেড’ গানের জন্য ডিজাইনার ফি ডোরাণ (মিসেস জোন্স) একটি বিশেষ সাদা হুডেড জাম্পস্যুট তৈরি করেন। পোশাকটি সেই সময় অত্যন্ত প্রশংসিত হয় এবং কাইলির ফিভার অ্যালবামের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। এছাড়া ২০০৩ সালের ‘স্লো’ মিউজিক ভিডিওতে বেলেনসিয়াগার নীল পোশাক এবং ২০০৭ সালে ক্যানসার জয়ের পর পপ সঙ্গীতে ফিরে এসে গ্যালেথ পিউয়ের তৈরি ফিউচারিস্টিক পোশাকে পারফর্ম করেন তিনি।
চার দশকের দীর্ঘ পথচলায় কাইলি মিনোগকে কখনোই কোনো একজন নির্দিষ্ট ডিজাইনার বা স্টাইলিস্ট আটকে রাখতে পারেননি। সঙ্গীত সমন্বয়কদের মতো তিনি ফ্যাশনকেও ব্যবহার করেছেন নিজের বহুমুখী সত্তাকে ফুটিয়ে তোলার হাতিয়ার হিসেবে।
