জাজিরাতুল আরব থেকে সৌদি আরব: ইতিহাস, নজদ, ইয়েমেন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত দাবির বাস্তবতা ↗
PothikTV
September 17, 2026
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
प्रतिष्ठा बन रही है
daily sokaler somay, bangladesher khabor, sobuj bangla, songbad
BSS, LLB, post graduate journalism
प्रतिष्ठा बन रही है
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
PothikTV
September 1, 2026
PothikTV
June 8, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
PothikTV
September 1, 2026
PothikTV
June 8, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
May 23, 2026
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের…
ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট নেই। ফেরাও হবে না আর। পাহাড়ের ওপারে পড়ে থাক তোমার কুৎসিত ভাবনার সেই বিবর্ণ নগর, তার বিষণ্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ুক অভিশাপের অন্ধকার; বিষাক্ত হাওয়ার মতো তা স্পর্শ করুক সেইসব হৃদয়কে, যারা ভালোবাসার পবিত্রতাকে চিনতে শেখেনি।
ুািাি
ুািাৃু
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না। সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো পরীক্ষাগারে তার জীবাণু ধরা পড়ে না। তবু সে আমার রক্তের ভেতর অনুবাদহীন এক অন্ধকার হয়ে ঘোরে। কখনও মেঘের কালো পশম পরে এসে বসে বুকের ওপর, কখনও চোখের ভেতর গড়ে তোলে বৃষ্টিহীন শ্রাবণ। আমি বুঝতে পারি, আমার শরীরের চেয়ে আমার ছায়াটাই আজকাল বেশি অসুস্থ। আমার ডাইনে অসুখ। বাঁয়ে অসুখ। সামনে গেলে অসুখ দাঁড়িয়ে…
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না।
সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো পরীক্ষাগারে তার জীবাণু ধরা পড়ে না। তবু সে আমার রক্তের ভেতর অনুবাদহীন এক অন্ধকার হয়ে ঘোরে। কখনও মেঘের কালো পশম পরে এসে বসে বুকের ওপর, কখনও চোখের ভেতর গড়ে তোলে বৃষ্টিহীন শ্রাবণ। আমি বুঝতে পারি, আমার শরীরের চেয়ে আমার ছায়াটাই আজকাল বেশি অসুস্থ।
আমার ডাইনে অসুখ।
বাঁয়ে অসুখ।
সামনে গেলে অসুখ দাঁড়িয়ে থাকে দরজার মতো, পেছনে ফিরলে দেখি সে-ই আমার পদচিহ্ন হয়ে আমাকে অনুসরণ করছে।
সুখের মধ্যেও এখন অসুখের গন্ধ পাই। হাসির নিচে দেখি ভাঙা কাচের স্তর, উৎসবের আলোয় আবিষ্কার করি মৃত জোনাকিদের সংসার। কেউ যখন বলে, “ভালো আছো?”, তখন আমার ভেতরে সহস্র বছর পুরোনো কোনো ধ্বংসস্তূপ থেকে ধুলো উড়ে আসে। উত্তর দিতে গিয়ে দেখি ভাষা নেই, কেবল কয়েকটি নির্বাসিত শব্দ আমার কণ্ঠনালির কাছে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
রাত হলে এই অসুখ আরও নিঃশব্দ হয়।
আর নিঃশব্দ হলেই সে আরও ভয়ংকর।
