POTHIKTV

‘সাউন্ড অব মিউজিক’ সিনেমার ৬০ বছর: অবশেষে অসট্রিয়ায় তৈরি হলো জাদুঘর

হলিউডের বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'দ্য সাউন্ড অব মিউজিক' মুক্তির ছয় দশক পর অস্ট্রিয়ার সালজবার্গে সিনেমা ও ভন ট্র্যাপ পরিবারের স্মরণে একটি নতুন জাদুঘর চালু হয়েছে।

‘সাউন্ড অব মিউজিক’ সিনেমার ৬০ বছর: অবশেষে অসট্রিয়ায় তৈরি হলো জাদুঘর

Entertainment ডেস্ক: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন

হলিউডের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’ মুক্তির দীর্ঘ ছয় দশক পর অবশেষে অস্ট্রিয়ার সালজবার্গ শহরটি তাদের ইতিহাস ও এই জনপ্রিয় সিনেমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং নাৎসি শাসনের পর অস্ট্রিয়া যখন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই ১৯৬৫ সালে অস্কারজয়ী পরিচালক রবার্ট ওয়াইজ তার ছবির শুটিংয়ের জন্য সালজবার্গে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অস্ট্রিয়ানদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে এক ধরনের অনাগ্রহ ও দূরত্ব ছিল। সেই দূরত্ব ঘুচাতেই সালজবার্গে নতুন একটি জাদুঘর চালু করা হয়েছে, যা চলচ্চিত্রটি এবং এর নেপথ্যের বাস্তব নাৎসি-বিরোধী পরিবার ভন ট্র্যাপদের গল্প তুলে ধরছে।

জাদুঘরটি সপ্তদশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক হেলব্রুন প্যালেসের কোচ হাউস ও হান্টিং লজে স্থাপন করা হয়েছে। প্যালেসের ভিত্তি ও আশপাশের এলাকা সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্যে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রায় ৪.৬ মিলিয়ন ইউরো সরকারি খরচে ভবন সংস্কার এবং ১.৮ মিলিয়ন ইউরো প্রদর্শনী তৈরিতে ব্যয় করা হয়েছে। এখানে মূল কস্টিউম, পোস্টার, প্রচ্ছদ, সুপার ৮ মিমি ফিল্মের দৃশ্য সহ নানা স্মৃতিচিহ্ন রাখা হয়েছে। এছাড়া চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত সেই বিখ্যাত কাচের গেজেবো বা প্যাভিলিয়নটিও এখানে নতুনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

অস্ট্রিয়ার অধিবাসী বা জার্মানদের একটি বড় অংশই জুলি অ্যান্ড্রুজ ও ক্রিস্টোফার প্লামার অভিনীত পাঁচ অস্কারজয়ী এই সিনেমাটি কখনো দেখেননি। জাদুঘরের সহ-কিউরেটর ম্যাথিয়াস বার্গসম্যান জানান, কিচ বা আবেগের পাশাপাশি এটি মূলতঃ নাৎসিবাদ ও জাতীয় সমাজতন্ত্রকে ‘না’ বলার এবং প্রতিরোধের গল্প। ভন ট্র্যাপ পরিবারের একতাবদ্ধ থেকে সঙ্গীতের মাধ্যমে টিকে থাকার সংগ্রাম সিনেমাটিতে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, সিনেমাটি অস্ট্রিয়ায় দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকার কারণ কেবল নাৎসি আমল নিয়ে অস্বস্তি নয়, বরং অস্ট্রিয়ানরা মনে করতেন ট্র্যাজেডি ও যুদ্ধপরবর্তী ক্ষত তখনও পুরোপুরি শুকায়নি। তাছাড়া হলিউড যেভাবে তাদের শহরের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও বাস্তব ঘটনার বিবরণ খানিকটা বদলে স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ছিল।

জাদুঘরের ওপরের তলায় বাস্তব ভন ট্র্যাপ পরিবারের ঐতিহাসিক বস্তু সংরক্ষণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আসল মারিয়ার পরা পোশাক, জর্জের নৌবাহিনীর পোশাক ও তরবারি এবং যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর সময় লিখিত দিনপঞ্জি। ১৯৫৯ সালের ব্রডওয়ে মিউজিক্যাল এবং ১৯৬৫ সালের ছবিটি মারিয়া ভন ট্র্যাপের একটি জনপ্রিয় স্মৃতিকথার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। বাস্তব জীবনে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান নৌবাহিনীর সাবমেরিন কমান্ডার জর্জ ভন ট্র্যাপের সাত সন্তানের দেখাশোনার জন্য মারিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রেম, বিবাহ এবং ১৯৩০-এর দশকে পরিবারটির গান গাওয়া শুরু হয়। নাৎসি বাহিনী অস্ট্রিয়া দখল করলে হিটলারের প্রতি তীব্র বিরোধিতা এবং আর্থিক সংকটের কারণে তারা নিজ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

বাস্তব জর্জ ভন ট্র্যাপের নাতনি ৭২ বছর বয়সী এলিজাবেথ ভন ট্র্যাপ জানান, চলচ্চিত্রটি তাদের পরিবারকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিলেও হলিউডের কিছু পরিবর্তন তাদের পরিবার পছন্দ করেনি। যেমন ক্যাপ্টেন জর্জকে সিনেমায় যেভাবে কঠোর হিসেবে দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তিনি তেমন ছিলেন না। তবে অস্ট্রিয়ায় ভন ট্র্যাপ পরিবারের আসল ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করার এই উদ্যোগে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আশা করছে যে, প্রতি বছর সালজবার্গে ‘দ্য সাউন্ড অব মিউজিক’-এর টানে আসা প্রায় তিন লাখ পর্যটকের জন্য এই জাদুঘর প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে। এটি বিখ্যাত সুরকার উলফগ্যাং আমাদিউস মোৎসার্টের আকর্ষণের পাশাপাশি শহরের বিনোদন ও পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছেও সিনেমাটি নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চলচ্চিত্রটির গান ও দৃশ্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Film
0
0 comments·0 shares