POTHIKTV
Pاسٹوری بنائیں
September 16, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার শিকড় ৯/১১-এর অনেক আগে থেকেই: সাংবাদিক রোঝিনা আলী

pothiktvContributor
فالو🛡️ 3% Trust Score
যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার শিকড় ৯/১১-এর অনেক আগে থেকেই: সাংবাদিক রোঝিনা আলী

ইসলাম ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ইসলামোফোবিয়ার ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেছেন সাংবাদিক ও লেখক রোঝিনা আলী। দ্য গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ৯/১১-এর অনেক আগেই ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ইসলামোফোবিয়ার বিস্তার শুরু হয়েছিল। তাঁর নতুন বই ‘সিজন্স অব ফিউরি’-তে তিনি এই বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।

ক্যালফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা রোঝিনা আলী জানান, ২০০০-এর দশকের শুরুতে তাঁর শৈশব স্বাভাবিক ছিল। যখন তিনি পাঁচ বছরের শিশু, তখন তাঁর পরিবার পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। ৯/১১ হামলার পর তাঁর বাবা-মা যখন জানান যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং মুসলিমরা সন্দেহের তালিকায় পড়বে, তখন তিনি তা মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁর বাবা-মার ভয় অমূলক ছিল না।

রোঝিনা আলীর লেখা ‘সিজন্স অব ফিউরি’ বইটিতে চারটি পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭০-এর দশকের আরব-আমেরিকান আইনজীবী আবদীন জাবারার কথা উল্লেখ রয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) কর্তৃক নজরদারির শিকার হওয়া প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিতি পান। এ ছাড়া বইটিতে ৯/১১-এর পর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দণ্ডিত মুসলিম পুরুষদের সূক্ষ্ম অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের মে মাসের এক জরিপ উদ্ধৃত করে সাক্ষাৎকারে বলা হয়, অধিকাংশ আমেরিকান মুসলিম দৈনন্দিন জীবনে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ৯/১১-এর পর থেকে পরবর্তী ২৫ বছরে যে সব মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে সহিংসতা প্রসারে বেশি ভূমিকা রাখে, তাঁদের হার দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সম্প্রতি টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো কিছু অঙ্গরাজ্য দেশটির দীর্ঘদিনের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (কেয়ার)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে রোঝিনা আলী মন্তব্য করেন, কেয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করে বন্ধ করার চেষ্টা চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের জন্য আশঙ্কাজনক।

ইতিহাসের মোড়গুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে রোঝিনা বলেন, ১৯৬৭ সালের ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আরব-আমেরিকানদের ওপর রাজনৈতিক নজরদারি শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে ঘটনার পর নিক্সন প্রশাসন আরব-আমেরিকানদের ওপর ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি চালু করে। এর পর ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক ইসলামের উত্থান এবং ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের ফলে প্রচুর মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রেক্ষাপটে পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের নীতির প্রেক্ষাপটে ইসলামোফোবিয়াকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করেন এই লেখক। জোহরান মামদানী ও আবদুল এল-সায়েদের মতো নতুন প্রজন্মের মুসলিম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা ৯/১১-পরবর্তী সন্দেহের পরিবেশকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

রোঝিনা আলীর মতে, ৯/১১-এর পর গঠিত ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতো সংস্থা ও আইনগুলো যেভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছিল, সেগুলো এখন অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এক্সিকিউটিভ ক্ষমতার এই প্রসারের কারণে বর্তমানে যেকোনো সমালোচক বা রাজনৈতিক বিরোধীকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্রাউন পাবলিশিং গ্রুপ থেকে রোঝিনা আলীর ‘সিজন্স অব ফিউরি’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: The Guardian – Islam

0
0 comments·0 shares
PHOTO CARD

Share this post visually

PothikTVPothikTV Updates

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার শিকড় ৯/১১-এর অনেক আগে থেকেই: সাংবাদিক রোঝিনা আলী

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেছেন সাংবাদিক ও লেখক রোঝিনা আলী। তাঁর প্রকাশিত নতুন বই ‘সিজন্স অব ফিউরি’-তে তিনি আলোচনা করেছেন কীভাবে সরকারের নজরদারি ও নীতিগুলো আমেরিকান মুসলিমদের জীবনকে প্রভাবিত করেছে।