তখন ঘড়ির কাঁটাগুলো সময় মাপে না, আমার অনুপস্থিতি মাপে। দেয়ালের ছায়া লম্বা হতে হতে একসময় আমার শয্যার পাশে বসে পড়ে। জানালার বাইরে চাঁদকে মনে হয় বহুদিন আগে হারিয়ে যাওয়া কোনো মানুষের মুখ, যে ফিরে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু পৃথিবীর ঠিকানা ভুলে গেছে।
ভোর হয়।
লোকেরা তাকে নতুন দিন বলে।
আমার কাছে ভোর হলো রাতের ক্ষতের ওপর সামান্য আলো রেখে দেওয়া। সূর্য ওঠে, পাখি ডাকে, রাস্তা জেগে ওঠে, চায়ের দোকানে কথাবার্তা জমে, মানুষেরা নিজেদের প্রয়োজনের দিকে ছুটে যায়। অথচ আমার ভেতরে তখনও রাতের একটি কালো পাখি ডানা মেলে বসে থাকে। তার ঠোঁটে কোনো গান নেই, আছে কেবল এক অনিবার্য বিষণ্নতার বীজ।
সকাল আমাকে গিলে খায়।
দুপুর আমাকে গিলে খায়।
বিকেল এসে আমার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়ে।
আর সন্ধ্যা যেন অদৃশ্য কোনো পুরোহিত, প্রতিদিন আমার হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর শ্রাদ্ধ করে যায়।
ঋতুও আমাকে রক্ষা করতে পারে না।
বসন্ত এলে পৃথিবী যখন পলাশের আগুনে রঙিন হয়, আমার ভিতরে তখন পাতা ঝরে। শীতের কুয়াশা নামলে অন্যেরা উষ্ণতার কাছে ফেরে, আমি আরও দূরে সরে যাই নিজের কাছ থেকে। বর্ষায় আকাশ কাঁদলে আমার মনে হয়, সে আমার ভাষা চুরি করেছে। শরৎ তার নির্মল নীল নিয়ে আসে, অথচ আমার আকাশে তখনও জমে থাকে বহু জন্মের অমীমাংসিত মেঘ।
এই অসুখ আমাকে গিলে গিলে খায়।
একবারে নয়।
একটু একটু করে।
প্রথমে সে আমার ঘুম খায়, তারপর স্বপ্ন। তারপর অপেক্ষা। তারপর কোনো এক অসতর্ক দুপুরে এসে আমার বিশ্বাসের একটি অংশ ছিঁড়ে নিয়ে যায়। একদিন দেখি, যে মানুষটি আয়নায় দাঁড়িয়ে আছে সে দেখতে ঠিক আমার মতো, কিন্তু তার চোখে আমার বাস নেই।
আমি তখন নিজের নাম ধরে নিজেকেই ডাকি।
কেউ উত্তর দেয় না।
আমার মনে হয়, আমি বুঝি বহুদিন আগে মারা গেছি, এখন কেবল আমার অভ্যাসগুলো বেঁচে আছে। তারা সকালে উঠে, মুখ ধোয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলে, প্রয়োজনমতো হাসে, রাস্তায় হাঁটে, কাজ করে, ফিরে আসে। আর আসল আমি কোনো পরিত্যক্ত রেলস্টেশনে বসে আছি, যেখানে কোনো ট্রেন থামে না, শুধু দূর থেকে হুইসেলের শব্দ আসে।
সেই স্টেশনের নাম হয়তো বিষণ্নতা।
অথবা স্মৃতি।
অথবা এমন কোনো ভালোবাসা, যার মৃতদেহ কেউ কখনও খুঁজে পায়নি।
কখনও মনে হয়, আমার বুকের মধ্যে একটি প্রাচীন নগর ডুবে আছে। সেখানে ভাঙা মিনার, নিভে যাওয়া প্রদীপ, বন্ধ জানালা, জনশূন্য অলিগলি। মাঝরাতে সেখানে কারা যেন হাঁটে। হয়তো তারা আমার অপূর্ণ ইচ্ছেরা। হয়তো যে কথাগুলো কখনও বলা হয়নি, তারা মানুষ হয়ে ফিরে এসেছে।
তারা আমার দরজায় দাঁড়িয়ে বলে,
“আমাদের কবর দিলে না কেন?”
আমি কীভাবে বোঝাই, আমার ভেতরে কবর দেওয়ার মতো মাটিও আর অবশিষ্ট নেই?
