POTHIKTV

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা বিতর্কে ইউরোপের ভূমিকা ও স্বাবলম্বী হওয়ার চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তি খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং এআই নিরাপত্তার বৈশ্বিক বিতর্কে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে লড়াই করছে ইউরোপ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা বিতর্কে ইউরোপের ভূমিকা ও স্বাবলম্বী হওয়ার চ্যালেঞ্জ

Technology ডেস্ক: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈশ্বিক বিতর্কে ইউরোপের অনুপস্থিতি এবং অঞ্চলটির প্রযুক্তিগত নির্ভরতা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে এ বিষয়ে দুটি স্পষ্ট বিকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপীয়দের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—প্রথমটি হলো এই প্রযুক্তি এড়িয়ে চলা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে পিছিয়ে পড়া; আর দ্বিতীয়টি হলো এটি গ্রহণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তৈরি বিভিন্ন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে তৈরি হওয়া সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিগুলো যদি সত্যি হয়, তবে ইউরোপ পিছিয়ে থাকলেও এর প্রভাব এড়াতে পারবে না। সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্ট গুগল, অ্যাপল কিংবা ওপেনএআই-এর মতো কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে না পারাই নিরাপত্তার মূল টেবিলে ইউরোপের অবস্থান দুর্বল করে তুলেছে। বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ন্ত্রণে ইউরোপের নীতিগত প্রভাব থাকলেও অ্যানথ্রোপিক বা এনভিডিয়ার মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠান না থাকায় তাদের কণ্ঠস্বর জোরালো হচ্ছে না।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা фон ডার লেইন সম্প্রতি জানিয়েছেন, ফ্রন্টিয়ার এআই ল্যাবগুলোর সাথে আলোচনা করে শিল্পের অগ্রগতি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা চীনের প্রযুক্তিগত অবস্থানের কারণে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সমর্থন ছাড়া বিশ্বব্যাপী এআই প্রযুক্তির গতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাগার্দে সোমবার এক বক্তব্যে ইউরোপের এই দুর্বলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা চীন থেকে যেকোনো সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার হুমকি এড়াতে ইউরোপের উচিত নিজস্ব এআই প্রযুক্তি ও ডেটাসেন্টার তৈরি করা। তিনি জানান, ইউরোপ যদি নিজের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে, তবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় আর থাকবে না এবং নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় ইউরোপ নিজস্ব সমাধান তৈরি করতে পারবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক প্রতিযোগিতা বিষয়ক কমিশনার মারগ্রেথ ভেস্টেগার এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা ‘এ ট্রান্সফরমেটিভ এআই স্ট্র্যাটেজি ফর ইউরোপ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটাসেন্টার নির্মাণ এবং কোনো শক্তিশালী এআই মডেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইইউ এআই অ্যাক্টের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর কিছু নিয়মকানুন করা হলেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপকে নিজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে প্রযুক্তি গবেষক ও নীতি বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সার্চ ইঞ্জিন, চিপস ও ডেটাসেন্টারের জন্য ইউরোপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। এআই নাও ইনস্টিটিউটের উপদেষ্টা ফ্রেডেরিক কালথিউনার জানান, সমস্ত অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাবলিক সেক্টর যদি অল্প কিছু মার্কিন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রিত অবকাঠামোর ওপর চলে, তবে তা ইউরোপের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় সংকট তৈরি করবে।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Technology
0
0 comments·0 shares
PHOTO CARD

Share this post visually

PothikTVPothikTV प्रौद्योगिकी

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা বিতর্কে ইউরোপের ভূমিকা ও স্বাবলম্বী হওয়ার চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তি খাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং এআই নিরাপত্তার বৈশ্বিক বিতর্কে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে লড়াই করছে ইউরোপ।