Education ডেস্ক: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ন
করোনা মহামারির সৃষ্ট সংকটকে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে চিত্তাকর্ষক সাফল্য অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।
গার্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি গাইডের সাম্প্রতিক র্যাংকিংয়ে প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সেরা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বার্মিংহাম। সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৪তম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র চার বছর আগেও শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের কারণে র্যাংকিংয়ে ৩৭ নম্বরে নেমে গিয়েছিল এটি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহামারির সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা ও উদ্বেগ দূর করতে তারা প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। বার্মিংহামের প্রোভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) ডেবোরা লংওয়ার্থ জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আসল চাহিদা চিহ্নিত করার পর পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করতে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পাঠ্যক্রমে নানা নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রফেশনাল লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করার মতো ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। ২০২২ সালে ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেওয়া অ্যাডাম টিকেল জানান, আশির দশকের তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় আসছেন, যা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের ফল। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে সঠিক ক্যারিয়ার গড়তে পারেন, সেই উপযোগী দক্ষতা তৈরিই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
হায়ার এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বার্মিংহামের সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই আবারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বব্যাপী অবস্থান বর্তমানে ৬৮তম স্থানে উন্নীত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতামতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও প্রশাসনিক ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। লংওয়ার্থ জানান, সেমিস্টার ব্যবস্থার জটিলতা দূর করে আবার তিন টার্মের পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মূল্যায়নের চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
নতুন এই রূপান্তরের অংশ হিসেবে ‘অ্যাড আল্টা’ নামে একটি বিশেষ প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। গত শিক্ষাবর্ষে প্রথম দুই হাজার শিক্ষার্থীকে এই প্রোগ্রামের আওতায় আনা হয়েছে। এতে একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্বিতীয় বর্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংস্থার কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ‘বার্মিংহাম অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হচ্ছে।
শিক্ষাক্রমের পাশাপাশি ভৌত অবকাঠামোতেও বড় পরিবর্তন এনেছে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এক দশকের পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ার পর ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের পুরোনো স্থাপত্য বদলে সেখানে তৈরি করা হয়েছে ‘গ্রিন হার্ট’ নামের উন্মুক্ত সবুজ চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটার্নাল রিলেশনসের পরিচালক জো কাইট জানান, এই সবুজ চত্বরটি এখন ক্যাম্পাসের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও সামাজিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

