আধুনিকতার উন্মাদনা: তেল আবিবের রাতের গল্প
ইসরাইল—আধুনিকতা ও ‘মুক্তচিন্তার’ নামে এক উন্মাদনা ও পাপের নগরী তেল আবিব, যেখানে রাত নামলে শুধু আলো নয়, জেগে ওঠে কামনার নগ্ন উদযাপন। সৈকতের নির্লজ্জ ‘নিউড বিচ’, বারে বারে মাতাল উল্লাস, আর প্রাইড প্যারেডের নাম করে সমাজের মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়—সবকিছু যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলে।
জুন মাসে আয়োজিত ‘টেল আভিভ প্রাইড প্যারেড’ আসলে এক ধরনের আত্মমগ্নতা আর অপসংস্কৃতির মহোৎসব। লাখো মানুষ এখানে শরীর, ইচ্ছা আর কামনাকে ‘অধিকার’ বানিয়ে রাস্তায় নামে, যেখানে ন্যূনতম শালীনতা বা নৈতিকতা দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র নিজে এই অনৈতিক উন্মাদনায় সহায়তা করে—হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবাই “প্রাইড ফ্রেন্ডলি” তকমা লাগিয়ে অর্থ কামানোর প্রতিযোগিতায় নামে।
এর চেয়েও ভয়াবহ সত্য হলো, এই সমাজের গর্বিত মুখোশের আড়ালে চলছে এক নৃশংস, রক্তাক্ত বাস্তবতা—গাজা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ছিল অতিরিক্ত হিংস্র, একেবারে বেসামরিক মানুষের ওপর গণহত্যার রূপ নিয়েছে। গাজার শিশু, নারী, বৃদ্ধ—কারও প্রাণ রক্ষা হয়নি।
৫৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে, আহত লক্ষাধিক। ইউনিসেফ বলছে, ৫০ হাজারের বেশি শিশু হয় নিহত, নয়তো চিরতরে পঙ্গু। প্রতিদিন কারও না কারও সন্তান রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে বালিতে। এটাই কি সভ্যতা? এটাই কি ‘নিরাপত্তার দাবি’?
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়—”সাহায্য কেন্দ্র” নামে যেসব জায়গায় মানুষ খাবার বা চিকিৎসা নিতে যায়, সেগুলোকেই টার্গেট করা হচ্ছে। Save the Children-এর মতে, শুধু গত এক মাসে ১৯টি হামলার মধ্যে ১০টিই শিশুদের ওপর হয়েছে। সাহায্য চাইতে গিয়ে মৃত্যু—এটা কি মানবতার শেষ রূপ নয়?
আর তেল আবিব? ওখানে তখন চলছে পার্টি, প্রাইড, পানশালার নতুন অফার আর ট্যুরিজম মার্কেটিং।
তেল আবিব আজ ‘গেইফিকেশন’ এর মাধ্যমে এমন এক সমাজ গড়ে তুলেছে, যেখানে পরিবার, ধর্ম, নৈতিকতা—সবকিছুই পুরনো ভেবে বাতিল। সেনাবাহিনী পর্যন্ত প্রাইড প্যারেডে অংশ নেয়—নির্বিকারভাবে নিজেদেরকে ‘মুক্তমনা’ প্রমাণ করার জন্য। কিন্তু এই মুক্তমনা সমাজই যখন শিশু হত্যা, ধ্বংস ও মানবতা লঙ্ঘনের প্রতিবাদে মুখে কুলুপ আঁটে—তখন এর নাম কী হওয়া উচিত?
তেল আবিব আজ একটি পাপের নগরী—যেখানে একদিকে কামনার উৎসব, অন্যদিকে নিষ্পাপ মানুষের রক্ত।
এই দ্বিচারিতা কি আমরা মেনে নেব?
ধর্মের নাম করে রাষ্ট্র গঠন, আর তারপরে সেই ধর্মকে পেছনে ফেলে শুধু ভোগের পুজো—এটাই কি ‘উন্নত রাষ্ট্র’ হওয়ার প্রতিচ্ছবি?
জাতিসংঘ আর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শুধু উদ্বেগ জানিয়ে দায় সারছে। কাজের কাজ কিছুই হয় না।
আজ ইসরায়েল নিজেই বিচারক, নিজেই শাস্তিদাতা, আর মানবতা তার খেলনার মতো ব্যবহার করছে।
আমরা কি চুপচাপ তাকিয়ে থাকবো এই ভণ্ড, মূল্যবোধহীন, অসুস্থ সমাজের দিকে?
নাকি বলবো—এই যে আধুনিকতার মুখোশ পরা সভ্যতা, এর নিচে আছে বর্বরতা, নৈতিক দেউলিয়াপনা আর রক্তপিপাসা।
তেল আবিবের আলো আজ ঘন অন্ধকার ঢেকে রেখেছে গাজার উপর।
আর সেই অন্ধকারে পড়ে আছে আমাদের বিবেক।
শেষ প্রশ্ন:
এই পৃথিবীতে উন্নয়ন মানেই কি ভোগ, নগ্নতা আর নির্মমতা?
মানবতা কি কেবল ফ্ল্যাশলাইটের মতো—যখন দরকার তখন জ্বলে, আর না হলে নিভে যায়?

Responses