গর্ভপাতবিরোধী কড়া আইন এড়াতে পোল্যান্ডে চালু হলো ‘গর্ভপাত পিল লকার’

Editorial Transparency & Correction Notice
This report is published through the PothikTV editorial workflow. Sources, evidence, revisions and material corrections are documented where available.
No material correction has been recorded for this story.Health ডেস্ক: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
পোল্যান্ডের গর্ভপাতসংক্রান্ত অত্যন্ত কঠোর আইন এড়াতে এবং নারীদের দ্রুত ও গোপনে সেবা দিতে একটি অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির অধিকারকর্মীরা। ওয়ারশতে তারা চালু করেছেন “অ্যাবর্টওম্যাট” নামের একটি বিশেষ পার্সেল লকার, যাকে বিশ্বের প্রথম “গর্ভপাত পিল লকার” বলে দাবি করা হচ্ছে। এই গোলাপি রঙের লকারটিতে ২২টি কম্পার্টমেন্ট রয়েছে এবং এটি ছয় ডিজিটের একটি কোড ব্যবহার করে দ্রুত ওষুধ সংগ্রহের সুযোগ দেয়।
যেসব নারী স্বাস্থ্যগত জটিলতা বা মিসক্যারেজের কারণে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে পারেন না, কিংবা বাড়িতে এই ওষুধ আনাতে ভয় পান, তাদের জন্যই মূলত এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। উইমেন হেল্প উইমেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং অ্যাবর্শন ড্রিম টিমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কিঙ্গা জেলিনস্কা জানান, অন্তর্বাস বা প্রসাধনী যদি একদিনের মধ্যে পার্সেলে পাওয়া যেতে পারে, তবে জরুরি প্রয়োজনে গর্ভপাতের ওষুধ কেন পাওয়া যাবে না?
পোল্যান্ডে ২০১৮ সালের কঠোর গর্ভপাত আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ হয়েছিল, যা কমিউনিজম পতনের পর দেশটির বৃহত্তম আন্দোলন ছিল। ২০২৩ সালে ডোনাল্ড ট্রাস্ক ক্ষমতায় এসে ১০০ দিনের মধ্যে গর্ভপাত আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্ক স্পষ্ট করেছেন যে, গর্ভাবস্থার ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়ার মতো রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংসদে নেই।
তবে ট্রাস্কের সরকার একটি বিষয় ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যারা গর্ভপাতে সহায়তা করবে তাদের বিচারপ্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি করা হবে না। পোল্যান্ডের আইন অনুযায়ী নিজ ব্যবহারের জন্য গর্ভপাতের ওষুধ রাখা বা খাওয়া অবৈধ নয়। কিন্তু অন্য কাউকে এই ওষুধ সরবরাহ করা বা প্রাপ্তিতে সহায়তা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
অধিকারকর্মীদের মতে, লকার সার্ভিসটি এই আইনের একটি ফাঁক গলে কাজ করছে। কিঙ্গা জেলিনস্কা বলেন, আইন অনুযায়ী সরাসরি কারও হাতে ওষুধ তুলে দেওয়া অপরাধ। কিন্তু এখানে মানুষ এবং সেবাদাতার মাঝে একটি মেশিন বা লকার অবস্থান করায় বিষয়টি আইনিভাবে কিছুটা অস্পষ্ট বা জটিল রূপ নেয়, যা তাদের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে।
এই পার্সেল লকারটি অ্যাবর্শন ড্রিম টিমের পরিচালিত একটি গর্ভপাত সহায়তা কেন্দ্রের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে চালু হয়েছিল। পোল্যান্ডের পার্লামেন্ট ভবনের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থিত এই কেন্দ্রটিতে এসে নারীরা গর্ভপাত সম্পর্কিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে থাকেন।
কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর থেকে বিরোধী পক্ষগুলোর বিক্ষোভের মুখে পড়েছে। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন কেন্দ্রটির সামনে গুটিকয়েক গর্ভপাতবিরোধী আন্দোলনকারী সাইরেন ও ভুভুজেলা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।
অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, রাজনীতিকদের ওপর ভরসা না করে নারীদের নিজেদেরই নিজেদের অধিকারের ব্যবস্থা করতে হবে। গত বছর প্রায় ৫০ হাজার নারী সহায়তার জন্য তাদের নেটওয়ার্কে যোগাযোগ করেছেন। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা সত্ত্বেও তারা মাঠপর্যায়ে এই বিকল্প সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ
এই বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংবাদ
Health →Corroborating Sources & Evidence
Corrections & Audit Trail
Material changes and newsroom transparency notes associated with this report.
SEO & Schema.org
- Schema type
- NewsArticle
- Canonical URL
- https://pothiktv.com/%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%8f/
- Slug
- %e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ad%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a7%e0%a7%80-%e0%a6%95%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%87%e0%a6%a8-%e0%a6%8f






