জাজিরাতুল আরব থেকে সৌদি আরব: ইতিহাস, নজদ, ইয়েমেন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত দাবির বাস্তবতা ↗
PothikTV
September 17, 2026
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
পেশাগত পরিচিতি গড়ে উঠছে
daily sokaler somay, bangladesher khabor, sobuj bangla, songbad
BSS, LLB, post graduate journalism
পেশাগত পরিচিতি গড়ে উঠছে
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
PothikTV
September 1, 2026
PothikTV
June 8, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
PothikTV
September 1, 2026
PothikTV
June 8, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
May 23, 2026
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
A digital ecosystem is taking shape for journalists, writers, content creators, students, educators and independent professionals, where users can build their identity, publish news and creative work, connect with communities, develop skills, explore professional opportunities and strengthen their professional credibility. Developed as an initiative from Bangladesh, PothikTV aims to bring these possibilities together within one integrated platform. In today’s digital world, our identities are often scattered across multiple platforms. We…
A digital ecosystem is taking shape for journalists, writers, content creators, students, educators and independent professionals, where users can build their identity, publish news and creative work, connect with communities, develop skills, explore professional opportunities and strengthen their professional credibility. Developed as an initiative from Bangladesh, PothikTV aims to bring these possibilities together within one integrated platform.
In today’s digital world, our identities are often scattered across multiple platforms. We use one platform for social networking, another for writing, a different one for finding jobs, separate services for online learning, and yet another website to showcase a professional portfolio.
ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের…
ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক সেইসব হৃদয়কে, যারা ভালোবাসার পবিত্রতাকে চিনতে শেখেনি।
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না। সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো পরীক্ষাগারে তার জীবাণু ধরা পড়ে না। তবু সে আমার রক্তের ভেতর অনুবাদহীন এক অন্ধকার হয়ে ঘোরে। কখনও মেঘের কালো পশম পরে এসে বসে বুকের ওপর, কখনও চোখের ভেতর গড়ে তোলে বৃষ্টিহীন শ্রাবণ। আমি বুঝতে পারি, আমার শরীরের চেয়ে আমার ছায়াটাই আজকাল বেশি অসুস্থ। আমার ডাইনে অসুখ। বাঁয়ে অসুখ। সামনে গেলে অসুখ দাঁড়িয়ে…
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না।
সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো পরীক্ষাগারে তার জীবাণু ধরা পড়ে না। তবু সে আমার রক্তের ভেতর অনুবাদহীন এক অন্ধকার হয়ে ঘোরে। কখনও মেঘের কালো পশম পরে এসে বসে বুকের ওপর, কখনও চোখের ভেতর গড়ে তোলে বৃষ্টিহীন শ্রাবণ। আমি বুঝতে পারি, আমার শরীরের চেয়ে আমার ছায়াটাই আজকাল বেশি অসুস্থ।
আমার ডাইনে অসুখ।
বাঁয়ে অসুখ।
সামনে গেলে অসুখ দাঁড়িয়ে থাকে দরজার মতো, পেছনে ফিরলে দেখি সে-ই আমার পদচিহ্ন হয়ে আমাকে অনুসরণ করছে।
সুখের মধ্যেও এখন অসুখের গন্ধ পাই। হাসির নিচে দেখি ভাঙা কাচের স্তর, উৎসবের আলোয় আবিষ্কার করি মৃত জোনাকিদের সংসার। কেউ যখন বলে, “ভালো আছো?”, তখন আমার ভেতরে সহস্র বছর পুরোনো কোনো ধ্বংসস্তূপ থেকে ধুলো উড়ে আসে। উত্তর দিতে গিয়ে দেখি ভাষা নেই, কেবল কয়েকটি নির্বাসিত শব্দ আমার কণ্ঠনালির কাছে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
রাত হলে এই অসুখ আরও নিঃশব্দ হয়।
আর নিঃশব্দ হলেই সে আরও ভয়ংকর।
তখন ঘড়ির কাঁটাগুলো সময় মাপে না, আমার অনুপস্থিতি মাপে। দেয়ালের ছায়া লম্বা হতে হতে একসময় আমার শয্যার পাশে বসে পড়ে। জানালার বাইরে চাঁদকে মনে হয় বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মুখ, যে ফিরে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু পৃথিবীর ঠিকানা ভুলে গেছে।
ভোর হয়।
লোকেরা তাকে নতুন দিন বলে।
আমার কাছে ভোর হলো রাতের ক্ষতের ওপর সামান্য আলো রেখে দেওয়া। সূর্য ওঠে, পাখি ডাকে, রাস্তা জেগে ওঠে, চায়ের দোকানে কথাবার্তা জমে, মানুষেরা নিজেদের প্রয়োজনের দিকে ছুটে যায়। অথচ আমার ভেতরে তখনও রাতের একটি কালো পাখি ডানা মেলে বসে থাকে। তার ঠোঁটে কোনো গান নেই, আছে কেবল এক অনিবার্য বিষণ্নতার বীজ।
সকাল আমাকে গিলে খায়।
দুপুর আমাকে গিলে খায়।
বিকেল এসে আমার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে।
আর সন্ধ্যা যেন অদৃশ্য কোনো পুরোহিত, প্রতিদিন আমার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর শ্রাদ্ধ করে যায়।
ঋতুও আমাকে রক্ষা করতে পারে না।
বসন্ত এলে পৃথিবী যখন পলাশের আগুনে রঙিন হয়, আমার ভিতরে তখন পাতা ঝরে। শীতের কুয়াশা নামলে অন্যেরা উষ্ণতার কাছে ফেরে, আমি আরও দূরে সরে যাই নিজের কাছ থেকে। বর্ষায় আকাশ কাঁদলে আমার মনে হয়, সে আমার ভাষা চুরি করেছে। শরৎ তার নির্মল নীল নিয়ে আসে, অথচ আমার আকাশে তখনও জমে থাকে বহু জন্মের অমীমাংসিত মেঘ।
এই অসুখ আমাকে গিলে গিলে খায়।
একবারে নয়।
একটু একটু করে।
প্রথমে সে আমার ঘুম খায়, তারপর স্বপ্ন। তারপর অপেক্ষা। তারপর কোনো এক অসতর্ক দুপুরে এসে আমার বিশ্বাসের একটি অংশ ছিঁড়ে নিয়ে যায়। একদিন দেখি, যে মানুষটি আয়নায় দাঁড়িয়ে আছে সে দেখতে ঠিক আমার মতো, কিন্তু তার চোখে আমার বাস নেই।
আমি তখন নিজের নাম ধরে নিজেকেই ডাকি।
কেউ উত্তর দেয় না।
আমার মনে হয়, আমি বুঝি বহুদিন আগে মারা গেছি, এখন কেবল আমার অভ্যাসগুলো বেঁচে আছে। তারা সকালে উঠে, মুখ ধোয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলে, প্রয়োজনমতো হাসে, রাস্তায় হাঁটে, কাজ করে, ফিরে আসে। আর আসল আমি কোনো পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে বসে আছি, যেখানে কোনো ট্রেন থামে না, শুধু দূর থেকে হুইসেলের শব্দ আসে।
সেই স্টেশনের নাম হয়তো বিষণ্নতা।
অথবা স্মৃতি।
অথবা এমন কোনো ভালোবাসা, যার মৃতদেহ কেউ কখনও খুঁজে পায়নি।
কখনও মনে হয়, আমার বুকের মধ্যে একটি প্রাচীন নগর ডুবে আছে। সেখানে ভাঙা মিনার, নিভে যাওয়া প্রদীপ, বন্ধ জানালা, জনশূন্য অলিগলি। মাঝরাতে সেখানে কারা যেন হাঁটে। হয়তো তারা আমার অপূর্ণ ইচ্ছেরা। হয়তো যে কথাগুলো কখনও বলা হয়নি, তারা মানুষ হয়ে ফিরে এসেছে।
তারা আমার দরজায় দাঁড়িয়ে বলে,
“আমাদের কবর দিলে না কেন?”
