POTHIKTV

উচ্চশিক্ষা ও ঋণের বোঝার মুখে যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েটরা, চাকরি কমছে দ্রুতগতিতে

যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থীদের গড়ে ৫৩ হাজার পাউন্ড ঋণের বোঝা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হচ্ছে, অথচ একই সময়ে প্রবেশ পর্যায়ের চাকরির সুযোগ ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

উচ্চশিক্ষা ও ঋণের বোঝার মুখে যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েটরা, চাকরি কমছে দ্রুতগতিতে

Education ডেস্ক: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার ব্যয় ও শিক্ষাঋণের বোঝা তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটরা গড়ে প্রায় ৫৩ হাজার পাউন্ড ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করছেন। তবে ঋণের অঙ্ক আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ মিলছে না।

শিক্ষার্থীর ঋণের সংস্কার ও ন্যায্যতার দাবিতে কাজ করা সংস্থা ‘রিসিংক রিপেমেন্ট’-এর তথ্যানুসারে, ৩৫ বছরের কম বয়সী তরুণদের একটি বড় অংশ এখনও বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমানে দেশটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি তরুণ এবং এক-পঞ্চমাংশের বেশি তরুণী নিজেদের পরিবারের সাথে থাকেন। স্বাস্থ্যগত সমস্যা বা বেকারত্ব ছাড়া এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অতিরিক্ত শিক্ষাঋণের চাপ।

কম আয়ের কারণে যারা ঋণ পরিশোধ শুরু করতে পারছেন না, তারা বাসার ভাড়া মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবার যাদের বার্ষিক আয় ২৫ হাজার পাউন্ড বা তার কাছাকাছি, তাদের আয়ের ৯ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধে চলে যাচ্ছে। এমনকি যাদের আয় ৫০ হাজার পাউন্ডের বেশি, উচ্চ কর এবং ঋণের কিস্তির কারণে তাদের আয়ের অর্ধেকেরও কম অংশ হাতে থাকছে।

বাড়ি বিক্রয়কারী বা ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ব্যক্তির বাসা ভাড়া দেওয়া বা বন্ধকি ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের সময় এই মাসিক কিস্তির অর্থ হিসাব করে থাকে। ফলে তরুণদের আবাসন সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ২৯ বছর বয়সী এক বাণিজ্যিক আইনজীবী জানান, যদি এই ঋণ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণদাতার কাছ থেকে নেওয়া হতো, তবে ভুক্তভোগীরা আইনি ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কারণ শিক্ষার্থীদের যে শর্তের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতির সাথে তার বড় ধরনের অমিল রয়েছে।

২০১২ সালে যখন যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ফি বাড়িয়ে ৯ হাজার পাউন্ড করা হয়েছিল, তখন সরকারের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। তবে সরকার মূল্যস্ফীতির হারের (আরপিআই) সাথে আরও ৩ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সুদ যুক্ত করে এই ঋণ পরিশোধের নিয়ম নির্ধারণ করে। বর্তমানে ১০ বছরেরও বেশি সময় পর এই ফি বেড়ে ৯,৭৯০ পাউন্ড হলেও তা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

২০০৯ সালের তুলনায় বর্তমানে গ্র্যাজুয়েটদের ঋণের বোঝা চার থেকে পাঁচ গুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত সুদের কারণে দীর্ঘ সময় কিস্তি পরিশোধের পরও মূল ঋণের পরিমাণ খুব একটা কমছে না। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে যে গত বছরের আগস্টের তুলনায় এ বছরের আগস্টে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রবেশ পর্যায়ের চাকরির সুযোগ ৪৫ শতাংশ কমে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বৃদ্ধিকে এর একটি কারণ হিসেবে দেখানো হলেও, নিয়োগকর্তারাও স্বল্পমেয়াদী খরচ বাঁচানোর কৌশল হিসেবে নতুন নিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছেন।

গ্র্যাজুয়েটদের উপার্জনের সক্ষমতা বাড়বে এবং ঋণ পরিশোধে বড় কোনো সমস্যা হবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমানে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনীতিকদের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Education
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।
0
0 comments·0 shares