মাঠে দ্যুতি হারাচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এল ক্লাসিকো মিস ও পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগে রিয়াল মাদ্রিদ
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লাল কার্ড ও লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পর মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের ছায়া হয়ে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

Sports ডেস্ক: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
গত ১০ অক্টোবর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে চমৎকার পারফর্ম করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুটি আকর্ষণীয় ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দিয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটিও করেছিলেন তিনি। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পরীক্ষা করে সেই গোল বাতিল করা হয় এবং ভিনিসিয়ুসকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। গোল হওয়ার আগে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনে দেওয়ার অপরাধে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁকে এ শাস্তি দেওয়া হয়, যা পরে লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।
ওই অনভিপ্রেত ঘটনার পর থেকেই মাঠের ফুটবলে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা উইঙ্গার। নিষেধাজ্ঞার দরুন গত রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান তিনি। এমনকি আগামী ২৫ অক্টোবর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠেয় মর্যাদাপূর্ণ ‘এল ক্লাসিকো’তেও মাঠে নামতে পারছেন না ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
ঘরোয়া লিগে নিষিদ্ধ থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচের মূল একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। তবে মাঠে ৭০ মিনিট অবস্থান করলেও একবারের জন্যও ড্রিবলিংয়ের কোনো প্রয়াস চালাননি তিনি। বিশ্ব ফুটবলে স্বভাবজাত ও আক্রমণাত্মক ড্রিবলার হিসেবে পরিচিত এক খেলোয়াড়ের পক্ষে এমন নীরব ভূমিকা চরম বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ১৪ অক্টোবর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অপর ম্যাচে রোমার বিপক্ষেও একই ধরনের নিষ্প্রভতা দেখা যায় তাঁর খেলায়। রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে যখন তাঁকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়, তখন তাঁর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল যেন মাঠ ছাড়তে পারলেই তিনি স্বস্তি পান। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের এই দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের কোনো ডিফেন্ডারকে চ্যালেঞ্জ জানাননি তিনি।
যে খেলোয়াড়ের মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকত এবং যেকোনো রক্ষণভাগকে চ্যালেঞ্জ জানানো যাঁর সহজাত অভ্যাস ছিল, সেই ভিনিসিয়ুসকে পুরোটা সময়ই বেশ বিষণ্ন দেখা গেছে। গত বুধবার লাইপজিগের রাইট-ব্যাককে একবারও পরাস্ত করতে না পারায় তাঁর খেলানো প্রান্ত দিয়ে রিয়ালের আক্রমণই ওঠেনি। অন্যদিকে তাঁর বদলে মাঠে নেমে তরুণ তারকা ইয়ান দিওমান্দে আক্রমণের জোয়ার তুলছেন।
নিজের প্রিয় শিষ্য ও দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের এমন করুণ ও ম্রিয়মাণ পরিস্থিতি দেখে মন খারাপ রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর। শিষ্যের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে মরিনহো জানান, তিনি যদি ভেতরে ভেতরে দুঃখী হয়ে থাকেন তবে তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং নিজের মনের অবস্থা কেবল ভিনিসিয়ুস নিজেই প্রকাশ করতে পারবেন। তবে কোচ হিসেবে ভিনির কাছে প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকলেও দলের জন্য সে যতটুকু খেলেছে তাতেই তিনি সন্তুষ্ট।