আমি কীভাবে বোঝাই, আমার ভেতরে কবর দেওয়ার মতো মাটিও আর অবশিষ্ট নেই?
সবটাই এখন ধ্বংসাবশেষ।
তবু আশ্চর্য, এই অনন্ত মন খারাপের মধ্যেও কোথাও একটি ক্ষীণ স্পন্দন থেকে যায়। সমস্ত নক্ষত্র নিভে যাওয়ার পরও যেমন মহাশূন্য সম্পূর্ণ অন্ধকার হয় না, তেমনি আমার সমস্ত ভাঙনের নিচে অতি ক্ষুদ্র একটি আলো শ্বাস নেয়।
হয়তো তার নাম বেঁচে থাকা।
হয়তো তার নাম কবিতা।
হয়তো মানুষের সমস্ত দুঃখের শেষ গোপন বিদ্রোহই হলো, এতকিছুর পরও সে একদিন জানালা খুলে দেয়।
আমি জানি না এই অসুখ কোনোদিন যাবে কি না।
হয়তো যাবে না।
হয়তো একদিন আমি আর সে একই শরীরের দুই বাসিন্দা হয়ে যাব। সে আমার পাশে বসে থাকবে, আমি তাকে চা দেব। আমরা দুজন মিলে পুরোনো দিনের কথা বলব। আমি তাকে জিজ্ঞেস করব,
“এতকাল আমাকে কেন ছাড়োনি?”
সে হয়তো মৃদু হেসে বলবে,
“তোমার ভেতরে যে এত আলো ছিল, তার ঠিকানা জানতাম না। তাই অন্ধকার হয়ে তোমাকে খুঁজেছি।”
সেদিন হয়তো প্রথমবার বুঝব, মন খারাপ সবসময় ধ্বংসের নাম নয়।
কিছু কিছু মন খারাপ মানুষকে গভীর করে।
কিছু কিছু শূন্যতা মানুষকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে।
কিছু কিছু অন্ধকারই শেখায়, আলো আসলে কতখানি অলৌকিক।
তবু আজও বলি,
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না।
মেঘ-কালো এই অসুখ আমার চোখে, বুকে, ডাইনে, বাঁয়ে, সকাল-দুপুর-বিকেল, বসন্ত-শীত, স্বপ্ন ও জাগরণে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু এখন আর তাকে শুধু অসুখ বলে ডাকি না।
আমি তার আরেকটি নাম দিয়েছি।
অতল থেকে ফিরে আসার দীর্ঘতম পথের সাথি “আতুর্গালী”।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান।
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে যেন আর কোনো অন্যায় না হয় এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভালোভাবে ফিরে আসেন—এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে যেন আর কোনো অন্যায় না হয় এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভালোভাবে ফিরে আসেন—এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।
"প্রকৃতি যখন নিজের রঙে সাজায় নিজেকে, তখন শব্দরা থমকে দাঁড়ায়; শুধু চোখ ভরে দেখে যেতে হয় এই নীরব সৌন্দর্য।"
এখন আর আগের মতো রেকর্ড করা হয়নি। ২০১৫ থেকে ২০ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল খুব আনন্দের
@pothiktv1 · Journalist · Brahmanbaria
A quick introduction for the PothikTV community.
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
Professional experience, education and languages.
Goals, milestones and personal values.
A digital ecosystem is taking shape for journalists, writers, content creators, students, educators and independent professionals, where users can build their identity, publish news and creative work, connect with communities, develop skills, explore professional opportunities and strengthen their professional credibility. Developed as an initiative from Bangladesh, PothikTV aims to bring these possibilities together within one integrated platform. In today’s digital world, our identities are often scattered across multiple platforms. We…
A digital ecosystem is taking shape for journalists, writers, content creators, students, educators and independent professionals, where users can build their identity, publish news and creative work, connect with communities, develop skills, explore professional opportunities and strengthen their professional credibility. Developed as an initiative from Bangladesh, PothikTV aims to bring these possibilities together within one integrated platform.
In today’s digital world, our identities are often scattered across multiple platforms. We use one platform for social networking, another for writing, a different one for finding jobs, separate services for online learning, and yet another website to showcase a professional portfolio.
ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের…
ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক সেইসব হৃদয়কে, যারা ভালোবাসার পবিত্রতাকে চিনতে শেখেনি।
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না। সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো পরীক্ষাগারে তার জীবাণু ধরা পড়ে না। তবু সে আমার রক্তের ভেতর অনুবাদহীন এক অন্ধকার হয়ে ঘোরে। কখনও মেঘের কালো পশম পরে এসে বসে বুকের ওপর, কখনও চোখের ভেতর গড়ে তোলে বৃষ্টিহীন শ্রাবণ। আমি বুঝতে পারি, আমার শরীরের চেয়ে আমার ছায়াটাই আজকাল বেশি অসুস্থ। আমার ডাইনে অসুখ। বাঁয়ে অসুখ। সামনে গেলে অসুখ দাঁড়িয়ে…
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না।
সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো পরীক্ষাগারে তার জীবাণু ধরা পড়ে না। তবু সে আমার রক্তের ভেতর অনুবাদহীন এক অন্ধকার হয়ে ঘোরে। কখনও মেঘের কালো পশম পরে এসে বসে বুকের ওপর, কখনও চোখের ভেতর গড়ে তোলে বৃষ্টিহীন শ্রাবণ। আমি বুঝতে পারি, আমার শরীরের চেয়ে আমার ছায়াটাই আজকাল বেশি অসুস্থ।
আমার ডাইনে অসুখ।
বাঁয়ে অসুখ।
সামনে গেলে অসুখ দাঁড়িয়ে থাকে দরজার মতো, পেছনে ফিরলে দেখি সে-ই আমার পদচিহ্ন হয়ে আমাকে অনুসরণ করছে।
সুখের মধ্যেও এখন অসুখের গন্ধ পাই। হাসির নিচে দেখি ভাঙা কাচের স্তর, উৎসবের আলোয় আবিষ্কার করি মৃত জোনাকিদের সংসার। কেউ যখন বলে, “ভালো আছো?”, তখন আমার ভেতরে সহস্র বছর পুরোনো কোনো ধ্বংসস্তূপ থেকে ধুলো উড়ে আসে। উত্তর দিতে গিয়ে দেখি ভাষা নেই, কেবল কয়েকটি নির্বাসিত শব্দ আমার কণ্ঠনালির কাছে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
রাত হলে এই অসুখ আরও নিঃশব্দ হয়।
আর নিঃশব্দ হলেই সে আরও ভয়ংকর।
তখন ঘড়ির কাঁটাগুলো সময় মাপে না, আমার অনুপস্থিতি মাপে। দেয়ালের ছায়া লম্বা হতে হতে একসময় আমার শয্যার পাশে বসে পড়ে। জানালার বাইরে চাঁদকে মনে হয় বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মুখ, যে ফিরে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু পৃথিবীর ঠিকানা ভুলে গেছে।
ভোর হয়।
লোকেরা তাকে নতুন দিন বলে।
আমার কাছে ভোর হলো রাতের ক্ষতের ওপর সামান্য আলো রেখে দেওয়া। সূর্য ওঠে, পাখি ডাকে, রাস্তা জেগে ওঠে, চায়ের দোকানে কথাবার্তা জমে, মানুষেরা নিজেদের প্রয়োজনের দিকে ছুটে যায়। অথচ আমার ভেতরে তখনও রাতের একটি কালো পাখি ডানা মেলে বসে থাকে। তার ঠোঁটে কোনো গান নেই, আছে কেবল এক অনিবার্য বিষণ্নতার বীজ।
সকাল আমাকে গিলে খায়।
দুপুর আমাকে গিলে খায়।
বিকেল এসে আমার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে।
আর সন্ধ্যা যেন অদৃশ্য কোনো পুরোহিত, প্রতিদিন আমার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর শ্রাদ্ধ করে যায়।
ঋতুও আমাকে রক্ষা করতে পারে না।
বসন্ত এলে পৃথিবী যখন পলাশের আগুনে রঙিন হয়, আমার ভিতরে তখন পাতা ঝরে। শীতের কুয়াশা নামলে অন্যেরা উষ্ণতার কাছে ফেরে, আমি আরও দূরে সরে যাই নিজের কাছ থেকে। বর্ষায় আকাশ কাঁদলে আমার মনে হয়, সে আমার ভাষা চুরি করেছে। শরৎ তার নির্মল নীল নিয়ে আসে, অথচ আমার আকাশে তখনও জমে থাকে বহু জন্মের অমীমাংসিত মেঘ।
এই অসুখ আমাকে গিলে গিলে খায়।
একবারে নয়।
একটু একটু করে।
প্রথমে সে আমার ঘুম খায়, তারপর স্বপ্ন। তারপর অপেক্ষা। তারপর কোনো এক অসতর্ক দুপুরে এসে আমার বিশ্বাসের একটি অংশ ছিঁড়ে নিয়ে যায়। একদিন দেখি, যে মানুষটি আয়নায় দাঁড়িয়ে আছে সে দেখতে ঠিক আমার মতো, কিন্তু তার চোখে আমার বাস নেই।
আমি তখন নিজের নাম ধরে নিজেকেই ডাকি।
কেউ উত্তর দেয় না।
আমার মনে হয়, আমি বুঝি বহুদিন আগে মারা গেছি, এখন কেবল আমার অভ্যাসগুলো বেঁচে আছে। তারা সকালে উঠে, মুখ ধোয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলে, প্রয়োজনমতো হাসে, রাস্তায় হাঁটে, কাজ করে, ফিরে আসে। আর আসল আমি কোনো পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে বসে আছি, যেখানে কোনো ট্রেন থামে না, শুধু দূর থেকে হুইসেলের শব্দ আসে।
সেই স্টেশনের নাম হয়তো বিষণ্নতা।
অথবা স্মৃতি।
অথবা এমন কোনো ভালোবাসা, যার মৃতদেহ কেউ কখনও খুঁজে পায়নি।
কখনও মনে হয়, আমার বুকের মধ্যে একটি প্রাচীন নগর ডুবে আছে। সেখানে ভাঙা মিনার, নিভে যাওয়া প্রদীপ, বন্ধ জানালা, জনশূন্য অলিগলি। মাঝরাতে সেখানে কারা যেন হাঁটে। হয়তো তারা আমার অপূর্ণ ইচ্ছেরা। হয়তো যে কথাগুলো কখনও বলা হয়নি, তারা মানুষ হয়ে ফিরে এসেছে।
তারা আমার দরজায় দাঁড়িয়ে বলে,
“আমাদের কবর দিলে না কেন?”
আমি কীভাবে বোঝাই, আমার ভেতরে কবর দেওয়ার মতো মাটিও আর অবশিষ্ট নেই?
সবটাই এখন ধ্বংসাবশেষ।
তবু আশ্চর্য, এই অনন্ত মন খারাপের মধ্যেও কোথাও একটি ক্ষীণ স্পন্দন থেকে যায়। সমস্ত নক্ষত্র নিভে যাওয়ার পরও যেমন মহাশূন্য সম্পূর্ণ অন্ধকার হয় না, তেমনি আমার সমস্ত ভাঙনের নিচে অতি ক্ষুদ্র একটি আলো শ্বাস নেয়।
হয়তো তার নাম বেঁচে থাকা।
হয়তো তার নাম কবিতা।
হয়তো মানুষের সমস্ত দুঃখের শেষ গোপন বিদ্রোহই হলো, এতকিছুর পরও সে একদিন জানালা খুলে দেয়।
আমি জানি না এই অসুখ কোনোদিন যাবে কি না।
হয়তো যাবে না।
হয়তো একদিন আমি আর সে একই শরীরের দুই বাসিন্দা হয়ে যাব। সে আমার পাশে বসে থাকবে, আমি তাকে চা দেব। আমরা দুজন মিলে পুরোনো দিনের কথা বলব। আমি তাকে জিজ্ঞেস করব,
“এতকাল আমাকে কেন ছাড়োনি?”