সবটাই এখন ধ্বংসাবশেষ।
তবু আশ্চর্য, এই অনন্ত মন খারাপের মধ্যেও কোথাও একটি ক্ষীণ স্পন্দন থেকে যায়। সমস্ত নক্ষত্র নিভে যাওয়ার পরও যেমন মহাশূন্য সম্পূর্ণ অন্ধকার হয় না, তেমনি আমার সমস্ত ভাঙনের নিচে অতি ক্ষুদ্র একটি আলো শ্বাস নেয়।
হয়তো তার নাম বেঁচে থাকা।
হয়তো তার নাম কবিতা।
হয়তো মানুষের সমস্ত দুঃখের শেষ গোপন বিদ্রোহই হলো, এতকিছুর পরও সে একদিন জানালা খুলে দেয়।
আমি জানি না এই অসুখ কোনোদিন যাবে কি না।
হয়তো যাবে না।
হয়তো একদিন আমি আর সে একই শরীরের দুই বাসিন্দা হয়ে যাব। সে আমার পাশে বসে থাকবে, আমি তাকে চা দেব। আমরা দুজন মিলে পুরোনো দিনের কথা বলব। আমি তাকে জিজ্ঞেস করব,
“এতকাল আমাকে কেন ছাড়োনি?”
সে হয়তো মৃদু হেসে বলবে,
“তোমার ভেতরে যে এত আলো ছিল, তার ঠিকানা জানতাম না। তাই অন্ধকার হয়ে তোমাকে খুঁজেছি।”
সেদিন হয়তো প্রথমবার বুঝব, মন খারাপ সবসময় ধ্বংসের নাম নয়।
কিছু কিছু মন খারাপ মানুষকে গভীর করে।
কিছু কিছু শূন্যতা মানুষকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে।
কিছু কিছু অন্ধকারই শেখায়, আলো আসলে কতখানি অলৌকিক।
তবু আজও বলি,
মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না।
মেঘ-কালো এই অসুখ আমার চোখে, বুকে, ডাইনে, বাঁয়ে, সকাল-দুপুর-বিকেল, বসন্ত-শীত, স্বপ্ন ও জাগরণে ঘুরে বেড়ায়।
কিন্তু এখন আর তাকে শুধু অসুখ বলে ডাকি না।
আমি তার আরেকটি নাম দিয়েছি।
অতল থেকে ফিরে আসার দীর্ঘতম পথের সাথি “আতুর্গালী”।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান।
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে যেন আর কোনো অন্যায় না হয় এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভালোভাবে ফিরে আসেন—এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে যেন আর কোনো অন্যায় না হয় এবং তিনি সুস্থ হয়ে ভালোভাবে ফিরে আসেন—এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।
"প্রকৃতি যখন নিজের রঙে সাজায় নিজেকে, তখন শব্দরা থমকে দাঁড়ায়; শুধু চোখ ভরে দেখে যেতে হয় এই নীরব সৌন্দর্য।"
@pothiktv1 · Journalist · Brahmanbaria
A quick introduction for the PothikTV community.
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
Professional experience, education and languages.
Goals, milestones and personal values.
লিটন হোসাইন জিহাদ: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মেরুদণ্ড, কিন্তু তারা আজ হারিয়ে যাচ্ছে অবমূল্যায়নের ল্যাবরিতে। জীবনের লড়াইয়ে তারা ভাট্টার মুখ দেখেন—পাঁচ বিঘা জমিতে আলু উৎপাদন করে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি করেন, আর সেই অর্থে বাজার থেকে কিনতে হয় সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা কেজিতে। মূল্যের এ বিশাল ফাঁক শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি আর্থ-সমাজব্যবস্থার সমালোচনা। এ দেশের কৃষকদের ৮৫ % ছোট খামারি (smallholder) হিসেবে ভূমিতে কাজ করে, অথচ উৎপাদনের…
