খেলাধুলা ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধের লক্ষে ‘টুগেদার এগেইনস্ট সুইসাইড’ ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ৪ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান এই প্রচার অভিযানে সংহতি জানিয়েছেন হ্যারি কেইন এবং প্রিন্স উইলিয়াম। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সরল ও স্পষ্ট বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে লিগটি তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও সংহতিমূলক বার্তা প্রকাশ করছে।
এই সচেতনতামূলক প্রচারণাটি সব বয়স, লিঙ্গ ও পটভূমির মানুষের জন্য প্রযোজ্য হলেও বিশেষভাবে মধ্যবয়সী পুরুষদের লক্ষ্য করে সাজানো হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার হার অন্য যেকোনো বয়সের চেয়ে বেশি। প্রায়শই কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই কিংবা লোকচক্ষুর অন্তরালে এই ধরনের মানসিক সংকট তৈরি হয়, যা প্রকাশ করা পুরুষদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
মাঠের খেলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে ফুটবলের রয়েছে এক বিশাল প্রভাব। মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে নিজের অনুভূতি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া এবং কথা বলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই প্রচারাভিযানে। প্রিন্স উইলিয়াম এই বিষয়ে মত প্রকাশ করে জানান, নিজের মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পারা মোটেও দুর্বলতা নয়, বরং তা সাহসিকতার লক্ষণ।
মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দূর করতে সুষম জীবনযাপন, বাইরে সময় কাটানো এবং অন্যদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাচীন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলা হয়, অতীতেও অনেক বীর যোদ্ধা তাদের মনের ভয় ও বিষাদ প্রকাশ করতেন, যা তাদের আরও শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরত। সম্প্রতি বেন স্টোকসের মতো শীর্ষ তারকাও তার বিষণ্ণতার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন, যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
তবে এই ইতিবাচক প্রচারণার পাশাপাশি আধুনিক ক্রীড়া বিশ্বের বাণিজ্যিক ও সামাজিক পরিবেশ নিয়েও আলোচনা উঠে এসেছে। পেশাদার ফুটবল ও ক্রীড়া জগতের বিশাল বাণিজ্যিক কাঠামোর ফলে অনেক সাধারণ সমর্থক অর্থনৈতিক বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগেন। তা সত্ত্বেও, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরিতে এবং জীবন রক্ষায় ফুটবলের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: The Guardian – Sport

