বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশে পরিণত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

Bangladesh ডেস্ক: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫৬ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারকারী হিসেবে নয়, বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যা এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার না হয়ে সক্রিয় অংশীদার হওয়াটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাংলাদেশ আজ এক মহাপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই প্রযুক্তির ভূমিকা দেশের অবস্থান নির্ধারণ করবে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোটি তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে এবং বাংলাদেশকে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে হবে।
ব্যবসায়ী সমাজকে কেবল ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে এআইকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এছাড়া, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মতো দেশের তরুণরা যদি এআই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে, তবে তারাই বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করবে। সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৈতিকতা, মানবাধিকার ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি ও আশঙ্কার কথা স্মরণ করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। দেশে শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে এআই নতুন বেকারত্ব তৈরি করবে কিনা তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানান। প্রযুক্তি যেন সবকিছুর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করে এবং টেকসই ও উপযোগী প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিআইআই)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেডের সিইও সাবেক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ এবং সমাপনী বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।






