ব্যবসা ডেস্ক: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
লন্ডন ফ্যাশন উইক শুরু হওয়ার প্রাক্কালে যুক্তরাজ্যের পোশাক শিল্প ও উৎপাদন খাত সুরক্ষায় এক ব্যতিক্রমী দাবি তুলে ধরেছে ফ্যাশন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘ফ্যাশন রাউন্ডটেবিল’। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) কর্মীদের ব্যবহারের পোশাক দেশের ভেতরেই প্রস্তুত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
চলতি বুধবার বিকেলে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি হস্তান্তর করবে সংস্থাটি। চিঠিতে অ্যাডভেঞ্চারার বেন ফোগল এবং ‘দ্য গ্রেট ব্রিটিশ সেউয়িং বি’-এর উপস্থাপক প্যাট্রিক গ্রান্টসহ ১,২০০-এরও বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। তারা মনে করেন, সরকারি এই ক্রয়াদেশ স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের প্রদান করা হলে তা যুক্তরাজ্যের নিজস্ব শিল্প খাত পুনরুজ্জীবিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ফ্যাশন রাউন্ডটেবিলের অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এনএইচএস এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মিলে পোশাক তৈরিতে বছরে প্রায় ১২ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে। বর্তমানে এসব ইউনিফর্মের প্রায় ৫৫ শতাংশই বিদেশে তৈরি হয়ে থাকে। সংস্থাটি বলছে, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি অভ্যন্তরীণ টেক্সটাইল তৈরি প্রতিষ্ঠানে প্রদান করা হলে তা দেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সবচেয়ে বড় সহায়কের কাজ করবে।
দেশীয় উৎপাদনের সুফল ইতিপূর্বেও দেখা গেছে। কোভিড মহামারীর সময় পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) কেনার ক্ষেত্রে প্রায় ১,০০০ কোটি পাউন্ড অপচয় হয়েছিল, যার বেশিরভাগই চীন থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এর বিপরীতে স্কটল্যান্ড ২০২১ সালে তাদের ১০ কোটি ২৭ লাখ পাউন্ড মূল্যের পিপিই চাহিদার ৮৮ শতাংশই দেশীয়ভাবে তৈরি করে, যা অতিরিক্ত ৬ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড অর্থনৈতিক মূল্য যুক্ত করার পাশাপাশি ১,৪০০ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছিল।
উৎপাদনকারী সংগঠন ‘মেক ইট ব্রিটিশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা কেট হিলস জানিয়েছেন, এ ধরণের সরকারি চুক্তি দেশীয় কারখানাগুলোকে স্বস্তি দেবে। ফলে তারা প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ের বদলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও অধিক লোক নিয়োগে সাহস পাবে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৪১ সালে পাস হওয়া ‘বেরি সংশোধনীর’ কারণে সামরিক বাহিনীর ইউনিফর্ম দেশের ভেতরেই উৎপাদন করা বাধ্যতামূলক, যা ২০২৫ সালে প্রায় ১৬২ কোটি ডলারের বাজারে পরিণত হয়েছে।
কেট হিলস আরও আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ব্যক্তিগত পছন্দও যুক্তরাজ্যের তৈরি পোশাকের পক্ষে। লেবার পার্টির এই নেতা ইতোপূর্বে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, কম খরচের বিদেশি পণ্যের বদলে সরকারি ক্রয়ে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। ম্যানচেস্টার ভিত্তিক ব্র্যান্ড ‘প্রাইভেট হোয়াইট ভিসি’ থেকে স্যুট কেনার উদাহরণ টেনে কেট বলেন, হয়তো তিনি সেই প্রধানমন্ত্রী যিনি দেশীয় পণ্যের সঠিক মূল্যায়ন করবেন।
অন্যদিকে ব্ল্যাকবার্ন ভিত্তিক সামরিক পোশাক প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘কুকসন অ্যান্ড ক্লেগ’-এর বিনিয়োগকারী প্যাট্রিক গ্রান্ট জানান, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর জন্য ২০০৯ সালের পর থেকে তাদের পোশাক তৈরির চুক্তি বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, টেক্সটাইল শিল্প টিকিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদী চাহিদার স্থিতিশীল ব্যবসা প্রয়োজন, যা সরকারি চুক্তিই দিতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে চুক্তি পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল, যা ছোট প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরিচালনা করা কঠিন।
যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর পোশাক চীনে তৈরি হওয়া নিয়েও জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জুলাই মাসে কনজারভেটিভ নেতা ইয়ান ডানকান স্মিথ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। প্যাট্রিক গ্রান্টও সতর্ক করে বলেন, অস্থিতিশীল সম্পর্কের দেশে সামরিক পোশাক তৈরি হলে ভবিষ্যতে কোনো সংকট দেখা দিলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে কর্মসংস্থান সুরক্ষায় এখনই এ ধরণের দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