লিটন হোসাইন জিহাদ: বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মেরুদণ্ড, কিন্তু তারা আজ হারিয়ে যাচ্ছে অবমূল্যায়নের ল্যাবরিতে। জীবনের লড়াইয়ে তারা ভাট্টার মুখ দেখেন—পাঁচ বিঘা জমিতে আলু উৎপাদন করে ১৫ টাকা কেজি বিক্রি করেন, আর সেই অর্থে বাজার থেকে কিনতে হয় সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা কেজিতে। মূল্যের এ বিশাল ফাঁক শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি আর্থ-সমাজব্যবস্থার সমালোচনা। এ দেশের কৃষকদের ৮৫ % ছোট খামারি (smallholder) হিসেবে ভূমিতে কাজ করে, অথচ উৎপাদনের স্বারগীয়তায় তারা নাজেহাল। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত কৃষকদের আয় উৎসের ভিন্নতার চিত্র শিক্ষনীয়—কৃষি, মজুরি ও প্রবাসী রেমিট্যান্সের সবকিছু মিলিয়ে, কৃষিকাজ শুধুমাত্র সুবিধা নয়, বরং সকল অর্থনীতি-সংক্রান্ত বৈষম্যের মূল চালক ।
প্রক্রিয়ায় কৃষকের ফসল সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হলেও মধ্যস্বত্বভোগীরা (পাইকার, আড়তদার) আরোপ করে মূল্যের ন্যায্য ভারসাম্য। ফলে উৎপাদক কৃষকের আয় অপুষ্টিকর এবং অনিশ্চিত। শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর বিদ্যুত, সার, বীজ, কীটনাশক—সবকিছুতেই টাকা বেশি লাগে, কিন্তু পণ্যের মূল্য ততটা উঠেনা। ভিটে-মাটি, শ্রম, ফসল—সব্বাই অকৃত্রিম হয়ে যায়।
এবার ভাবুন, আপনি যদি স্বাধীন হন—অর্থাৎ “নিজের প্রয়োজন নিজেই মেটান”—এটি শুধু ব্যক্তিগত প্রোভিশন নয়, বরং একটি আত্মনির্ভর কৃষি দর্শন। আপনার পাঁচ শতক জমিতে সরিষা চাষ করলে বাজার থেকে তেল কেনার প্রয়োজন কমে; দুই শতক জমিতে দেশি মুরগি ও ছাগল রাখলেও পুষ্টি ও আয় উভয়ই বাড়ে। পাশাপাশি পাশেই তৈরি করা পুকুরে দেশি মাছ ও হাস ছাড়া অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আসতে পারে। এতে উন্নত বা বাজারনির্ভর মডেল না মিনিয়ে, প্রাকৃতিক সম্পদ ও নিজস্ব চেষ্টায় নিজেকে ছাড়া যায়।
কিন্তু এই দর্শন বাস্তবে পৌঁছাতে হলে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগত সহায়তা জরুরি। বাংলাদেশের কৃষকদের প্রাধান্য এমনভাবে তৈরি করা উচিত যেন তারা সহজেই বাজার, তথ্য, ঋণ ও প্রযুক্তি পাচ্ছে। FAO ও GAFSP এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন—বিশেষভাবে ডিজাইন করা কৃষক-সংগঠন (Producers’ Organizations) গড়ে তোলার মাধ্যমে ঋণ, বাজার ও প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি এনে প্রায় ৩৫ % পর্যন্ত আয়ের বৃদ্ধি সম্ভব । একtez পদ্ধতিতে шилেকের মতো প্রকল্পে ১১ হাজার ক্ষুদ্র কৃষকের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, কৃষকদের লাখ লাখ সদস্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষা দেয়া হলে ঝুঁকি কম এবং আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।
তবে এই ব্যবস্থাপনা পুরোটাই উপলব্ধ নয়। বাংলাদেশের কৃষি এখনও বাকি রয়ে গেছে ঐতিহ্যবাদী, প্রযুক্তিহীন ও অসংগঠিত। বোরো বা আমন চালসহ প্রধান ফসলের উৎপাদনে মেকানাইজেশন ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া হয়নি। ফলে বছরে বারোটা বছরই কৃষক নির্ভর করে দুর্যোগ, এমনকি এমন দুর্যোগ যা নদীর বন্যা, টানা তাপপ্রবাহ বা খরা—এগুলো ক্ষতি করে ফসল এবং কৃষকের আয়কে ভেঙে ফেলে
ফসল হারিয়ে যায়, তাহলে কী? একদিকে সরকারি নির্বাচন ছাড়া বেশি মাত্রায় ক্ষতিপূরণ নেই, অন্যদিকে মুদ্রকালে সিরিজ ভর্তুকি নেই। এভাবেই বাংলাদেশের কৃষি ঝুঁকির খেলায় পড়েছে। ২০২৪ সালে চলতি বর্ষায় বন্যায় ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১.১ মিলিয়ন টন চাল, যার ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ বিলিয়ন টাকা (৩৮০ মিলিয়ন USD) করে । এতে কৃষকের আয় কমে যায়, মার্জিন নষ্ট হয়, আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়।
