পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা থাকলেও উভয়পক্ষ বর্তমানে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেয়েছে এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় ভাবে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নয়নপুর মৌজায় বিএস ৪৪৫ নম্বর দাগ ও ২০২৬-১০০০৪৯ নম্বর খতিয়ানের আওতাভুক্ত ৪ শতাংশ জমি রেকর্ডীয় সাফকাওলা দলিলমূলে মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেন সৈয়দ ফয়সাল বারী। তবে সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ওই জমি দখল করে জোর করে দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১১ মে) সরেজমিনে দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শ্রমিক দেয়াল নির্মাণের জন্য ইট-গাঁথুনির কাজ করছেন।
এসময় জমির মালিকানা দাবিদার সৈয়দ ফয়সাল বারী কাজ বন্ধের মৌখিক ভাবে চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
সৈয়দ ফয়সাল বারী বলেন, প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে জায়গাটি ক্রয় করেছি। ইতোমধ্যে তার নামে জমির খারিজ (নামজারি) সম্পন্ন হয়েছে। নিয়মিত সরকারকে জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন।
ফয়সাল বারী অভিযোগ করে বলেন, খবির ও মতিন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমার জায়গাটি দখল করার চেষ্টা করছে।
বিষয়টি সমাধানের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (১২ মে) একটি সালিশি বৈঠক বসার কথা ছিল। তারা সেই বৈঠকে মীমাংসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই বৈঠকের তোয়াক্কা না করে কিন্তু প্রতিপক্ষ স্থানীয় প্রভাবশালীর সহযোগীতায় দেয়াল নির্মাণ করছে। আমরা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করলেও তাতে তারা সাড়া দেয়নি।
অপরপক্ষের খবির মিয়া বলেন, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে আমাদের জায়গা দখল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে এ জায়গা ভোগদখলে আছি। সৈয়দ ফয়সাল বারীর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কাজ করতে এলে বাধা প্রদান করে এবং একটি দলিল দেখায়। যে দলিলটি দেখাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ২নং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নির্মল আকাশ বলেন, জায়গা নিয়ে বিরোধ এবং দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দেওয়াল নির্মান বন্ধ করতে বলেছি। কিন্তু তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন অবনতি না হয় সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। দুই পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Responses