POTHIKTV

মহানগর প্রভাতীতে টিকিট ছাড়াই অভিনব বাণিজ্য! এটেনডেন্টের পকেটে যাচ্ছে যাত্রীর টাকা, নেপথ্যে কারা

অসীম চন্দ্র দাস স্টাফ রিপোর্টার ( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) : ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন ‘মহানগর প্রভাতি’। আর এই ট্রেনের এসি বগির ভেতরেই চলছে টিকিটবিহীন যাত্রী পরিবহনের এক অভিনব পকেট বাণিজ্য। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা এক নারী যাত্রীর কাছ থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরাসরি নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনেরই […]

মহানগর প্রভাতীতে টিকিট ছাড়াই অভিনব বাণিজ্য! এটেনডেন্টের পকেটে যাচ্ছে যাত্রীর টাকা, নেপথ্যে কারা

অসীম চন্দ্র দাস স্টাফ রিপোর্টার ( ব্রাহ্মণবাড়ীয়া) : ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী ঐতিহ্যবাহী আন্তঃনগর ট্রেন ‘মহানগর প্রভাতি’। আর এই ট্রেনের এসি বগির ভেতরেই চলছে টিকিটবিহীন যাত্রী পরিবহনের এক অভিনব পকেট বাণিজ্য। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা এক নারী যাত্রীর কাছ থেকে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সরাসরি নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনেরই এক এটেনডেন্ট কর্মীর বিরুদ্ধে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—টাকা নেওয়া হলেও এর বিনিময়ে যাত্রীকে দেওয়া হয়নি কোনো বৈধ টিকিট কিংবা সরকারি রসিদ।

রেলওয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেনে টিকিট পরীক্ষার এবং জরিমানা আদায়ের একমাত্র আইনি এখতিয়ার রয়েছে টিটিই বা ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনারের। একজন বগি এটেনডেন্ট বা কামরা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কোনোভাবেই যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি নগদ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ বা আইনি অধিকার নেই।
কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ভেতরে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখে সাধারণ যাত্রীদের মনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ট্রেনে ভ্রমণরত সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন—”একজন সাধারণ ট্রেনের এটেনডেন্ট কর্মী এতটা সাহস পায় কিভাবে? রেলের নিয়ম ভেঙে প্রকাশ্য বগিতে টাকা নেওয়ার পেছনে কি তবে কোনো উঁচু মহলের হাত রয়েছে? নাকি এই কালো টাকার ভাগ চলে যাচ্ছে পর্দার আড়ালের বড় বড় কর্মকর্তাদের পকেটে?”

যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে এটেনডেন্ট ও কিছু অসাধু কর্মচারীদের এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই উপরি বাণিজ্যের রাজত্ব চালাচ্ছে। একদিকে টিকিট না পেয়ে কালোবাজারি ও দালালদের খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে ট্রেনে উঠেও এভাবে পকেট কাটছে খোদ রেলেরই একশ্রেণীর চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। ফলে প্রতিদিন সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব, আর সাধারণ যাত্রীদের মনে তৈরি হচ্ছে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ।

সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের দাবি, বাংলাদেশ রেলওয়েকে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং সেবার মান বাড়াতে এই ধরণের কালো বিড়ালের সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ আশা করে, মহানগর প্রভাতী ট্রেনের এই সুনির্দিষ্ট অনিয়মের ভিডিওটি আমলে নিয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দোষী এটেনডেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

0
0 comments·0 shares

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংবাদ

Community →