শ্যামপুরে আফরার মৃত্যু: রিমান্ড শেষে স্বামী রাহাত কারাগারে
ঢাকার শ্যামপুরে ১৬ বছর বয়সী নববধূ আফরা খানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে স্বামী রাহাত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জাতীয় ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঢাকার শ্যামপুরে ১৬ বছর বয়সী নববধূ আফরা খানকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার স্বামী রাহাত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুই দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদের আদালতে হাজির করা হলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড শেষে আসামি রাহাতকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আবেদনের পর শুনানি শেষে আদালত পুলিশি আবেদন মঞ্জুর করে রাহাতকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর আসামি রাহাতের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত। সেই রিমান্ডের মেয়ার শেষেই তাকে নতুন করে আদালতে তোলা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৮ মে রাহাত হোসেন ও আফরা খানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আফরাকে কটু কথা ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতেন তার স্বামী রাহাত।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে আফরাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি মানসিকভাবে নির্যাতন ও অপমান করা হতো। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গত ২০ আগস্ট আফরার শাশুড়ি সোনিয়া আক্তার ফোন করে তার মা লাকী আক্তারকে জানান যে আফরা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে রাহাতের বাবা লিটন ব্যাপারী ও বড় ভাই সাইফ হোসেন আফরাকে সূত্রাপুরের একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান আফরার মা। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আফরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরই গত ২০ আগস্ট আফরার মা লাকী আক্তার বাদী হয়ে শ্যামপুর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় আফরার স্বামী রাহাত হোসেনকে।
মামলার অন্য তিন আসামিরা হলেন রাহাতের মা সোনিয়া আক্তার, বাবা লিটন ব্যাপারী এবং বড় ভাই সাইফ হোসেন। এজাহারভুক্ত অন্য তিন আসামি গত ২ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেছেন।
মামলা দায়েরের পর দিন, অর্থাৎ ২১ আগস্ট শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে রাহাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রথম দফায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হলেও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
সূত্র: জাগো নিউজ

ঠিক আছে
তাই