সে হয়তো মৃদু হেসে বলবে,
“তোমার ভেতরে যে এত আলো ছিল, তার ঠিকানা জানতাম না। তাই অন্ধকার হয়ে তোমাকে খুঁজেছি।”
সেদিন হয়তো প্রথমবার বুঝব, মন খারাপ সবসময় ধ্বংসের নাম নয়।
কিছু কিছু মন খারাপ মানুষকে গভীর করে।
কিছু কিছু শূন্যতা মানুষকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে।
কিছু কিছু অন্ধকারই শেখায়, আলো আসলে কতখানি অলৌকিক।
তবু আজও বলি,
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না।
মেঘ-কালো এই অসুখ আমার চোখে, বুকে, ডাইনে, বাঁয়ে, সকাল-দুপুর-বিকেল, বসন্ত-শীত, স্বপ্ন ও জাগরণে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু এখন আর তাকে শুধু অসুখ বলে ডাকি না।
আমি তার আরেকটি নাম দিয়েছি।
অতল থেকে ফিরে আসার দীর্ঘতম পথের সাথি “আতুর্গালী”।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান।
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে যেন আর কোনো অন্যায় না হয় এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভালোভাবে ফিরে আসেন—এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে যেন আর কোনো অন্যায় না হয় এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভালোভাবে ফিরে আসেন—এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।
"প্রকৃতি যখন নিজের রঙে সাজায় নিজেকে, তখন শব্দরা থমকে দাঁড়ায়; শুধু চোখ ভরে দেখে যেতে হয় এই নীরব সৌন্দর্য।"
এখন আর আগের মতো রেকর্ড করা হয়নি। ২০১৫ থেকে ২০ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল খুব আনন্দের
প্রযুক্তি ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্নকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মারাত্মক সব ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর বিবরণ প্রকাশ করেছে এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ১৫৪ পৃষ্ঠার একটি থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অপরাধী, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দল, স্পাইওয়্যার বিক্রেতা, বিজ্ঞানী এবং প্রোপাগান্ডা রচয়িতারা তাদের শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করে রাসায়নিক ও জৈব উপাদান, মিসাইল এবং বোমা ডিজাইনসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারির চেষ্টা চালিয়েছে।অ্যানথ্রোপিক তাদের প্রতিবেদনে…
প্রযুক্তি ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মারাত্মক সব ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর বিবরণ প্রকাশ করেছে এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ১৫৪ পৃষ্ঠার একটি থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অপরাধী, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত দল, স্পাইওয়্যার বিক্রেতা, বিজ্ঞানী এবং প্রোপাগান্ডা রচয়িতারা তাদের শক্তিশালী এআই মডেল ব্যবহার করে রাসায়নিক ও জৈব উপাদান, মিসাইল এবং বোমা ডিজাইনসহ ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারির চেষ্টা চালিয়েছে।
অ্যানথ্রোপিক তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এটি কোনো সাধারণ অপব্যবহারের ঘটনা নয়, বরং তাদের শনাক্ত করা এযাবৎকালের সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও নতুন ধরনের হুমকি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, গ্রাহকদের কাছে তাদের দেওয়া সেবার এমন অপব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ করা তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জৈব গবেষণায় এআই মডেলের অপব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানীদের পাঁচটি নির্দিষ্ট কেস স্টাডি বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অ্যানথ্রোপিক জানায়, এসব ক্ষেত্রে গবেষকরা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তাদের অবস্থান গোপন করেন এবং যে অঞ্চলগুলোতে সেবা পাওয়ার সুবিধা নেই, সেখানকার নিরাপত্তা দেয়াল টপকে কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তারা নিজেদের কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্যও গোপন রেখেছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সীমান্ত বা ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলগুলোর অন্যতম গুরুতর ঝুঁকি হলো এর জৈবিক অপব্যবহার। সঠিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকলে এমন সক্ষমতা চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এ ঘটনাগুলোর পর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে অ্যানথ্রোপিক। তবে গবেষকদের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হওয়ায় তাদের নাম, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিচয় বা গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়, রাশিয়ার হয়ে চালানো সাইবার স্পাইং, দ্রুত তথ্য চুরির মতো সাইবার হামলা, নজরদারি এবং অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ডেও ক্লাউড (Claude) এআই মডেল ব্যবহারের চেষ্টা চলেছে। যেমন চীনে সিরিয়ায় অবস্থানরত উইঘুরদের ওপর নজরদারি এবং রাশিয়ার পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ইরান ও বাংলাদেশে চালানো অপপ্রচার অভিযানের কথা এতে উঠে এসেছে। এ ছাড়া ইয়েমেন, চীন ও রাশিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র, মিসাইল, সশস্ত্র ড্রোন ও বোমার মতো প্রথাগত অস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরিতে এআই ব্যবহারের চেষ্টা দেখা গেছে।
জৈব গবেষণার একটি উদাহরণে বলা হয়, এক বিজ্ঞানী মশা বাহিত রোগ 'চিকুনগুনিয়া' ভাইরাসের ওপর রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে অনুদানের আবেদন তৈরিতে ক্লাউড এআই ব্যবহার করেন। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কয়েক মাস ধরে তীব্র ব্যথা ও জ্বর হতে পারে। এমন গবেষণা একদিকে যেমন ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজে লাগতে পারে, তেমনি অন্য দিকে এটি জৈব অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। একটি সামরিক গবেষণা ইনস্টিটিউটে এ সংক্রান্ত পড়াশোনা চলছিল বলে এ নিয়ে তারা বেশ উদ্বিগ্ন ছিল।
অ্যানথ্রোপিকের একজন সাবেক কর্মী জ্যাকব কক্সন পদত্যাগ করার মাত্র দুদিন পরই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হলো। জ্যাকব অভিযোগ করেন, অ্যানথ্রোপিক এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই এক দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিযোগিতায় মেতেছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে মানবজাতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। তবে অনেক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বলছেন, দূরবর্তী ভবিষ্যতের কল্পিত কোনো বিপর্যয়ের চেয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে এআইয়ের বাস্তব জীবনের হুমকিগুলো অনেক বেশি চিন্তার বিষয়।
প্রতিষ্ঠানটি জোর দিয়ে বলেছে, সাধারণ মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকা এই ঝুঁকিগুলো প্রতিরোধে কেবল একা কাজ করলে চলবে না। এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অপব্যবহার প্রতিরোধে পুরো শিল্প খাত ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সূত্র: The Guardian - Technology
খেলাধুলা ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্নইউএস ওপেনের নারী এককের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছেন এরিনা সাবালেঙ্কা ও আমেরিকান জেসিকা পেগুলা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে প্রথম সেট ৭-৫ গেমে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও আধিপত্য বজায় রেখে ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সাবালেঙ্কা।প্রথম সেটে দুই খেলোয়ারের সার্ভিস গেমের লড়াই ছিল বেশ তীব্র। ম্যাচের শুরু থেকেই পেগকার চমৎকার সার্ভিসের কারণে সেটে সমতা বজায় ছিল। তবে প্রথম সেটের শেষ মুহূর্তে…
খেলাধুলা ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
