POTHIKTV

পরামর্শ দেওয়ার সঠিক কৌশল: কম বলুন, শুনুন বেশি

অন্যকে পরামর্শ দেওয়ার আগে তারা আসলে কী চান তা বোঝা এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন মনস্তত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

পরামর্শ দেওয়ার সঠিক কৌশল: কম বলুন, শুনুন বেশি

Lifestyle ডেস্ক: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ন

p>কাউকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত সমাধান দেওয়ার বদলে মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা এবং তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা। দ্য গার্ডিয়ানের দীর্ঘদিনের পরামর্শবিষয়ক কলামিস্ট অ্যানালিসা বার্বিয়েরি ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ যখন কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলতে আসেন, অনেক সময়ই তারা কেবল নিজেদের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে চান। সব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পরামর্শের প্রয়োজন হয় না; কখনো কখনো মানুষ শুধু নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে বা অন্যের প্রতিক্রিয়া দেখতে চান।

কোট লেখক মাইকেল বাংগে স্ট্যানিয়ারের মতে, যখন কেউ কথা বলতে শুরু করেন, তখন অনেকের মধ্যেই সমস্যার সমাধানের তাগিদ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা জেগে ওঠে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে শুরুতেই পরামর্শ না দিয়ে, অপর ব্যক্তিটি আদৌ পরামর্শ চান নাকি কেবল মনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে চান—তা আগে জেনে নেওয়া উচিত। হুট করে পরামর্শ দিলে অপর ব্যক্তি নিজেকে ছোট বা কম বুদ্ধিমান মনে করতে পারেন, যা একটি ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।

লন্ডন ক্লিনিকের মনস্তত্ত্ববিদ ড. লি ভালসের মতে, ধৈর্য ধরে কথা শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষ নিজের থেকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, সেটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত সময় দিলে মূল সমস্যার গভীরে থাকা অন্য কোনো বড় সংকটও প্রকাশ পেতে পারে। কোনো বিষয়ে কৌতুহল বজায় রেখে প্রশ্নের মাধ্যমে কথা বললে অপর ব্যক্তি নিজে থেকে ভাবার সুযোগ পান।

টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইয়েতোং ঝাওয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপে থাকা প্রিয়জনকে সহায়তার ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি কাজ করে। ‘কমিটমেন্ট টু দ্য প্রবলেম’ পদ্ধতিতে অপর ব্যক্তির অনুভূতিকে খারিজ না করে নতুন দৃষ্টিকোণ বা লক্ষ্য তুলে ধরা হয়, যা তাকে সমর্থিত ও চাপমুক্ত বোধ করায়। অন্যদিকে ‘ডিকমিটমেন্ট’ বা বিষয়টি খুব বড় কিছু নয় বলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এতে অপর ব্যক্তি মনে করতে পারেন তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

পরামর্শ দেওয়ার সময় নিজস্ব পক্ষপাত বা অতীত অভিজ্ঞতা অন্যের ওপর চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ড. লি ভালস। কথাপোকথন যেন কোনো একক উপদেশ না হয়ে দুই পক্ষের আলোচনার মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রয়োজনে পরামর্শপ্রার্থীকে তার নিজের সিদ্ধান্ত বা অন্তর্দৃষ্টির ওপর ভরসা করতে উৎসাহিত করা যেতে পারে, যা মন ও শরীরের সংযোগ উন্নত করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে শিশু মনস্তত্ত্ববিদ ড. মারগোট সান্ডারল্যান্ড জানিয়েছেন, সন্তানদের কখনোই লজ্জিত করা বা মেজাজ দেখানো যাবে না। এতে তারা নিজেদের ভেতরে গুটোয় নিতে পারে বা ক্ষতিকর উপায়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। তিনি অভিভাবকদের শান্ত হয়ে এবং সময় নিয়ে পরিস্থিতি সামলানোর পরামর্শ দেন। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ছবি এঁকে বা প্রতীকী খেলনা ব্যবহার করে মনের কথা প্রকাশের পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।

সব প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে অন্য কোনো মাধ্যম বা বিশেষজ্ঞদের সহায়তার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। বর্তমান সময়ে এআই প্রযুক্তি বা চ্যাটবট দ্রুত পরামর্শ দিতে পারলেও তা মানুষের মতো মানবিক অনুভূতি ও আন্তরিকতা দিতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরামর্শ দেওয়ার পর খোঁজ নেওয়া এবং দেওয়া তথ্যটি কতটুকু কাজে লেগেছে তা জেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Life and Style
0
0 comments·0 shares
PHOTO CARD

Share this post visually

PothikTVPothikTV طرزِ زندگی

পরামর্শ দেওয়ার সঠিক কৌশল: কম বলুন, শুনুন বেশি

অন্যকে পরামর্শ দেওয়ার আগে তারা আসলে কী চান তা বোঝা এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন মনস্তত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞরা।