Health ডেস্ক: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে হামের প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ার পর শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান নিশ্চিতে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় কর্মকর্তা, রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ এবং চিকিৎসকেরা। দেশটির শীর্ষ পাবলিক হেলথ কর্মকর্তা রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র টিকার কার্যকারিতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রশ্ন তুলে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যকে ব্যাহত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ওপর আস্থা হারিয়ে স্থানীয় পর্যায় থেকে টিকা প্রতিরক্ষার উদ্যোগ জোরদার করা হচ্ছে।
পেনসিলভেনিয়ার ডেলওয়্যার কাউন্টির ইয়াডন শহরের একটি ক্লিনিকের সামনে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ায় ডজন ডজন পরিবার। স্কুলে যোগদানের আগে প্রয়োজনীয় সব টিকা নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ‘এক্সক্লুশন ডে’ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের ফেরত না পাঠিয়ে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে সেখানে শিশুদের টিকাদানের ব্যবস্থা করে। সেদিন অন্তত ৪২ জন শিক্ষার্থীকে ধনুষ্টংকার, পারটুসিস ও মেনিনজাইটিসসহ অন্যান্য রোগের টিকা দেওয়া হয়।
চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেনসিলভেনিয়ায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৩ জনে এবং এতে চারজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাউন্টি প্রশাসন মোবাইল ভ্যাকসিন ক্লিনিক চালু করেছে, যা ৩৩ ফুটের একটি যান নিয়ে বিভিন্ন কমিউনিটি ইভেন্টে টিকা পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও টিকাদানের তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে টিকাদানের হার ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যেখানে সার্বজনীনভাবে প্রস্তাবিত শিশু টিকার সংখ্যা ১৭টি থেকে কমিয়ে ১১টিতে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) সংমিশ্রিত টিকা ভেঙে তিনটি পৃথক ইনজেকশনে রূপান্তর করার কথা বলা হয়, যা সম্পন্ন করতে চিকিৎসকের কাছে অতিরিক্তবার যেতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এমএমআর টিকা দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি বিভক্ত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা বাড়তি নিরাপত্তা সুবিধা নেই। বরং অতিরিক্ত যাতায়াতের কারণে টিকা দেওয়ার সময়সীমা মিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকার ছাড় বা অব্যাহতি চাওয়ার হার রেকর্ড ছুঁয়েছে এবং মূল টিকাদানের হার আগের বছরের চেয়ে কমেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে টিকা নিয়ে দ্বিধাবোধ বাড়ছে। এ কারণে চিকিৎসকেরা বিজ্ঞানভিত্তিক সঠিক তথ্য অভিভাবকদের কাছে তুলে ধরে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছেন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখন অন্তত ৩০টি রাজ্য সিডিসির পরিবর্তে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স এবং আমেরিকান একাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানসের নির্দেশিকা অনুসরণ করছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের টিকা সূচি পরিবর্তন ও সিডিসির টিকা উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৫টি রাজ্য মামলা করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য আঞ্চলিক জোট গঠন করেছে; যেমন ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ওয়াশিংটন ও হাওয়াই মিলে গঠন করেছে ‘ওয়েস্ট কোস্ট হেলথ অ্যালায়েন্স’ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১৫টি রাজ্য মিলে গড়ে তুলেছে ‘নর্থইস্ট পাবলিক হেলথ কোলাবোরেটিভ’।
পেনসিলভেনিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ টিকাদানের গুরুত্ব ও হামের সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও ও ইনফোগ্রাফিক্স প্রকাশের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াচ্ছেন। এর ইতিবাচক প্রভাবে গত আগস্ট মাসে রাজ্যটিতে ৪৬,০০০-এরও বেশি এমএমআর টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫,০০০ বেশি। হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন ২০১৯ সালে সামোয়ার ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্পষ্ট স্থানীয় তথ্যভিত্তিক যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন। সেই প্রাদুর্ভাবে ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই ছিল শিশু।
বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ওপর অভিভাবকদের সঠিক তথ্য বুঝিয়ে টিকা নিশ্চিত করার বড় দায় এসে পড়েছে। পেনসিলভেনিয়ায় চলতি বছর থেকে প্রথমবার স্কুলভিত্তিক টিকাদানের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে করে স্থানীয় পর্যায়ে টিকাদানের সঠিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