ইউএস ওপেনের নারী এককের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছেন এরিনা সাবালেঙ্কা ও আমেরিকান জেসিকা পেগুলা। নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে প্রথম সেট ৭-৫ গেমে জিতে নেওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও আধিপত্য বজায় রেখে ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সাবালেঙ্কা।
প্রথম সেটে দুই খেলোয়ারের সার্ভিস গেমের লড়াই ছিল বেশ তীব্র। ম্যাচের শুরু থেকেই পেগকার চমৎকার সার্ভিসের কারণে সেটে সমতা বজায় ছিল। তবে প্রথম সেটের শেষ মুহূর্তে এসে আগ্রাসী খেলা শুরু করেন দুইবারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সাবালেঙ্কা। শেষ নয়টি পয়েন্টের মধ্যে আটটি পয়েন্টই নিজের ঝুলিতে পুরে ৭-৫ গেমে প্রথম সেটটি পকেটে পুরেন তিনি।
দ্বিতীয় সেটেও নিজের দুর্দান্ত সার্ভ এবং সার্ভিস রিটার্নের ওপর ভর করে পেগুলাকে চাপে রাখেন সাবালেঙ্কা। পেগুলার দ্বিতীয় সার্ভিসের সুযোগ নিয়ে একের পর এক পাওয়ারফুল রিটার্ন ও উইনার মারেন এই বেলারুশিয়ান তারকা। একপর্যায়ে দ্বিতীয় সেটে ৫-২ গেমে এগিয়ে থেকে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি।
ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রথম সেট জেতার পর ক্যারিয়ারে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ১১টিতে হেরেছেন সাবালেঙ্কা। অন্যদিকে, প্রথম সেট হারার পর পেগুলার ফিরে আসার রেকর্ড ৯-২৩।
চলতি বছরের ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল ঘিরে রয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের নারী এককের সেমিফাইনালে শীর্ষ চার বাছাই খেলোয়াড় উঠে এসেছেন। গ্যালারিতে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাসহ বহু খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থেকে ম্যাচটি উপভোগ করছেন।
দিনের অন্য সেমিফাইনাল ম্যাচে কোকো গফ মুখোমুখি হবেন নতুন র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ব এক নম্বর স্থান অর্জন করা এলেনা রিবাকিনার। সাবালেঙ্কা ও পেগুলার মধ্যবর্তী জয়ী খেলোয়াড় তাদের মুখোমুখি বিজয়ী তারকার বিরুদ্ধে ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বেন।
সূত্র: The Guardian - Sport
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্নকলা ও ব্লুবেরি একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা স্মুদি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পডকাস্টে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বায়োমেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. রোন্ডা প্যাট্রিক এক পডকাস্টে দাবি করেছেন যে, ব্লুবেরি স্মুদিতে কলা যোগ করলে ব্লুবেরির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই বিষয়ের প্রভাব…
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ন
কলা ও ব্লুবেরি একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা স্মুদি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পডকাস্টে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বায়োমেডিকেল সায়েন্টিস্ট ড. রোন্ডা প্যাট্রিক এক পডকাস্টে দাবি করেছেন যে, ব্লুবেরি স্মুদিতে কলা যোগ করলে ব্লুবেরির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানী ও গবেষকরা বলছেন, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই বিষয়ের প্রভাব খুবই সামান্য এবং এটি নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।
ড. রোন্ডা প্যাট্রিকের মতে, কলায় পলিমার বা যৌগ ভাঙতে সক্ষম 'পলিফেনল অক্সিডেজ' নামক একটি এনজাইম বা পাচক রস থাকে। অন্যদিকে ব্লুবেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ বা পলিফেনল থাকে। তিনি দাবি করেন, কলায় থাকা এই এনজাইম ব্লুবেরির পলিফেনল ভেঙে ফেলে, যার ফলে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না।
এই দাবির পেছনে ২০২৩ সালের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়। যেখানে দেখা গিয়েছিল, কলার স্মুদির সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভানল গ্রহণকারীদের রক্তে এই উপাদানের উপস্থিতি অন্যান্য ফ্রুট স্মুদি গ্রহণকারীদের তুলনায় কম ছিল। তবে ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির অফিস ফর সায়েন্স অ্যান্ড সোসাইটির পরিচালক ড. জো শোয়ার্ৎস জানান, ওই গবেষণায় মাত্র আটজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যা থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। এছাড়া ওই গবেষণায় সরাসরি ব্লুবেরি ও কলা একসঙ্গে মিশিয়ে পরীক্ষা করা হয়নি।
ড. শোয়ার্ৎস আরও জানান, ব্লুবেরিতে থাকা সবচেয়ে প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো 'অ্যান্থোসায়ানিন', যা ব্লুবেরির রঙের জন্য দায়ী এবং হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু ওই গবেষণায় ব্লুবেরির প্রধান উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন পরিমাপই করা হয়নি; বরং পরিমাপ করা হয়েছিল কোকো থেকে নেওয়া ফ্ল্যাভানল। মজার বিষয় হলো, ওই গবেষণাটির অর্থায়ন করেছিল মার্স (Mars) নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যারা কোকো ও ফ্ল্যাভানল সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে।
খাদ্য পুষ্টিবিদদের মতে, খাবারে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পরস্পর মিথস্ক্রিয়া খুব সাধারণ একটি ঘটনা। যেমন ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণে সাহায্য করে, আবার পালং শাকের অক্সালেট উপাদান ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। তবে মিনিয়াপোলিসের নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান অ্যালিসা নর্থরপ জানান, একটি উপাদানের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাস নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া ঠিক নয়। সারাদিনে পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, কলা স্মুদিকে প্রাকৃতিক মিষ্টতা দেওয়ার পাশাপাশি এটি ঘন ও সুস্বাদু করে তোলে। এছাড়া কলায় পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম ও আঁশ বা ফাইবার থাকে। অন্যদিকে পলিফেনল সমৃদ্ধ খাবার হৃদযন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করলেও, এটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান হিসেবে বিবেচিত নয় এবং এর দৈনিক নির্দিষ্ট চাহিদার মাত্রা নির্ধারণ করা নেই।
যদি কেউ স্মুদিতে ব্লুবেরির সর্বোচ্চ পুষ্টি বজায় রাখা নিয়ে অতিমাত্রায় চিন্তিত থাকেন, তবে তিনি কলার বদলে আম বা আনারস ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া স্মুদি ঘন করার জন্য দই, ওটস, সিল্কেন টফু, অ্যাভোকাডো কিংবা বরফ করা ফুলকপিও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামগ্রিক স্বাস্থ্য কেবল স্মুদিতে কলা দেওয়া বা না দেওয়ার ওপর নির্ভর করে না; বরং বৈচিত্র্যময় ফলমূল খাওয়া ও সক্রিয় জীবনযাপনই আসল চাবিকাঠি।
সূত্র: The Guardian - Health
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্নগ্রীষ্মকালীন পাঁচটি তীব্র দাবদাহের ধাক্কায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) চরম চাপের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরম মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নজিরবিহীন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা বাড়ার পর ইংল্যান্ডের জরুরি বিভাগ (এ অ্যান্ড ই), অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং এনএইচএস ১১১ পরামর্শ লাইনে সেবা নেওয়ার হার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এনএইচএস ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পারফরম্যান্স পরিসংখ্যানে এই…
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
গ্রীষ্মকালীন পাঁচটি তীব্র দাবদাহের ধাক্কায় যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) চরম চাপের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরম মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নজিরবিহীন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা বাড়ার পর ইংল্যান্ডের জরুরি বিভাগ (এ অ্যান্ড ই), অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং এনএইচএস ১১১ পরামর্শ লাইনে সেবা নেওয়ার হার আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এনএইচএস ইংল্যান্ডের সর্বশেষ পারফরম্যান্স পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের জরুরি পরিস্থিতির কারণে এনএইচএস এখন দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে। শীতকালের পাশাপাশি এখন গ্রীষ্মকালেও চিকিৎসা সেবার চাহিদা চরম মাত্রায় পৌঁছানোয় স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় থাকছে না।
কিং’স ফান্ড নামের স্বাস্থ্য বিষয়ক থিংকট্যাংকের প্রধান নির্বাহী সারাহ উলনফ জানান, চরম তাপমাত্রা এখন কেবল আবহাওয়ার খবর নয়, এটি এনএইচএসের ওপর বড় এক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনএইচএস এখন জোড়া সংকটের মুখে পড়েছে, যেখানে শীতের সাথে সাথে গ্রীষ্মও সেবার প্রধান চাপ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে এবং রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ নিয়মিত হওয়ায় মানুষের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব বেশ স্পষ্ট।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে ইংল্যান্ডের এ অ্যান্ড ই ইউনিটগুলোতে প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন, যা যেকোনো গ্রীষ্ম মৌসুমের জন্য সর্বোচ্চ। এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, মোট ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫ জন রোগী জরুরি বিভাগে এসেছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৪০ হাজার বেশি। এমনকি ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ১০ লাখ বেশি মানুষ জরুরি বিভাগে এসেছেন।
এনএইচএসের অন্যান্য জরুরি সেবাদানেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এই গ্রীষ্মে রেকর্ড ২৪ লাখ ৬০ হাজার অ্যাম্বুলেন্স কল পাওয়া গেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া এনএইচএস ১১১ হেল্পলাইন গ্রীষ্মের মাসগুলোতে ৩০ লাখের বেশি কল রিসিভ করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখের বেশি।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের জাতীয় মেডিকেল ডিরেক্টর প্রফেসর ফ্রাঙ্কি সোর্ডস জানান, তীব্র খরতাপের এই গ্রীষ্মে সেবা নেওয়ার চাহিদা রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সেবাদানে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ইভেট কুপার স্বীকার করেছেন যে, তীব্র তাপমাত্রা এনএইচএসের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং অতিরিক্ত সেবার চাহিদা এখন আর কেবল শীতকালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি ঘোষণা দেন, নতুন অপারেশন থিয়েটার, শিশুদের ওয়ার্ড, উন্নত মাতৃত্বকালীন ইউনিট নির্মাণ এবং তীব্র গরম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এনএইচএস ফান্ড থেকে ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ করা হবে।
তবে যুক্তরাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন বিভাগ (ডিএইচএসসি) জানিয়েছে, ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের মধ্য থেকে হাসপাতালগুলোকে অতি-উত্তাপ বা গরম প্রতিরোধ উপযোগী করার জন্য মাত্র ৩২ মিলিয়ন পাউন্ড রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি তীব্র গরম মোকাবিলায় এনএইচএসকে সহায়তা করতে ডিএইচএসসি একটি ‘হিট টাস্কফোর্স’ গঠন করেছে।
অ্যাজমা প্লাস লাং ইউকে দাতব্য সংস্থার বহিরাগত বিষয়ক পরিচালক অ্যান্ড্রিউ ম্যাকক্র্যাকেন জানান, আগস্ট মাস বিশ্বজুড়ে যৌথভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস ছিল এবং এর প্রভাব সরাসরি দেশের হাসপাতালগুলোতে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডে জরুরি ভর্তির পেছনে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাই মূল কারণ এবং এই গ্রীষ্মে রোগী বৃদ্ধির পেছনে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে।
ম্যাকক্র্যাকেন ব্যাখ্যা করেন, তাপমাত্রা বাড়লে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এর ওপর দাবানলের ধোঁয়া, অতিরিক্ত বায়ুচাপের ফলে আটকে থাকা দূষণ এবং দীর্ঘায়িত পরাগরেণুর ঋতু ফুসফুসের জটিলতায় ভোগা রোগীদের জন্য বড় সংকট তৈরি করে।
অন্যদিকে, সরকারের জন্য আরও উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে হাসপাতালের অপেক্ষমাণ তালিকা বেড়ে ৭৩ লাখে পৌঁছেছে, যা গত অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এই বৃদ্ধির ফলে ২০২৯ সালের মধ্যে অপেক্ষমাণ তালিকার ৯২ শতাংশ মানুষকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে চিকিৎসার আওতায় আনার সরকারি প্রতিশ্রুতি পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূত্র: The Guardian - Health
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্নযুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সে 'টার্মিনালি ইল অ্যাডাল্টস (এন্ড অব লাইফ)' বিলের ওপর দ্বিতীয় দফায় ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। এই বিলটি পাস হলে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ও জীবনসায়াহ্নে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা চিকিৎসকের সহায়তায় নিজেদের জীবনাবসানের অনুরোধ ও অধিকার পাবেন। এই সুযোগ হাতছাড়া হলে বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদে এ ধরনের কোনো সামাজিক সংস্কারমূলক আইন পাসের আর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।বিলের সমর্থনে যুক্ত দেওয়া বক্তব্যে বলা…
স্বাস্থ্য ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সে 'টার্মিনালি ইল অ্যাডাল্টস (এন্ড অব লাইফ)' বিলের ওপর দ্বিতীয় দফায় ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। এই বিলটি পাস হলে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ও জীবনসায়াহ্নে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা চিকিৎসকের সহায়তায় নিজেদের জীবনাবসানের অনুরোধ ও অধিকার পাবেন। এই সুযোগ হাতছাড়া হলে বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদে এ ধরনের কোনো সামাজিক সংস্কারমূলক আইন পাসের আর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
বিলের সমর্থনে যুক্ত দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে প্রতিদিন গড়ে ১৭ জন মানুষ মারাত্মক যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন, যা কোনো উপশমকারী চিকিৎসাতেই দূর করা সম্ভব হয় না। 'ডিগনিটি ইন ডাইং'-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনের শেষ দিনগুলোতে কঠিন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয় অনেক রোগীকে। সেরা প্যালেটিভ কেয়ার বা উপশমকারী সেবা পাওয়ার পরেও অনেকের শারীরিক কষ্ট কমানো সম্ভব হয় না।
বিলের বিরোধীরা মূলত প্যালেটিভ কেয়ার বা সেবা ব্যবস্থার উন্নতির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন। তবে সমর্থকদের মতে, প্যালেটিভ কেয়ার যত উন্নতই হোক না কেন, অনেক ক্ষেত্রে তা চরম শারীরিক যন্ত্রণা ঠেকাতে পারে না। ফলে এই মুহূর্তে যারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের সাহায্য না করে ভবিষ্যতের সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে বলা অনুচিত।
চিকিৎসাসাহায্যে মৃত্যুর সুযোগ না থাকায় অনেক অসুস্থ মানুষ চরম মানসিক চাপে আত্মহত্যা বা বিপজ্জনক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের 'ডিগনিটাস'-এর মতো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জীবনাবসান ঘটাতে প্রায় ১৫,০০০ পাউন্ড খরচ হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এই দূরযাত্রায় অনেকেই স্বজনদের ছাড়া শেষ বিদায় নিতে বাধ্য হন। এছাড়া আইনগত আইনি জটিলতা ও ভয়ের কারণে অনেকে একাকী ও লুকিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেন।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতিটি সংসদীয় আসনে এই বিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন রয়েছে। কিম লিডবিটারের আনা এই বিলটি আগে লেবার, কনজারভেটিভ, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, রিফর্ম এবং গ্রিন পার্টির এমপিদের সমর্থনে জয়ী হয়েছিল। তবে লর্ডস সভার কয়েকজন সদস্য ১২০০টিরও বেশি সংশোধনী এনে ভোটাভুটি বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে।
