চৌদ্দগ্রামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় নবজাতক বিক্রির অভিযোগ, ৪ ঘণ্টায় উদ্ধার; গ্রেপ্তার ৪
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের ২১ বছর বয়সী খাদিজা আক্তারের সঙ্গে […]
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে নবজাতককে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের অভিযানে মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের ২১ বছর বয়সী খাদিজা আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার ১৯ বছর বয়সী আবির হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবির তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে খাদিজা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রামের ‘প্রাইম’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে খাদিজা একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। এরপর নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ কাজে একটি চুক্তিপত্রও ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নজরে এলে তাঁর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চার ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম ও রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শিশুকে হস্তান্তরের চুক্তিপত্রটিও জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দ্রুত নবজাতককে উদ্ধার করায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তবে শিশুটিকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি এখন তদন্তের অপেক্ষায়।
