মীর রেজা হত্যা মামলা: যৌথ তদন্ত দল গঠন, পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ
করাচির আলোচিত মীর রেজা হত্যা মামলার তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার।

World ডেস্ক: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
করাচির আলোচিত মীর রেজা হত্যা মামলার তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি যৌথ তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করেছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রাদেশিক সরকার। পাশাপাশি এই মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা বিস্তারিত পর্যালোচনা করার জন্য পৃথক বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ধু সরকারের এক স্মারকপত্র অনুযায়ী, গঠিত যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডিআইজি ইরফান বালুচ। এই তদন্ত দলে পাকিস্তানের সংবেদনশীল গোয়েন্দা সংস্থা, পাকিস্তান রেঞ্জার্স সিন্ধু এবং ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সিন্ধু সরকার জেআইটিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ১৮তম গ্রেড বা তার উপরের কর্মকর্তা মনোনীত করার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব দফতর ও সংস্থায় ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগীয় কমিশনের পর্যবেক্ষণ এবং মন্ত্রিসভার উপকমিটির সুপারিশের আলোকেও স্বরাষ্ট্র বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মামলায় নাম থাকা পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিন্ধুর আইজিকে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সিন্ধু স্বরাষ্ট্র বিভাগ। একই সাথে স্বাস্থ্য সচিবকেও একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার উপকমিটি ডা. ওসামা শেখকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার এবং তাঁকে দুই বছরের প্রশিক্ষণে পাঠানোর সুপারিশ করেছে।
বিচার বিভাগীয় কমিশনের সুপারিশক্রমে আরও গভীর তদন্তের লক্ষ্যে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে সিন্ধু সরকার দেশটির ফেডারেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে এফআইএর গ্রেড ২০ বা তার উপরের কোনো কর্মকর্তাকে ওই কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করার অনুরোধ জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত এই কমিটিতে ডিআইজি ইরফান আলী বালুচ এবং ডিআইজি নাঈম আহমেদ শেখও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বিচার বিভাগীয় কমিশন তাঁর পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, ডা. ওসামা শেখের আচরণ অত্যন্ত শিশুসুলভ ও অপেশাদার ছিল।
অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের ভূমিকা স্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনার জন্য অতিরিক্ত আইজি সিটিডি জুলফিকার আলী লাড়কের সমন্বয়ে এক সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিচার বিভাগীয় কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ভূমিকা খতিয়ে দেখবে। নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ডিআইজি ওয়েস্ট ইরফান আলী বালুচ এই কমিটিকে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করবেন।
কমিটি পরিচালনার জন্য চারটি নির্দিষ্ট কার্যপরিধি (টিওআর) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, বিচার বিভাগীয় কমিশনের প্রতিবেদনে নাম থাকা প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা এবং তাঁদের দক্ষতা ও কাজের পারফরম্যান্স নির্ধারণ করা। দ্বিতীয়ত, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সামগ্রিক পুলিশিং পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা।
তৃতীয়ত, ঘটনাস্থলে আগুন লাগার ঘটনার পেছনে পরিদর্শক গাউসের কী ভূমিকা ছিল তা আরও গভীরভাবে তদন্ত করা। চতুর্থত, নাম থাকা প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যের বিষয়ে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত এবং সুপারিশমালা সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সিন্ধুর আইজির কাছে জমা দেওয়া।