হিউম্যানিস্টস ইউকে-র তথ্য অনুযায়ী, লর্ডস সভায় বিলটি আটকে থাকার সময়কালের মধ্যেই অন্তত ৪৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক সুইজারল্যান্ডে গিয়ে জীবনাবসান ঘটিয়েছেন। আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা এই বিলে ভোট দিয়ে একটি বড় সামাজিক পরিবর্তনের পথ সুগম করেন এবং অসুস্থ মানুষের ভোগান্তি অবসান ঘটান।
সূত্র: The Guardian - Health
ইসলাম ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্নসুইডেনে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র ডানপন্থী শক্তিগুলোর অব্যাহত ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার জবাব দিতে রাস্তায় নেমেছেন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়। সুয়েডীয় মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে ইসলাম সাংঘর্ষিক—উগ্র ডানপন্থীদের এমন দাবির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে 'আস্ক-এ-মুসলিম' (Fråga en Muslim) নামের একটি বিশেষ প্রচার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।২০১৭ সালে সুইডেনে জন্মগ্রহণকারী ইমাম কাশিফ ভির্ক এই কর্মসূচির সূচনা করেন। আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ডজন খানেক স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় এই অভিযানের আওতায়…
ইসলাম ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৪ পূর্বাহ্ন
সুইডেনে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র ডানপন্থী শক্তিগুলোর অব্যাহত ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার জবাব দিতে রাস্তায় নেমেছেন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়। সুয়েডীয় মূলধারার মূল্যবোধের সঙ্গে ইসলাম সাংঘর্ষিক—উগ্র ডানপন্থীদের এমন দাবির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে 'আস্ক-এ-মুসলিম' (Fråga en Muslim) নামের একটি বিশেষ প্রচার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৭ সালে সুইডেনে জন্মগ্রহণকারী ইমাম কাশিফ ভির্ক এই কর্মসূচির সূচনা করেন। আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ডজন খানেক স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় এই অভিযানের আওতায় ১৫০টিরও বেশি কৃষক বাজার, শহরের স্কয়ার ও নগরকেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ পথচারীদের ইসলাম সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ধর্ম নিয়ে সমাজে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ভুল ধারণা দূর করা এবং সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
ইমাম কাশিফ ভির্ক জানান, কিছু উগ্রপন্থী দল ও মানুষের কারণে সাধারণ মানুষ ইসলাম নিয়ে সত্যি ভীত। তবে বেশিরভাগ সুইডিশ নাগরিক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ এবং তারা ইসলাম সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে উগ্র ডানপন্থী 'সুইডেন ডেমোক্র্যাটস' দলের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির ফলে অভিবাসী ও মুসলিমদের লক্ষ্য করে নানা নেতিবাচক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে।
নির্বাচনের মুখে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, মধ্য-বামপন্থী বিরোধী দলগুলো সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে ডানপন্থী ক্ষমতাসীন জোট যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসে, তবে তারা এবারই প্রথম উগ্র ডানপন্থীদের মন্ত্রীসভার পদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সুইডেনের মুসলিম ও অভিবাসীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
ক্লেনিকাল ও সামাজিকভাবে উগ্র ডানপন্থীদের নীতি মূলধারার রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। গত চার বছরে অভিবাসন ও অপরাধ ইস্যুতে মূলধারার দলগুলোও ডানপন্থীদের সুরেই কথা বলতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে সুইডেনে বেশ কয়েকটি মসজিদে হামলা ও পবিত্র কুরআন অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ওরেব্রো শহরে অভিবাসী পটভূমির বেশ কয়েকজন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৮ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস। দক্ষিণপন্থী রাজনীতির উগ্রতা ও অভিবাসন নীতি কঠোর করার ফলে অনেক অভিবাসী ও মুসলিম পরিবার এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। গবেষক ও সমাজকর্মীদের মতে, সুইডেনে মুসলিমদের স্বাভাবিক ভবিষ্যৎ থাকবে কি না—এমন এক সংকটাপন্ন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশটি।
সূত্র: The Guardian - Islam
ইসলাম ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম আমেরিকানরা একটি জটিল ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে জীবনযাপন করতে শিখেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অন্য আমেরিকানদের ভয় এবং অজ্ঞতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে হয়েছে এই সম্প্রদায়কে। হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তীব্র সহিংসতার ঢেউ দেখা যায়, যেখানে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের পদক্ষেপ…
ইসলাম ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম আমেরিকানরা একটি জটিল ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে জীবনযাপন করতে শিখেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অন্য আমেরিকানদের ভয় এবং অজ্ঞতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে হয়েছে এই সম্প্রদায়কে। হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তীব্র সহিংসতার ঢেউ দেখা যায়, যেখানে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সেই সময় মার্কিন জনগণের মধ্যে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা দূর করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০০৬ সালের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা জানতেন যে মুসলিমরা খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের মতোই একই ঈশ্বরের উপাসনা করেন। এমনকি প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করতেন যে মুসলিমরা চন্দ্র দেবতার পূজা করেন। এই ভয় ও অজ্ঞতা গত এক চতুর্থাংশ শতাব্দী জুড়ে মার্কিন সমাজে নানাভাবে বজায় রয়েছে।
গবেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষী ঘটনাগুলো কেবল বড় কোনো সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘটে না। নিউ আমেরিকা ফাউন্ডেশন ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মতো প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচন সামনে এলেই মূলত ইসলামফোবিয়া বা মুসলিমবিদ্বেষ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। নির্বাচনী প্রচারণায় নেতাদের বক্তব্য এবং জাতীয় সংকটের ভাষা মার্কিন জনগণের মানসিকতা গঠনে বড় প্রভাব ফেলে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির অনেক রাজনীতিকের কণ্ঠে চরম মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য শোনা যাচ্ছে। ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমার মুসলিমদের সরকারি পদে আসীন হওয়া নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ন্যান্সি মেস এবং র্যান্ডি ফাইনও একই ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া টেক্সাস এবং মিশিগানের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে মুসলিম রাজনীতিবিদ ও সংগঠনগুলোকে লক্ষ্য করে মিথ্যা অভিযোগ ও কঠোর আইন তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট দেশটির অন্যতম বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা 'কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস' (কেয়ার)-কে বিদেশি সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, মুসলিমদের অধিকার হরণের জন্য গৃহীত এসব ব্যবস্থা কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা পুরো দেশের গণতন্ত্র ও সার্বিক নাগরিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি তৈরি করে।
