POTHIKTV

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মুখ খুললেন শিক্ষক আসিফ ইকবাল খোকন

‎ ‎ ‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মুখ খুললেন শিক্ষক আসিফ ইকবাল খোকন ‎ ‎‘প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ নয়, সত্যতা যাচাই করেই তথ্য প্রচার করুন’—সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান ‎ ‎ ‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, অবৈধ বালু ব্যবসা, সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রচারিত পোস্ট, স্ক্রিনশট ও বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার […]

‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মুখ খুললেন শিক্ষক আসিফ ইকবাল খোকন

‎
‎
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মুখ খুললেন শিক্ষক আসিফ ইকবাল খোকন
‎
‎‘প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ নয়, সত্যতা যাচাই করেই তথ্য প্রচার করুন’—সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান
‎
‎
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, অবৈধ বালু ব্যবসা, সাংবাদিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রচারিত পোস্ট, স্ক্রিনশট ও বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আসিফ ইকবাল খোকন। এসব অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
‎
‎আসিফ ইকবাল খোকনের অভিযোগ, একটি মহল ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং তাঁকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্ত শেষে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপরও পুরোনো অভিযোগ ও বিভিন্ন স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
‎
‎রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও স্ক্রিনশট প্রচারের বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, ২০০৮ সালে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মচারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে ওই চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে ২০১৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন।
‎
‎তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের পদ-পদবি কিংবা সদস্যপদে থাকার অভিযোগের পক্ষে কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবেন না।
‎
‎তাঁর ভাষ্য, “আমাকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কিংবা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব দাবির পক্ষে প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। প্রমাণ ছাড়া কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ে অভিযুক্ত করে সামাজিকভাবে হেয় করা অনুচিত।”
‎
‎প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য
‎আসিফ ইকবাল খোকন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস, জুলাই আন্দোলনকারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত বিষয় এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে একটি স্মারকলিপি প্রচার করা হয়েছিল।
‎
‎তাঁর দাবি, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্তে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
‎তিনি আরও বলেন, ওই স্মারকলিপিতে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্থগিত এমপিও বা বেতন চালুর দাবিও জানানো হয়েছিল।
‎
‎পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই প্রধান শিক্ষককে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
‎এ প্রসঙ্গে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, “যেসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে এবং তদন্ত শেষে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে আমি দাবি করছি, সেসব বিষয় আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা দুঃখজনক। কোনো অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।”
‎
‎অবৈধ বালু ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান
‎সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে আসিফ ইকবাল খোকন এ অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, কোনো অবৈধ বালুমহাল বা বালু ব্যবসার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। বরং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালু ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি অতীতেও প্রতিবাদ করেছেন, বর্তমানে করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন।
‎
‎তাঁর ভাষ্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় বিভ্রান্তিকর প্রচারণার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
‎
‎বাবা-চাচার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি নিয়ে যা বললেন
‎নিজের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহের উদ্দিন এবং চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাকিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
‎আসিফ ইকবাল খোকনের দাবি, তাঁর বাবা ও চাচার মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত স্বীকৃতি নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের বিষয় সামনে আসার পর তাঁরা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) আপিল করেন। পরবর্তী সময়ে শুনানি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হন বলে তিনি জানান। বর্তমানে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
‎
‎এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “সরকারি প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সিদ্ধান্ত ও স্বীকৃতির বিষয়টি যাচাই করা উচিত।”
‎সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ
‎সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ ইকবাল খোকন জানান, অরুয়াইল থেকে সরকারি ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত পাক্ষিক ‘আলোর সারথি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির সম্পাদক তাঁর চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাকিম এবং প্রকাশক তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহের উদ্দিন।
‎
‎তাঁর দাবি, পত্রিকাটির প্রকাশনা, সম্পাদনা কিংবা সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে তদন্তেও তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত একটি ঘোষণাও তাঁর ফেসবুক আইডিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
‎
‎সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরলেন
‎নিজের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
‎
‎তিনি জানান, Daily Sun, The Asian Age, The Daily Star, Jago News24, The Bangladesh Today ও RisingBDসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘Asif Iqbal Khokon’ লিখেন। গুগলে অনুসন্ধান করলে এসব প্রতিবেদন সম্পর্কে তথ্য ও লিংক পাওয়া যেতে পারে।
‎
‎অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান, প্রয়োজনে তদন্ত দাবি
‎সবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে আসিফ ইকবাল খোকন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করা উচিত।
‎
‎যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো পোস্ট, স্ক্রিনশট কিংবা বক্তব্য ছড়িয়ে দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং একজন মানুষের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
‎তিনি তাঁর বিরুদ্ধে চলমান কথিত অপপ্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যথাযথ তদন্তেরও দাবি জানান।
‎
‎আসিফ ইকবাল খোকনের বক্তব্য, “আমি সত্যের পক্ষে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার আমাকে আমার নীতি ও অবস্থান থেকে সরাতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”
‎
‎

0
0 comments·1 share