প্রকৃতপক্ষে, কৃষকদের মুক্তির পথ কোনো রূপক নয়—it is integration between policy, technology and grassroots initiative। কৃষক যখন নিজেই সরিষা তেল উৎপাদন, মুরগি ও ছাগল পালন, পুকুরে মাছ-কৃষির মাধ্যমেই নিজেকে অটোনমাস করে তুলে—তার মানেই একটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক শক্তি প্রতিপন্ন হয়।
তবে এ দর্শন কেবল ব্যক্তিগতভাবে স্থাপন করলে চলবে না। সরকারের উচিতള്ള micro-credit কার্যক্রম (যেমন: ‘একটেবাড়ি একটেখামার প্রকল্প’) চালিয়ে ජනসাধারণকে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া, যেমন ২০০৯ সালের থেকে ২১.৮ মিলিয়ন মানুষকে একটির মাধ্যমে আয়েসকৃত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত করেছে । এ প্রোজেক্টের দরুণ গ্রামীণ পরিবারগুলো নিজের ফার্ম ভিত্তিক উৎপাদন ও আয়-উন্নয়ন করতে পেরেছে।
এ ছাড়া FAO ও GAFSP সহায়তায় গড়ে উঠা कृषক সংগঠনগুলো স্থানীয় স্তরে বাজার, প্রযুক্তি ও ঋণের তিনটি রূপায়নযোগ্য কাঠামো তৈরি করতে পারে—যাতে কৃষকদের 'missing middle' অর্থায়ন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে সুন্দরভাবে value chain এ যুক্ত হওয়া যায়
কৃষিকাজে বৈচিত্র্য (crop diversification) একটি শক্তিশালী কৌশল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। MS Islam এক গবেষণায় দেখিয়েছেন—পদ্মার আশেপাশে বৈচিত্র-based cropping households average income বাড়িয়েছে এবং পরাভূতির ঝুঁকি কমিয়েছে
অতএব আপনার প্রবন্ধের মূল ভাবনা—"নিজের প্রয়োজন নিজে মেটাও" এক দার্শনিক বক্তব্য নয়, সেই চিন্তার ভিত্তি যেখানে কৃষক তার আয়, নিজস্ব নিরাপত্তা ও গৌরব নিজের হাতে গড়ে তোলে। কিন্তু এর সফল বাস্তবায়নে রাষ্ট্র, সম্প্রদায় ও প্রযুক্তি—এই তিনটি স্তম্ভ একসাথে কাজ করতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে “দেশজ উৎপাদন ও ধরে রাখার ভাবনা," যেমন—পুকুর খনন, ফসল বৈচিত্র্য, দেশি পোলট্রি, দেশি মৎসচাষ—সবই আজকের কৃষকের জন্য একান্ত প্রয়োজন।
এই একটি ব্যক্তির চেষ্টাই পর্যাপ্ত নয়; এটি উচিত সামাজিক আন্দোলন, নীতি বাস্তবায়ন ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের ফলে একটি টেকসই কৃষি দর্শনে রূপান্তরিত। কৃষকের ঘরে নিজের ভ্রূণের যত্ন, নিজের কাঠের তেল, নিজের মুরগি ও মাছ—এর মাধ্যমে সে আজ গর্ব করে বলতে পারুক: “আমি নিজের পিছু হাঁটাই, আমি কারো করুণা প্রার্থনা করি না।” এক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজ যদি বাকি দিকগুলো সমর্থন করে, তাহলো বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লব সম্ভব হয়ে উঠবে—তখনই সত্যিকারের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
