POTHIKTV

রবার্ট প্যাটিনসনের নতুন ছবি ও বিতর্কিত : পেডোফাইল শিকারের খবর যেভাবে বিনোদনে পরিণত হয়েছিল

২০০০-এর দশকের বিতর্কিত টিভি শো 'টু ক্যাচ আ প্রেডেটর' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে 'প্রাইমটাইম'। রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত এই ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক ও আইনি অসন্তোষ।

রবার্ট প্যাটিনসনের নতুন ছবি ও বিতর্কিত : পেডোফাইল শিকারের খবর যেভাবে বিনোদনে পরিণত হয়েছিল

Entertainment ডেস্ক: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন

ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের এক ব্যক্তি ১৩ বছরের এক নাবালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে একটি বাড়িতে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে ঢোকার পর তার মুখোমুখি হন সাংবাদিক ক্রিস হ্যানসেন। ধরা পড়ে যাওয়ার পর হ্যানসেন যখন তাকে জিজ্ঞেস করেন তার কী পরিণতি হওয়া উচিত, তখন লোকটি উত্তর দেন, “ইলেকট্রিক চেয়ার?” হ্যানসেন সোজাসুজি উত্তর দেন, “না, ডেটলাইন এনবিসি।” রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত এবং ল্যান্স ওপেনহাইম পরিচালিত নতুন মার্কিন চলচ্চিত্র ‘প্রাইমটাইম’-এর সূচনা দৃশ্য এটি। এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি যুক্তরাজ্যে মুক্তি পাবে ৩০ অক্টোবর।

২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানের আগে আমেরিকান টেলিভিশন রেটিংয়ের লড়াইয়ে ‘ডেটলাইন এনবিসি’-র শো ‘টু ক্যাচ আ প্রেডেটর’ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এতে ইন্টারনেটে নাবালিকাদের যৌন শোষণের চেষ্টা করা পুরুষদের ফাঁদে ফেলা হতো। ‘পারভার্টেড জাস্টিস’ নামক একটি নাগরিক নজরদারি সংস্থার সেচ্ছাসেবকরা ভুয়া পরিচয় দিয়ে চ্যাটরুমে প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং ভুয়া বাড়িতে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করত। সেখানে পে পৌঁছানো মাত্রই হ্যানসেন ক্যামেরার সামনে তাদের মুখোমুখি হতেন এবং বাইরে ওত পেতে থাকা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করত। ২০০৬-০৭ মৌসুমে এই শোর প্রতিটি পর্ব গড়ে প্রায় ৭০ লাখ দর্শক দেখত এবং ক্রিস হ্যানসেন তারকা বনে যান।

চলচ্চিত্রটিতে সাংবাদিক ক্রিস হ্যানসেনের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন দ্য ব্যাটম্যান খ্যাত অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন। ছবিতে প্যাটিনসনের একটি সংলাপ পুরো কাহিনির মূল বক্তব্যকে তুলে ধরে: “একসময় প্রতিটি গ্রামেই শাস্তিদণ্ড দেওয়ার মঞ্চ থাকত। আর এখন প্রতিটি বসার ঘরে টেলিভিশন রয়েছে।” তবে বর্তমানে ৬৭ বছর বয়সী আসল ক্রিস হ্যানসেন ছবিটি না দেখেই এটিকে তার ওপর এক ধরনের “অপমান” এবং “পরিচয় চুরি” বলে মন্তব্য করেছেন।

চলচ্চিত্রটিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় আরও তীব্র হয়েছে ‘পারভার্টেড জাস্টিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা জাভিয়ার ভন এরকের প্রতিক্রিয়ায়। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, চলচ্চিত্রটিতে তার সংস্থা এবং তাকে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের সরবরাহ করা প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া দণ্ডাদেশ কোনো আদালতেই খারিজ হয়নি এবং তারা শতভাগ আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে কাজ করেছেন। ছবিটিতে তার নাম এবং চরিত্র ব্যবহারে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শোটির অতীতের বিতর্কও আবারও সামনে এসেছে। ২০০৬ সালে টেক্সাসের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি বিল কনরাডট পেডোফাইল স্টিং অপারেশনের মুখে পড়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার পর চ্যানেলটির বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে শোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ডকুমেন্টারি নির্মাতা ডেভিড ওসিটের মতে, এই শোটির সফলতা মানুষের এক ধরনের দেখার মানসিকতা বা ভয়ারিজমের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল। সুরক্ষিত স্থানে বসে অন্যের জীবনের সবচেয়ে বাজে মুহূর্তটি দেখার যে মানসিক প্রবণতা, তাতেই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছিল এই ধরনের ভিলিজ্যান্ট ইনভেস্টিগেশন। তবে এর পেছনে সামাজিক দায়িত্ব ও নৈতিক সীমানা লঙ্ঘনের বিষয়টি আজও বিতর্কিত।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Film
1
0 comments·0 shares