POTHIKTV

অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও ইতালি: এক পদযাত্রায় আল্পস পর্বতমালার তিন দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও ইতালির সীমান্ত ছুঁয়ে যাওয়া ৮ দিনের 'আলপ আদ্রিয়া' ট্রেইল পর্বতপ্রেমীদের দিচ্ছে ট্রিপল কান্ট্রি হাইকিংয়ের দারুণ সুযোগ।

অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও ইতালি: এক পদযাত্রায় আল্পস পর্বতমালার তিন দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা

Lifestyle ডেস্ক: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

ইউরোপের তিন দেশ—অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া ও ইতালি জুড়ে বিস্তৃত আল্পস পর্বতমালার মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও সংস্কৃতি উপভোগ করতে চালু রয়েছে ‘আলপ আদ্রিয়া’ হাইকিং ট্রেইল। ৮ দিনব্যাপী এই পদযাত্রায় পর্যটকরা একই সাথে তিন দেশের সীমান্ত অতিক্রম করে পাহাড়ি উপত্যকা, পাইন বন ও বৈচিত্র্যময় জনপদ ঘুরে দেখার সুযোগ পান।

পুরো আলপ আদ্রিয়া ট্রেইলটি মূলত ৩,৭৯৮ মিটার উঁচু অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত গ্রসগ্লকনারের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে আড্রিয়াটিক উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার (৪৬৬ মাইল) দীর্ঘ। তবে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সুবিধার্থে এই তিন দেশের সীমান্তে ১৩৫ কিলোমিটার (৮৪ মাইল) দৈর্ঘ্যের একটি লুপ বা চক্রাকার ট্রেইল তৈরি করা হয়েছে। এটি মাঝারি মানের একটি পদযাত্রা, যা প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৪ কিলোমিটার হেঁটে প্রায় এক সপ্তাহে সম্পন্ন করা সম্ভব।

যাত্রার শুরুতে পর্যটকরা অস্ট্রিয়ার কারিনথিয়া অঞ্চলের ফেইস্ট্রিটজ গ্রাম থেকে পদযাত্রা শুরু করেন। ফেইস্ট্রিটজের ১৫ শতকের গির্জা ছাড়িয়ে পাইন বনের মধ্য দিয়ে ওপরে উঠলেই দেখা মেলে ফেইস্ট্রিটজার আলমের আলপাইন তৃণভূমির। এখানেই অস্ট্রিয়া ও ইতালির সীমান্ত অবস্থান করছে, যা পর্যটকরা মুক্তভাবে অতিক্রম করতে পারেন।

ইতালির সীমান্তে প্রবেশের পর পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শান্ত ভ্যালব্রুনা গ্রামে পৌঁছান হাইকাররা। ভ্যালব্রুনার কাছেই জুফ ফুয়াত পর্বতশ্রেণী অবস্থিত, যার উচ্চতা ২,৬৬৬ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানে আল্পস পর্বতারোহণের অন্যতম পথিকৃৎ ইউলিয়াস কুগির স্মৃতি বিজড়িত নানা ইতিহাস ও বই সংগৃহীত রয়েছে।

ভ্যালব্রুনা থেকে পদযাত্রাটি সাইসেরা নদী পেরিয়ে ১৩৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাউন্ট লুসারির সানকচুয়ারিতে নিয়ে যায়। এটি মূলত পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি তীর্থস্থান ও গ্রাম। সেখান থেকে নেমে ইতালি অঞ্চলের তারভিজিও শহরে পৌঁছানো যায়, যা বিশেষ করে স্থানীয় জিলাটোরিয়া বা আইসক্রিমের দোকানের জন্য সুপরিচিত।

ট্রেইলের পরবর্তী ধাপে পর্যটকরা সেন্টিয়ারো দেল ওরসোর বনাঞ্চল অতিক্রম করে ফুসিন লেকে পৌঁছান। হিমবাহের গলিত জলে তৈরি এই দুটি জোড়া হ্রদের গাঢ় নীল-সবুজ পানি যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করে। হ্রদের পাশ কাটিয়ে হাইকাররা পৌঁছান প্রায় ১,৩৮০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত রিফুগিও জাকিতে, যা স্লোভেনিয়া সীমান্তের ভয়াল সুন্দর পাহাড়গুলো দিয়ে ঘেরা।

পরদিন ট্রেইলটি পর্যটকদের ইতালীয় সীমান্ত পার করে সবুজ সাভা উপত্যকা হয়ে স্লোভেনিয়ার ক্রানজস্কা গোরা শহরে নিয়ে যায়। এটি অ্যাডভেঞ্চার ও আউটডোর খেলাধুলার জন্য একটি পরিচিত স্থান।

স্লোভেনিয়া থেকে পুনরায় অস্ট্রিয়ায় ফেরার পথে কারাওয়াঙ্কে আল্পস অতিক্রম করতে হয়। এই পথের সবচেয়ে কঠিন ও সর্বোচ্চ বিন্দু হলো ১,৮৪২ মিটার উঁচু সোয়ার্জকোগেল পর্বত। সোয়ার্জকোগেল চূড়ায় পৌঁছালে দক্ষিণে স্লোভেনিয়ার পর্বতমালা এবং উত্তরে অস্ট্রিয়ার কারিনথিয়া অঞ্চলের নীল হ্রদ ও পাহাড়ের এক অভূতপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে। এই পর্বত চূড়ার শৈলশিরা বরাবর ছোট ছোট সাদা পাথরের তৈরি আন্তর্জাতিক সীমান্তচিহ্ন রয়েছে, যা হাইকাররা সহজেই অতিক্রম করতে পারেন।

শত শত বছর ধরে আল্পস পর্বতমালা ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বাধা হিসেবে বিবেচিত হলেও ‘আলপ আদ্রিয়া’ ট্রেইল বর্তমানে এই তিন দেশকে একসূত্রে গেঁথে পদব্রজে ভ্রমণের এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে। ওয়াকস ওয়ার্ল্ডওয়াইড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই ৮ দিনের আত্ম-পরিচালিত (সেলফ-গাইডেড) প্যাকেজে ভ্রমণ করার সুযোগ রয়েছে, যার খরচ শুরু হয় ৮৯৫ পাউন্ড থেকে।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Travel
0
0 comments·0 shares