সৌদি আরবে এক সপ্তাহে সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার, সাত হাজারের বেশি বহিষ্কার
সৌদি আরবে এক সপ্তাহের অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় আট হাজার প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

World ডেস্ক: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
সৌদি আরবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত অভিযানে মাত্র এক সপ্তাহে ১৩ হাজার ৯০৫ জন অবৈধ প্রবাসী ও আইন লঙ্ঘনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত থাকার কারণে ৭ হাজার ৯৩৪ জন বিদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত বা ডিপোর্ট করা হয়েছে।
সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চিহ্নিত অপরাধের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪টি ছিল আবাসন বা আকামা আইন সংক্রান্ত, ৩ হাজার ৮৬৫টি সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত এবং ৩ হাজার ৪৮৬টি শ্রম আইন লঙ্ঘনের ঘটনা। বিভিন্ন স্থান থেকে নিরাপত্তা বাহিনী এদের আটক করে।
সীমান্ত পারাপারের সময় অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে এক হাজার ৮৮১ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
একইভাবে সৌদি আরব থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী কোনো দেশে বেআইনিভাবে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও আইন লঙ্ঘনকারীদের কোনোভাবে সাহায্য করার অভিযোগে ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা এসব ব্যক্তিদের পরিবহন, থাকার জায়গা, কর্মসংস্থান বা আশ্রয় সুবিধা দেওয়ার সাথে জড়িত ছিলেন।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভ্রমণ, বাসস্থান কিংবা কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেউ যদি কোনো অবৈধ ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারীকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে বা থাকতে সহায়তা করে, তবে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি এই জাতীয় অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। একই সাথে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।