এতসব বাধা সত্ত্বেও মুসলিম আমেরিকানরা রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার ও সংগঠিত হয়েছেন। একটি সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রেকর্ড ২৫৫ জন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১১ জন মেয়র, ১৮ জন বিচারক এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪ জন সদস্য রয়েছেন। নির্বাচিত এই মুসলিম প্রতিনিধিদের মধ্যে ৪৩ শতাংশেরই বেশি নারী।
জোহরান মামদানী এবং আবদুল এল-সায়ৈদের মতো উদীয়মান মুসলিম নেতারা সর্বজনীন জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন পানি, শিশুদের যত্ন এবং সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে তাঁদের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হলেও মুসলিম আমেরিকানরা সবার অধিকার রক্ষা এবং সার্বিক সমাজ উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: The Guardian - Islam
ইসলাম ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্নযুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ইসলামোফোবিয়ার ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেছেন সাংবাদিক ও লেখক রোঝিনা আলী। দ্য গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ৯/১১-এর অনেক আগেই ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ইসলামোফোবিয়ার বিস্তার শুরু হয়েছিল। তাঁর নতুন বই ‘সিজন্স অব ফিউরি’-তে তিনি এই বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।ক্যালফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা…
ইসলাম ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে দেশটিতে ইসলামোফোবিয়ার ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেছেন সাংবাদিক ও লেখক রোঝিনা আলী। দ্য গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ৯/১১-এর অনেক আগেই ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ইসলামোফোবিয়ার বিস্তার শুরু হয়েছিল। তাঁর নতুন বই ‘সিজন্স অব ফিউরি’-তে তিনি এই বিষয়ের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।
ক্যালফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠা রোঝিনা আলী জানান, ২০০০-এর দশকের শুরুতে তাঁর শৈশব স্বাভাবিক ছিল। যখন তিনি পাঁচ বছরের শিশু, তখন তাঁর পরিবার পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। ৯/১১ হামলার পর তাঁর বাবা-মা যখন জানান যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে এবং মুসলিমরা সন্দেহের তালিকায় পড়বে, তখন তিনি তা মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁর বাবা-মার ভয় অমূলক ছিল না।
রোঝিনা আলীর লেখা ‘সিজন্স অব ফিউরি’ বইটিতে চারটি পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭০-এর দশকের আরব-আমেরিকান আইনজীবী আবদীন জাবারার কথা উল্লেখ রয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) কর্তৃক নজরদারির শিকার হওয়া প্রথম মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিতি পান। এ ছাড়া বইটিতে ৯/১১-এর পর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দণ্ডিত মুসলিম পুরুষদের সূক্ষ্ম অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের মে মাসের এক জরিপ উদ্ধৃত করে সাক্ষাৎকারে বলা হয়, অধিকাংশ আমেরিকান মুসলিম দৈনন্দিন জীবনে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ৯/১১-এর পর থেকে পরবর্তী ২৫ বছরে যে সব মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে সহিংসতা প্রসারে বেশি ভূমিকা রাখে, তাঁদের হার দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো কিছু অঙ্গরাজ্য দেশটির দীর্ঘদিনের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ (কেয়ার)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ বিষয়ে রোঝিনা আলী মন্তব্য করেন, কেয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করে বন্ধ করার চেষ্টা চলছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের জন্য আশঙ্কাজনক।
ইতিহাসের মোড়গুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে রোঝিনা বলেন, ১৯৬৭ সালের ইসরায়েল-আরব যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আরব-আমেরিকানদের ওপর রাজনৈতিক নজরদারি শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে ঘটনার পর নিক্সন প্রশাসন আরব-আমেরিকানদের ওপর ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি চালু করে। এর পর ১৯৯০-এর দশকে রাজনৈতিক ইসলামের উত্থান এবং ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের ফলে প্রচুর মুসলিম যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রেক্ষাপটে পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের নীতির প্রেক্ষাপটে ইসলামোফোবিয়াকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করেন এই লেখক। জোহরান মামদানী ও আবদুল এল-সায়েদের মতো নতুন প্রজন্মের মুসলিম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, তা ৯/১১-পরবর্তী সন্দেহের পরিবেশকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
রোঝিনা আলীর মতে, ৯/১১-এর পর গঠিত ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতো সংস্থা ও আইনগুলো যেভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছিল, সেগুলো এখন অন্যান্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এক্সিকিউটিভ ক্ষমতার এই প্রসারের কারণে বর্তমানে যেকোনো সমালোচক বা রাজনৈতিক বিরোধীকে লক্ষ্যবস্তু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ক্রাউন পাবলিশিং গ্রুপ থেকে রোঝিনা আলীর ‘সিজন্স অব ফিউরি’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: The Guardian - Islam
Published newsroom dispatches by Liton Hossain Jihad.
Visual work published by this member.
Selected published work from this profile.

A digital ecosystem is taking shape for journalists, writers, content creators, students, educators and independent professionals, where users…

ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট…

মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না। সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান।

‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের…

‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের…

“প্রকৃতি যখন নিজের রঙে সাজায় নিজেকে, তখন শব্দরা থমকে দাঁড়ায়; শুধু চোখ ভরে দেখে যেতে হয় এই নীরব…

এখন আর আগের মতো রেকর্ড করা হয়নি। ২০১৫ থেকে ২০ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল খুব আনন্দের

পথিকটিভি স্টোর

ব্রিটেনের একটি স্থানীয় প্রাণী উদ্ধার সংস্থায় অদ্ভুত এক ফোন আসে একবার। জানানো হয়, একটি কাঠবিড়ালি মাথায় কিছু একটা…

পথিকটি়ভির সংবাদ সেকশন এখন নতুন ভাবে আসছে!
থাকতে জীবন পাইনি যারে | Thakte Jibon Paini Jare। Tofa Akbar ।। Pothiktv Music -2026
Skills stored in this member's professional account.
Achievements and accolades stored for this member.
To: Liton Hossain Jihad
Private messages are stored by PothikTV. Do not assume end-to-end encryption unless a separate secure channel is configured.
Update, lead, inquiry, event, poll, visual or announcement
In Safari, tap Share, then choose Add to Home Screen.