জুলাই বিপ্লব নিয়ে ইয়েনি সাফাককে (তুরস্কের গণমাধ্যম) একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের নেতা সাদিক কায়েম। তিনি ব্যাখ্যা করছেন, কীভাবে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৌশলগতভাবে সংগঠিত করে এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত করে। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো এই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ্য সংগঠক সাদিম কায়েম একান্ত সাক্ষাৎকারে ইয়েনি সাফাককে জানিয়েছেন, কীভাবে একটি ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় জাতীয় বিপ্লবে। এই বিস্তৃত আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন…
জুলাই বিপ্লব নিয়ে ইয়েনি সাফাককে (তুরস্কের গণমাধ্যম) একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জুলাই বিপ্লবের নেতা সাদিক কায়েম। তিনি ব্যাখ্যা করছেন, কীভাবে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কৌশলগতভাবে সংগঠিত করে এক নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ প্রশস্ত করে।
শেখ হাসিনার ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো এই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ্য সংগঠক সাদিম কায়েম একান্ত সাক্ষাৎকারে ইয়েনি সাফাককে জানিয়েছেন, কীভাবে একটি ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় জাতীয় বিপ্লবে। এই বিস্তৃত আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন আন্দোলনের সূচনা, পর্দার আড়ালে চলা সমন্বয় প্রচেষ্টা, গুরুত্বপূর্ণ বাঁক ও তার চোখে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের রূপরেখা।
ইয়েনি সাফাক: জুলাই আন্দোলনের পেছনের মূল প্রেরণা কী ছিল? কোটা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আপনি ব্যাখ্যা করবেন?
সাদিম কায়েম: জুলাই আন্দোলনের মূল প্রেরণা নিহিত ছিল বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের অভিজ্ঞতায়। এই সময়ে রাষ্ট্র মদতপুষ্ট বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নির্বাচনী জালিয়াতি, সংগঠিত ইসলামবিদ্বেষ ও মানবাধিকারের প্রতি নির্লজ্জ অবহেলা চালিয়ে গেছে।
২০১৩ সালে এক ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়, যখন আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী প্রায় ২০০ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। একই বছরের ৫ মে, শাপলা চত্বরে আমরা প্রত্যক্ষ করি কীভাবে নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্র ও আলেমদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়।
২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর চালানো হয় হিংস্র দমন অভিযান, যার ফলেও বহু তরুণ প্রাণ হারায়।
২০২৪ সালের ৫ জুন শেখ হাসিনা আকস্মিকভাবে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেন—যা সরকার সমর্থকদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ সৃষ্টি করে এবং হাসিনার অবৈধ শাসনকে বৈধতা দেওয়ার এক কৌশল হিসেবে দেখেছিল সবাই। এটি ছিল সহ্যের সীমার শেষ বিন্দু। এই ব্যবস্থাটি মেধার প্রতি অবিচার এবং সেই ক্ষোভই বিস্ফোরণে রূপ নেয়, যা ক্রমে একটি সর্বব্যাপী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। জীবনের সকল স্তরের মানুষ তখন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়।
ইয়েনি সাফাক: বাংলাদেশে যখন গণমাধ্যম কঠোর নিয়ন্ত্রণে, বিশেষ করে ইন্টারনেট বন্ধের মতো পরিস্থিতিতে প্রতিবাদকারীরা সংগঠিত থেকে কীভাবে যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন?
