বলের দখল রাখা ইংলিশ ফুটবলের সংস্কৃতিতে নেই, টুখেলের পক্ষে মত অ্যান্থনি গর্ডনের
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের ক্ষত এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ম্যাচের বল পজেশন ধরে রাখা নিয়ে থমাস টুখেলের বিতর্কিত বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করেছেন বার্সেলোনা উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন।

Sports ডেস্ক: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ন
বল পজেশন বা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখা ইংলিশ ফুটবলের ডিএনএ বা সংস্কৃতির অংশ নয়— থমাস টুখেলের এমন মন্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। স্পেনের বিরুদ্ধে নেশনস লিগের ম্যাচের আগে ২৫ বছর বয়সী এই বার্সেলোনা উইঙ্গার স্পষ্ট জানান, স্প্যানিশদের মতো বল পজেশন রেখে খেলার শক্তি ইংলিশ ফুটবলারদের নেই।
গত জুলাইয়ে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ম্যাচের শেষভাগে দুটি গোল হজম করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। ওই ম্যাচে দলের কৌশল ও পরবর্তীতে টুখেলের “পজেশন ফুটবল ইংলিশদের ডিএনএ-তে নেই” সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে গর্ডন মনে করেন, এই ব্যর্থতা কেবল কোনো একক ম্যাচের নয়, এটি তাদের পুরো ফুটবল সংস্কৃতিরই একটি অংশ।
বার্সেলোনায় খেলার সুবাদে স্প্যানিশ ফুটবলের পাসিং ও পজেশন ধরে রাখার কৌশল খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন গর্ডন। তিনি মনে করেন, ইংলিশ খেলোয়াড়দের শেখানোর মাধ্যমে স্পেনের মতো বল পজেশন ধরে রাখার দক্ষতা তৈরি করা সম্ভব নয়। অন্য দেশের স্টাইল নকল করার চেষ্টা না করে ইংল্যান্ডের উচিত তাদের নিজস্ব শক্তিমত্তা অনুযায়ী খেলা।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গর্ডন বলেন, সংস্কৃতিগতভাবেই ইংলিশরা স্প্যানিশদের মতো খেলায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। ইংল্যান্ডের ফুটবলে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেয়ে শারীরিক শক্তি, সরাসরি আক্রমণ এবং কাউন্টার-অ্যাটাকের ওপর জোর দেওয়াটাই বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মত দেন তিনি।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালে গোল করার পর হঠাৎ তাকে তুলে নেওয়া হলে গর্ডন কিছুটা অবাক হয়েছিলেন। দ্বিতীয় অর্ধে ড্রিংকস ব্রেকের পর টুখেল রক্ষণভাগ শক্তিশালী করতে গর্ডনকে তুলে নিয়ে এজরি কনসাকে মাঠে নামান এবং পাঁচ ডিফেন্ডারের ফরমেশনে ফিরে যান। গর্ডন স্বীকার করেন যে, ওই সময়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় ছিলেন এবং মাঠেই থাকতে চেয়েছিলেন।
তবে কোচ টুখেলের ওই সিদ্ধান্তের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন গর্ডন নিজেই। তিনি জানান, একজন উইঙ্গার হিসেবে নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাছাড়া অনুশীলনে ইংল্যান্ড দল যেভাবে খেলেছিল, মাঠের পারফরম্যান্স তার সঙ্গে মেলেনি। ফলে শেষ ২০ মিনিটে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেওয়ার পেছনে কোচের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ছিল।
সেমিফাইনালে দলের এই শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির পেছনে রাউন্ড অব ১৬-এর মেক্সিকো ম্যাচের ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন গর্ডন। মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পর আবেগ ও দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল কাটাতে দলের চার দিন সময় লেগেছিল। উদযাপনের সময় জর্ডান হেন্ডারসনের কবজি ভেঙে যাওয়ার ঘটনাটিও দলের মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলেছিল।
বার্সেলোনায় গর্ডনের সতীর্থরা তাকে জানান, আর্জেন্টিনা ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হলেও ইংল্যান্ড থাকলে তারা স্পেনকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারত। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে জয় পেয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল স্পেন।
