POTHIKTV

স্কুল খাবারের নতুন নীতিমালা ঘোষণা যুক্তরাজ্যে, উচ্ছ্বসিত জ্যামি অলিভার

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ এক দশক পর নতুন স্কুল খাদ্য নীতিমালা ঘোষণা করেছে সরকার। পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ এবং রান্নার শিক্ষা প্রসারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ শেফ জ্যামি অলিভার।

স্কুল খাবারের নতুন নীতিমালা ঘোষণা যুক্তরাজ্যে, উচ্ছ্বসিত জ্যামি অলিভার

Health ডেস্ক: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যে স্কুলের খাবারের মান নির্ধারণে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। দীর্ঘ এক দশক পর বিজ্ঞানসম্মত ও বাস্তবভিত্তিক নতুন এই মানদণ্ড প্রকাশ করা হলো। এই উদ্যোগকে শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ শেফ এবং খাদ্য সংস্কার আন্দোলনের প্রচারক জ্যামি অলিভার।

জ্যামি অলিভার জানান, ২০ বছরেরও বেশি সময় আগে যখন তিনি ‘স্কুল ডিনারস’ নামের প্রচারণা ও টেলিভিশন ধারাবাহিক শুরু করেছিলেন, তখন কুকুরের খাবারের মান নির্ধারিত থাকলেও শিশুদের স্কুলের খাবারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড ছিল না। নতুন এই নীতিমালার ফলে ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা এখন থেকে আরও বেশি শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত প্রোটিন এবং হোল গ্রেইন বা পূর্ণ শস্যভিত্তিক পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় খাতের শিক্ষার্থীরা বছরে প্রায় ১৯০ দিন স্কুলে সময় কাটায়। সেখানে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার খেলে তাদের দৈনিক গৃহীত খাদ্যের বড় অংশই নির্ভর করে স্কুলের ওপর। বর্তমানে শিশুরা সুপারিশকৃত পরিমাণের চেয়ে অর্ধেকেরও কম শাকসবজি ও ফলমূল খায়, কিন্তু দ্বিগুণ পরিমাণ চিনি গ্রহণ করে। ফলে স্কুলে পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হলে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

শিক্ষকদের তথ্যানুযায়ী, দুপুরের খাবার ও বিরতির সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অশান্ত আচরণ করতে পারে বলে ৮০ শতাংশ শিক্ষক একমত প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ৮৫ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতার ওপর খাদ্যাভ্যাসের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। পুষ্টিকর খাবার খেলে শিশুদের মেজাজ ভালো থাকে, শক্তি বাড়ে এবং অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতি কমে আসে।

অপুষ্টি ও স্থূলতাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় ১২৬ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) ও সামাজিক সুরক্ষার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোর্নমাথের শেফ রাসের উদাহরণ টেনে অলিভার জানান, একটি ছোট রান্নাঘর থেকেও খাবারের মান বদলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের খাবার গ্রহণের হার ২৮ শতাংশ থেকে ৯৮ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে।

নতুন মানদণ্ডগুলো যাতে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে জন্য যথাযথ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ‘স্কুল ফুড প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাইট ব্যাক, শেফস ইন স্কুলস, স্কুল ফুড ম্যাটার্স এবং ফুড ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থাসমূহ একত্রে কাজ করছে। তবে শুধু ভালো খাবার পরিবেশনই যথেষ্ট নয়, শিশুদের রান্নার মৌলিক কৌশল শেখানোও অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন অলিভার, যা তাদের সারা জীবনের জন্য সুস্থ থাকার দক্ষতা জোগাবে।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Health
0
0 comments·0 shares