বিজ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক বিদ্যার মেলবন্ধন: মনোবিজ্ঞান চর্চায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে কেন?
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে মনোবিজ্ঞান। মানব আচরণ বোঝার পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ বহুমুখী প্রভাব ফেলছে।

Education ডেস্ক: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এ-লেভেল কোর্সে শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম শীর্ষ পছন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে মনোবিজ্ঞান। গণিতের পরেই বর্তমানে এ-লেভেলের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এটি। আন্তর্জাতিক আবেদন সংস্থা ‘উকাস’ (UCAS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় মনোবিজ্ঞান কোর্সে আবেদনের হার ৪.৯ শতাংশ বেড়েছে।
বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছর বয়সী স্নাতক শিক্ষার্থী নিয়েম মুলকাহি এ বছর বেশ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একটি নামীদামি এফটিএসই ১০০ (FTSE 100) প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় বিভাগে চাকরি পেয়েছেন। তিনি জানান, কোর্সের ডেটা অ্যানালাইসিস শেখার অভিজ্ঞতা তাকে চাকরির বাজারে বেশ সুবিধা দিয়েছে। কোর্সটিতে স্নায়ুবিজ্ঞান থেকে শুরু করে ফরেনসিক সাইকোলজি এবং ‘ইনসেল’ (incels)-এর মতো আধুনিক সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মানব আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মনোবিজ্ঞান কীভাবে মানুষ চিন্তা করে, অনুভব করে এবং আচরণ করে তা বোঝার একটি মূল মাধ্যম। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স স্কুলের বিশেষজ্ঞ হিদার ক্লিল্যান্ড উডস মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে যে দক্ষতাগুলোর কদর বাড়ছে, মনোবিজ্ঞান ঠিক সেই যোগাযোগ, জটিল মূল্যায়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার দক্ষতা গড়ে তোলে।
সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান জেমস এইঞ্জ জানান, বিষয়টির পরিধিই শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। কারণ এটি বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার ঠিক মাঝামাঝি বা মিলনস্থলে অবস্থান করছে। এখানে একদিকে যেমন মানুষের মতামত ও অনুভূতির বিশ্লেষণ রয়েছে, অন্যদিকে স্নায়ুবিজ্ঞান এবং কম্পিউটেশনাল মডেলের চর্চাও রয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ ও বস্তুনিষ্ঠ চিন্তা শেখার জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন চিকিৎসা, আইন কিংবা অর্থনীতির পাশাপাশি ‘গার্ডিয়ানস ইউনিভার্সিটি গাইড’-এ সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করা বিষয়গুলোর অন্যতম হলো মনোবিজ্ঞান। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি নিয়োগ বিভাগের প্রধান জেস লোমাস জানান, তরুণরা এখন বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যার সমধান খুঁজে পেতে চায়। জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোনের ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মতো চলমান বৈশ্বিক সমস্যাগুলো বুঝতে মনোবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের একটি কাঠামো তৈরি করে দেয়।
মনোবিজ্ঞানের ডিগ্রি অর্জনের পর ক্যারিয়ারের সুযোগও অত্যন্ত বহুমুখী। স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, শিক্ষাকথা বা পেশাদার মনোবিজ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা মার্কেটিং, সরকারি চাকরি, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, মানবসম্পদ (এইচআর) এবং করপোরেট জগতেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছেন।
স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান সাধারণত ‘বিএ’ (BA) অথবা ‘বিএসসি’ (BSc) কোর্স হিসেবে পড়ানো হয়। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোইনোভেশনের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ওয়েলচম্যান জানান, শিক্ষার্থীদের এমন কোর্স বেছে নেওয়া উচিত যা ‘ব্রিটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটি’ দ্বারা অনুমোদিত। এই অনুমোদন কোর্সের জাতীয় মান বজায় রাখার নিশ্চয়তা দেয়, যা পরবর্তীতে পেশাদার মনোবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Share this post visually
PothikTV
教育
বিজ্ঞানের পাশাপাশি মানবিক বিদ্যার মেলবন্ধন: মনোবিজ্ঞান চর্চায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে কেন?
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় বিষয় হয়ে উঠেছে মনোবিজ্ঞান। মানব আচরণ বোঝার পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ বহুমুখী প্রভাব ফেলছে।