ইংল্যান্ডের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পুরো অর্থ নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর আগে বেতন বৃদ্ধির একটি বড় অংশ স্কুলগুলোর বিদ্যমান বাজেট থেকে কাটার পরিকল্পনা করা হলেও তীব্র চাপের মুখে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। দেশের বৃহত্তম শিক্ষা ইউনিয়ন ন্যাশনাল এডুকেশন ইউনিয়ন (এনইইউ) সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ঘোষিত বেতন প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি মাস থেকে শিক্ষকদের বেতন ৩.৫ শতাংশ বাড়বে এবং আগামী বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বর্ধিত বেতনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ স্কুলগুলোকে তাদের নিজস্ব বাজেট থেকে সংস্থান করতে হতো। ফলে এনইইউ সদস্যরা আগামী মাসে দেশব্যাপী ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল একটি চিঠির মাধ্যমে জানান যে, বেতন বৃদ্ধির পুরো খরচ এখন সরকারই বহন করবে।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লোকাল গভর্নমেন্ট পেনশন স্কিমের সাম্প্রতিক পুনঃমূল্যায়ন থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করে বেতন বৃদ্ধির এই বাড়তি খরচ মেটানো হবে। এর ফলে পেনশন স্কিমে নিয়োগকর্তার অবদানের হার ৪.৯ শতাংশ পয়েন্ট কমবে, যা সাপোর্ট স্টাফদের বেতন বিলে স্কুলগুলোর উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করবে। সরকার নিশ্চিত করেছে যে এই সাশ্রয়কৃত অর্থ ফেরত নেওয়া হবে না, যার ফলে স্কুলগুলো জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির খরচ অনায়াসে মেটাতে পারবে।
এনইইউ-এর সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল কেবেডে সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এর মাধ্যমে চলতি বছর স্কুলগুলোর প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থ সাশ্রয় হবে, যা অন্যথায় বেতন বাড়াতেই খরচ হয়ে যেত। তিনি আরও বলেন, স্কুলগুলোর প্রায় ৪৬ কোটি পাউন্ডের ঘাটতি পূরণের এই সিদ্ধান্ত পুরো শিক্ষা সম্প্রদায়ের জন্য এক নতুন আশার বাণী এবং অবশেষে একটি সরকার বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির আগে পরিচালিত এক জরিপে এনইইউ-এর ৯৭ শতাংশ সদস্য জানিয়েছিলেন যে, বেতন বৃদ্ধির ১.১ শতাংশ ঘাটতি স্কুলগুলোকে মেটাতে হওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। পাশাপাশি ৮৯ শতাংশ সদস্য বেতন বৃদ্ধির পূর্ণ তহবিলের দাবিতে ধর্মঘটে অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন। তবে নতুন এই তহবিলের ঘোষণার পর সরকার আশা করছে, আগামী অক্টোবরে প্রস্তাবিত ধর্মঘটের ভোটাভুটি থেকে ইউনিয়ন পিছিয়ে আসবে এবং স্কুল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
ইনস্টিটিউট ফর ফিসক্যাল স্টাডিজ (আইএফএস)-এর রিসার্চ ফেলো লুক সিবিয়েটা জানিয়েছেন, সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোর তহবিলে প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড যুক্ত হবে, যা তাদের স্থায়ী অর্থায়নে প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। অন্যান্য বরাদ্দ বৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে আগামী বছর থেকে স্কুলগুলো তাদের পূর্বপ্রত্যাশিত বাজেটের তুলনায় মোট ১৬০ কোটি পাউন্ড বেশি সুবিধা পাবে।
শিক্ষামন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ, কর্মক্ষেত্রে তাদের ধরে রাখা এবং শিক্ষক সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এনএএসইউডব্লিউটি (NASUWT) শিক্ষক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ম্যাট র্যাকও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে, অবশেষে সরকার তাদের তোলা দাবির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে।

