পারমাণবিক চুক্তির আদলে অতি-বুদ্ধিমান এআই বিকাশ বন্ধের আহ্বান এড ডেভির
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি অতি-বুদ্ধিমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর অপ্রতিরোধ্য বিকাশ থামাতে পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার রোধ চুক্তির ধাঁচে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

Technology ডেস্ক: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ন
লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা এড ডেভি অতি-বুদ্ধিমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর বিকাশ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির মতো একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাতে যাচ্ছেন। ব্রাইটনে দলের বার্ষিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে তিনি এ আহ্বান জানাবেন। একই সাথে এই প্রযুক্তিগত ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ তুলবেন যে, সরকার সমস্যা সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ‘টেক ব্রো’-দের ওপর নির্ভর করছে।
সম্মেলনের শেষ দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ডেভি অতি-বুদ্ধিমান এআই প্রযুক্তিকে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সাথে তুলনা করবেন। তিনি সতর্ক করে দেবেন যে, এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পুরো মানবজাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। ডেভি তাঁর প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মডেলে একটি নতুন আন্তর্জাতিক এআই নিরাপত্তা সংস্থা গঠনের কথা বলবেন, যার সদর দপ্তর হবে যুক্তরাজ্যে। এআই গবেষকরা বারবার সতর্ক করেছেন যে আগামী এক দশকের মধ্যে এআই প্রযুক্তি মানবসভ্যতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বক্তব্যে ডেভি উল্লেখ করবেন যে, বিশ্ববাসী কখনও পরমাণু বোমার মতো মারাত্মক বিষয়কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুটিকয়েক বিলিয়নেয়ারের নিজস্ব নজরদারির ওপর ভরসা করেনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেবেন যে আইএইএ গঠিত হয়েছিল সমস্ত দেশের যৌথ প্রচেষ্টায়, যেন মানবজাতিকে ধ্বংস করতে সক্ষম প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অথচ বর্তমানে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ক্যালিফোর্নিয়া এবং বেইজিংয়ের অল্প কিছু অতিধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যেখানে সুরক্ষার জন্য কোনো কার্যকর নিয়ম বা সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
একজন লিবারেল হিসেবে ডেভি স্পষ্ট করবেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অস্তিত্ব সংকটের বিষয়গুলোকে কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। একই নিয়ম এআই-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মার্ক জাকারবার্গ, স্যাম অল্টম্যান কিংবা ইলোন মাস্কের ওপর মানবজাতিকে রক্ষা করার ভার দেওয়া যায় না বলে তিনি মত প্রকাশ করবেন।
এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি নতুন এআই অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেন। তবে ডেভি এই পদক্ষেপকে অপর্যাপ্ত অ্যাখ্যা দিয়ে বলবেন, এটি মূল হুমকির তুলনায় কিছুই নয়। বরং এর ফলে যুক্তরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা বড় বড় প্রযুক্তি কর্তাদের স্বার্থে চালিত হচ্ছে।
একই সম্মেলনে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ম্যাক্স উইলকিনসন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি করারোপের প্রস্তাব জানান। তিনি ডিপফেক পর্নোগ্রাফিক ছবি, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী এবং মাদক ও অস্ত্রের অবৈধ ব্যবসা বন্ধে একটি নতুন অনলাইন অপরাধ দমন সংস্থা তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। মেটার স্মার্ট গ্লাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রবিধানের দাবি জানিয়ে উইলকিনসন বলেন, এগুলো সাধারণ বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এর মাধ্যমে মানুষের—বিশেষ করে নারীদের—সম্মতি ও সতর্কতা ছাড়াই গোপনে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। বড় টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার রুখে না দাঁড়ানোয় এটি নতুন নিয়মে পরিণত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তিন মাসের জন্য জ্বালানি শুল্ক প্রতি লিটারে ১০ পেন্স কমানো এবং বাস ভাড়া কমানোর প্রস্তাব করেছে। দলের কোনো ভিশন বা স্পষ্ট রূপরেখা নেই এমন সমালোচনার জবাবে ডেভি জানান, তাদের প্রস্তাবগুলো সুচিন্তিত এবং এর উদ্দেশ্য জনগণের করের বোঝা কমানো। ইইউ-এর একক বাজারে পুনরায় প্রবেশ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির মাধ্যমে এই কর ছাড়ের অর্থসংস্থান করা হবে। তবে সমাজসেবা ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, তিনি তা কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ডেভি।
