৭৯ বছর বয়সে মারা গেলেন ‘রোজ ট্যাটু’ ব্যান্ডের বিখ্যাত গায়ক অ্যাংরি অ্যান্ডারসন
জার্মানিতে সফররত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রক ব্যান্ড 'রোজ ট্যাটু'-র প্রধান গায়ক অ্যাংরি অ্যান্ডারসন।

Entertainment ডেস্ক: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
জার্মানিতে মিউজিক ট্যুর বা গান পরিবেশন সফর চলাকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় রক ব্যান্ড ‘রোজ ট্যাটু’-র প্রধান গায়ক, গীতিকার, অভিনেতা ও সামাজিক সংগঠক গ্যাঁরি ‘অ্যাংরি’ অ্যান্ডারসন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। পাঁচ দশক ধরে নিজের ব্যান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া এই সংগীতশিল্পী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মেলবোর্নে বেড়ে ওঠার সময় গ্যারি অ্যান্ডারসন প্রথমে ‘ভিজিল্যান্টিস’ নামক একটি মোটরসাইকেল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। সেখানে তাঁর খাটো শারীরিক গঠনের জন্য প্রথমে ‘মাউস’ এবং পরে ‘অ্যাংরি অ্যান্ট’ ডাকনাম দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সংক্ষেপে ‘অ্যাংরি’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৭৬ সালে সিডনিতে গঠিত ব্যান্ড ‘রোজ ট্যাটু’-তে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ‘বাস্টার ব্রাউন’ নামের একটি ব্লুজ ব্যান্ডে গান গাইতেন, যেখানে এসি/ডিসির ড্রামার ফিল রুডও যুক্ত ছিলেন।
১৯৭৮ সালে ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘রোজ ট্যাটু’ প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ‘ব্যাড বয় ফর লাভ’ এবং ‘রক অ্যান্ড রোল আউটল’ গান দুটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ব্যান্ডের স্লাইড গিটারিস্ট পিটার ওয়েলসের সুরের সাথে অ্যান্ডারসনের কণ্ঠ অস্ট্রেলিয়ার রক সংগীতের ধারায় আলাদা মাত্রা যোগ করে। তবে টেলিভিশন শোতে বিতর্ক ও রেডিওর অনাগ্রহের কারণে শুরুতে স্থানীয় বাজারে কিছু বাধা পেলেও ১৯৮১ সালে ব্যান্ডটির অ্যালবাম যুক্তরাজ্যের হেভি মেটাল চার্টের শীর্ষে উঠে আসে।
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও পরিচিতি পান অ্যান্ডারসন। ১৯৮৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যাড ম্যাক্স বিয়ন্ড থান্ডারডোম’ চলচ্চিত্রে ‘আইরনবার বাসেই’ চরিত্রে তিনি অভিনয় করেন। এছাড়া যুবকদের কল্যাণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে নানা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
১৯৮৭ সালে অ্যান্ডারসনের একক গান ‘সাডেনলি’ অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যে বিশাল সাফল্য পায়। তৎকালীন জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘নেইবারস’-এ স্কট ও চার্লিনের বিয়ের দৃশ্যে গানটি ব্যবহার করা হয়েছিল। গানটি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় চার্টে ২ নম্বরে এবং যুক্তরাজ্যে ৩ নম্বরে পৌঁছায়। ১৯৯১ সালে এএফএল গ্র্যান্ড ফাইনালে তিনি গান পরিবেশন করেন এবং ১৯৯৩ সালে তাঁকে ‘অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ২০০৬ সালে ‘রোজ ট্যাটু’ অরিয়া (ARIA) হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হয়।
জীবনের শেষভাগে অ্যান্ডারসন দাতব্য কাজ ও টেলিভিশনের পাশাপাশি রাজনীতির সাথেও যুক্ত হন। ২০১২ সালে এসবিএসের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি ২০১৩ সালের অস্ট্রেলীয় সাধারণ নির্বাচনে থ্রোসবি আসন থেকে ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান লিবার্টি অ্যালায়েন্সে যোগ দেন।
অ্যান্ডারসনের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নানা ট্র্যাজেডিতে ভরা। শৈশবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তাঁর ব্যান্ডের পাঁচজন সদস্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ২০১৮ সালে তাঁর ছেলে লিয়াম নিহত হলে তিনি গভীর শোকের মুখোমুখি হন। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি গান ও তাঁর ব্যান্ডের চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন।
