দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: শপথ অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় প্রতিফলন ঘটতে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া বিএনপি তাদের নতুন যাত্রার শুরুতেই দিল্লির সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া সম্পর্কে উষ্ণতা ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দলটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডব্লিউআইওএন’ (WION)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম স্তম্ভ হলো এই অঞ্চলকে বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো সেই সদিচ্ছারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ। যদিও সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তবুও বিএনপির পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক দ্বিপক্ষীয় বার্তার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটভূমি তৈরি হয়েছিল, এই আমন্ত্রণ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যে তারেক রহমানকে টেলিফোনে যে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন, তার প্রত্যুত্তরে এই আমন্ত্রণ দুই দেশের মধ্যে একটি ‘নতুন সূচনা’র ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হুমায়ুন কবিরের ভাষ্যমতে, কাউকে রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো মানেই হলো তার উপস্থিতির প্রত্যাশা করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো। এটি স্রেফ একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের বৃহত্তর কূটনৈতিক লক্ষ্যের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রগতিশীল পন্থা অনুসরণ করতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে সার্ক ও বিমসটেকের মতো বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
যদিও ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে কিছু উদ্বেগের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তবে সামগ্রিকভাবে দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো কাটিয়ে উঠে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে তাঁর কথায়।
প্রায় দুই দশক নির্বাসন ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমান এখন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের দ্বারপ্রান্তে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শপথগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকার বিশ্বমঞ্চে তাদের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থিতির জানান দিতে যাচ্ছে।

Responses