মিশিগান সেনেট নির্বাচন: মিডিয়ার দ্বিমুখী নীতি ও ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার অভিযোগ
মিশিগান সেনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে ঘিরে মার্কিন গণমাধ্যমের দ্বিমুখী আচরণের তীব্র সমালোচনা উঠেছে।

ইসলাম ডেস্ক: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রচারণা ঘিরে মার্কিন গণমাধ্যমের একপেশে ও দ্বিমুখী ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান। বামপন্থী টুইচ স্ট্রিমার হাসান পাইকারকে নিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো অতিরিক্ত মেতে থাকলেও, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের ধর্মীয় নীতিনির্ধারণী দলের একজন ইসলামবিদ্বেষী ও উগ্রপন্থীর বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত তিন মাসে বামপন্থী স্ট্রিমার হাসান পাইকারকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যমে ২৪২টিরও বেশি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যদিও পাইকার মিশিগানে থাকেন না, কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না এবং আব্দুল এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণারও কোনো অংশ নন। তবুও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এল-সায়েদকে পাইকারের বিভিন্ন বক্তব্যের জবাবে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অপরদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স কেবল একজন বিতর্কিত সমর্থককে সাথে নিয়েই প্রচারণা চালাচ্ছেন না, বরং তার প্রচারণা দল ডেট্রয়েটের একজন উগ্রপন্থী ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়া যাজক সিওয়েলকে “ফেইথ লিডারস ফর মাইক রজার্স”-এর সিনিয়র লিডারশিপ টিমের অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সিওয়েল অতীতে প্রকাশ্যে ইসলামকে একটি “দখলদার ধর্ম” এবং “ডেথ কাল্ট” বা মৃত্যুর ধর্ম বলে অভিহিত করেছেন। তিনি এল-সায়েদকে একজন “ইসলামি জিহাদি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছিলেন যে তিনি পুরো দেশে “শরিয়াহ আইন” চালু করতে চান।
গত ১৮ আগস্ট, এই সিওয়েল সুপরিচিত উগ্র ডানপন্থী ইসলামবিদ্বেষী জেক ল্যাংয়ের সাথে যৌথভাবে ডিয়ারবর্ন সিটি কাউন্সিল মিটিংয়ে “ক্রিশ্চিয়ান ক্রুসেডার মার্চ” আয়োজন করেন। জেক ল্যাং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলায় মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ট্রাম্পের নিকট থেকে ক্ষমা পান। এই ডিয়ারবর্ন র্যালিতে স্বস্তিকা পতাকা ও নাৎসি আর্মব্যান্ড পরিহিত নব্য-নাৎসিরা অংশ নেয় এবং স্থানটিতে কেকেকে-পন্থী প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়, যেখানে পুলিশ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
একজন প্রার্থীর প্রচারণার শীর্ষ ধর্মীয় নেতা এমন একটি সমাবেশের সহ-আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট বা সিএনএন-এর মতো শীর্ষ মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে ২০২৬ সালে রজার্সের সাথে সিওয়েলের রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিবেদন তৈরি হয়নি। টাইমসে ডিয়ারবর্নের সেই নাৎসিদের অংশগ্রহণমূলক র্যালির সংবাদ এলেও সিওয়েল বা রজার্সের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
মেহেদী হাসান জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল উভয় প্রার্থীর জন্য সমান মানদণ্ড প্রয়োগের দাবি। যদি পাইকারের সাথে প্রচারণার জন্য এল-সায়েদকে জবাবদিহি করতে হয়, তবে কেন রজার্সকে সিওয়েলের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য কিংবা তার আয়োজিত র্যালিতে নাৎসি পতাকার উপস্থিতির জন্য প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। মার্কিন রাজনীতির এই চিত্র প্রমাণ করে যে, সেখানে ইসলামবিদ্বেষকে এখনও একটি হালকা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে।
সূত্র: The Guardian – Islam
