POTHIKTV
Pस्टोरी बनाएँ
September 16, 2026

বিবিসির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রয়্যাল চার্টার নবায়নের গোপন ও জটিল প্রক্রিয়া শুরু

pothiktvContributor
फॉलो🛡️ 3% Trust Score
বিবিসির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রয়্যাল চার্টার নবায়নের গোপন ও জটিল প্রক্রিয়া শুরু

ফিচার ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

প্রতি এক দশকে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত গণমাধ্যম দ্য ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য দেশটির সরকারের সঙ্গে কয়েক বছর মেয়াদী জটিল এবং বিশদ আলোচনায় বসতে হয়। রেডিং শহরের উপকণ্ঠে একটি তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ঘরে রাখা বাছুরের চামড়ায় তৈরি বিশেষ নথির মাধ্যমে এর আইনি রূপ দেওয়া হয়। রাজকীয় সনদ বা ‘রয়্যাল চার্টার’-এর মাধ্যমে ১৯২০-এর দশকে রেডিও প্রযুক্তি চালু হওয়ার সময় থেকেই মেয়াদভিত্তিক সনদ নিয়ে পথ চলছে বিবিসি।

বর্তমান সনদের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। কোনো কারণে যদি সময়মতো চার্টার নবায়ন না হয়, তবে বিটিভি বা বিবিসির মতো আইনি সত্তার বিলুপ্তি ঘটবে। ফলে এটি আর কর্মী নিয়োগ, সম্প্রচার বা প্রকাশের সুযোগ পাবে না এবং এর সমস্ত সম্পদ রাষ্ট্রের অধীনে চলে যাবে। তাই ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী মেয়াদের নীতি নির্ধারণে এখন থেকেই শুরু হয়েছে তদবির, বিতর্ক ও দর কষাকষি।

এই নবায়ন প্রক্রিয়ায় নীতি নির্ধারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের সংবাদ ও মিডিয়ার রূপরেখা কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে হয়। অতীতে চার্টার নবায়নের সময়ই বিবিসি যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন অবকাঠামো তৈরি, ওয়েবসাইট চালু এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘আইপ্লেয়ার’ তৈরি করে। বিবিসির প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসবিদ জেন সিটনের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত হওয়া চার্টার নবায়নগুলোর মধ্যে বর্তমান প্রক্রিয়াটি সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রী লিবি নান্দি একটি ৩৮ হাজার শব্দের গ্রিন পেপার প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেখানে ডিসইনফরমেশন বা ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে লড়া এবং লন্ডন কেন্দ্রিক কাজ কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের মূল নজর ছিল এর অর্থায়ন ব্যবস্থার দিকে।

বর্তমানে বিবিসির প্রাতিষ্ঠানিক আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ আসে সরাসরি বার্ষিক ১৮০ পাউন্ডের লাইসেন্স ফি থেকে, যা লাইভ টিভি দেখা প্রতিটি পরিবার পরিশোধ করে। তবে নতুন বিবিসি মহাপরিচালক ম্যাট ব্রিটিন স্পষ্ট করেছেন যে এই মডেলটি এখন সংকটে। ২০১৭ সাল থেকে লাইসেন্স ফি বাবদ আয় বাস্তব অর্থে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন পাউন্ড কমে গেছে, যার ফলে সংস্থায় ব্যাপক বাজেট ছাঁটাই চলছে। গ্রিন পেপারে সরাসরি কর বা জার্মানির মতো গৃহস্থালি কর বাদ দেওয়ায় বিজ্ঞাপনী মডেল, সাবস্ক্রিপশন কিংবা পুনর্গঠিত লাইসেন্স ফি-ই ভরসা।

গ্রিন পেপারে উত্থাপিত ৩২টি প্রশ্নের উত্তর সংগ্রেহের কাজ শুরু হলে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার প্রতিক্রিয়া জমা পড়ে। পারফর্মিং আর্টস ইউনিয়ন ‘ইকুইটি’ এই পরামর্শ প্রক্রিয়া বর্জন করে একে সীমিত বলে আখ্যা দেয় এবং মিডিয়া রিফর্ম কোয়ালিশন একটি বিকল্প গ্রিন পেপার সামনে আনে। অন্যদিকে বিবিসি সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপনী মডেল প্রত্যাখ্যান করে ২০১৪ সালের আগের মতো ওয়ার্ল্ড সার্ভিস তহবিলের পুরো দায়িত্ব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

সংস্কৃতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সামনে নীতি নির্ধারক ও প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন পরামর্শ দেন। তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ইউটিউবভিত্তিক আলোচিত গোষ্ঠী ‘সাইডমেন’-এর ব্যবস্থাপক জর্ডান সোয়ার্জেনবার্গ যুক্তি দেন যে তরুণরা আরও বাস্তবধর্মী বিষয়বস্তু চায়। অন্যদিকে নতুন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাবলিক সার্ভিস মিডিয়ার স্থান ধরে রাখতে ইউটিউব ও এআই প্ল্যাটফর্মের ওপর সরকারি প্রভাব কিংবা নিজস্ব অ্যালগরিদম তৈরির বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাইরে থেকে দেখতে পাবলিক কনসালটেশন বা ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া মনে হলেও ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে চার্টারের চূড়ান্ত রূপ দেয় কেবল হাতেগোনা কয়েকজন লোক। মিডিয়া গবেষক টম চিলভার্স মনে করেন, প্রাথমিক জনসচেতনতামূলক আলোচনাগুলো আড়ালে চলে যায় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংস্কৃতি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী নিজেই।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে মূলত তিনটি ভাবধারা কাজ করছে। প্রথম দল বা ‘কাস্টোডিয়ান’রা চায় বিবিসির সার্বজনীনতা ও বর্তমান রূপ বজায় থাকুক। দ্বিতীয় দল বা ‘শ্রিঙ্কার’রা মনে করে বিবিসির কারণে বেসরকারি বাণিজ্যিক মিডিয়াগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে, তাই কেবল সরকারি সংবাদ ও শিশুতোষ অনুষ্ঠানে বিবিসির কাজ সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তৃতীয় দলটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠনের পক্ষে। গোপনীয় এই দর কষাকষির মধ্য দিয়েই চূড়ান্ত হবে শতবর্ষী এই সম্প্রচারমাধ্যমের আগামী দিনের ভাগ্য।

সূত্র: The Guardian – The Long Read

0
0 comments·0 shares
PHOTO CARD

Share this post visually

PothikTVPothikTV विश्व

বিবিসির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে রয়্যাল চার্টার নবায়নের গোপন ও জটিল প্রক্রিয়া শুরু

প্রতি এক দশকে যুক্তরাজ্যের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ সমঝোতায় বসতে হয়। ২০২৭ সালের পর সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।