সাদিম কায়েম: সরকার-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম যখন প্রোপাগান্ডার যন্ত্রে পরিণত হয়, তখন সামাজিক মাধ্যমই হয়ে ওঠে আমাদের প্রধান হাতিয়ার। ৫ জুন, কোটা পুনর্বহালের দিনই আমরা ‘কোটা পুনর্বহাল চলবে না’ নামক ফেসবুক গ্রুপ চালু করি। এটি দ্রুতই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে, যেখান থেকে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়।
আমরা প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন করে মডারেটর নিযুক্ত করি যিনি সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসের যাবতীয় তথ্য, কর্মসূচি ও সংবাদ সমন্বয় করতেন।
১৮ জুলাই রাতে যখন পুরোপুরি ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০ জুলাই দেশজুড়ে কারফিউ জারি হয় আমরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত ছিলাম। আমরা আগে থেকেই অতিরিক্ত সিমকার্ড ও বাটন ফোন সংগ্রহ করতে বলেছিলাম, যাতে অফলাইন যোগাযোগ বজায় রাখা যায়। ফলে প্রতিদিন বিকাল ৩টার মধ্যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়—প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদদাতাদের কাছে সরবরাহ করতাম।
আমাদের ৯ দফা দাবি ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ভিডিও প্রমাণ আমরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাঠাই, কারণ স্থানীয় মিডিয়াগুলো তখন গোয়েন্দা সংস্থার দমনচক্রে কার্যত নীরব হয়ে যায়।
১৫ জুলাই নারীদের উপর নির্মম হামলার পর আন্দোলন এক নতুন গতি পায়। নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আমাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এরপর ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হলে কিছুটা মনোবল ভেঙে পড়ে, কিন্তু ১৮ জুলাই থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহুরে মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব নেয়। পরে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররাও সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হয়। শুধু যাত্রাবাড়িতেই একশ’র বেশি মানুষ শহীদ হন।
১৫ জুলাইয়ের নারীদের রক্তাক্ত ছবি সাধারণ মানুষের বিবেক নাড়িয়ে দেয়—এটি ছিল এক মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত, যা বস্তিবাসী ও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে সমানভাবে প্রভাব ফেলেছিল। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে একটি ঐক্য গড়ে ওঠে, যা বাংলাদেশে নজিরবিহীন।
ইয়েনি সাফাক: এই বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলো কোনগুলো ছিল? কীভাবে চাপ মোকাবিলা করেছেন?
সাদিম কায়েম: ১৮ জুলাইয়ের পর দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারফিউ এবং একের পর এক হত্যার ঘটনায় ভয় ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো আন্দোলনের সমন্বয় দায়িত্ব এসে পড়ে আমার কাঁধে। আমি প্রতিদিনের কর্মসূচি, বিবৃতি ও নেতাদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করি।
নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও মাহফুজ আলম এই সময়কার মূল কৌশলগত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এস এম ফারহাদ, মোহিউদ্দিন খান, মনজুরুল ইসলাম, সিবগাতুল্লাহ ও রিফাতসহ অনেকেই নিরন্তর কাজ করে যান মাঠে ও আড়ালে। ড. মির্জা গালিব ছিলেন পুরো বিপ্লব জুড়ে কৌশলগত নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মেধাস্রোত।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগে জুলকারনাইন সায়ের (আল-জাজিরা), সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এবং পিনাকি ভট্টাচার্য অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। দেশীয় মিডিয়া স্তব্ধ থাকলেও তারা তথ্য পৌঁছে দেন প্রবাসী ও বৈদেশিক মহলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সাংবাদিক, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) ও মোবাইল সাংবাদিকেরা মাটির কাছাকাছি থেকে রিপোর্ট করে তথ্যপ্রবাহ জাগিয়ে রাখেন।
চরমতম পরীক্ষাটি ছিল মনোবল ধরে রাখা। প্রতিদিন শতাধিক শহীদ হচ্ছেন, বহু সমন্বয়ক গ্রেফতার ও নির্যাতিত হচ্ছেন। ২৮ জুলাই রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে কিছু নেতাকে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণাও করানো হয়। আমরা তৎক্ষণাৎ তা প্রত্যাখ্যান করি এবং বলি—শেখ হাসিনা অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক আসে ৪ আগস্ট, যখন ‘নতুন বাংলাদেশ’ নির্মাণের ৯ দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা একত্রিত করে চূড়ান্ত দাবি নির্ধারিত হয়—শেখ হাসিনার পদত্যাগ। আমি বুঝতে পারি, ৫ আগস্ট শাহবাগে দুপুর ২টায় বিক্ষোভ ডাকলে আওয়ামী লীগ আগে জায়গাটি দখল নিতে পারে। তাই আমি সকাল ১০টায় শুরু করার প্রস্তাব দিই এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই বাস্তবায়িত হয়।
ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে একযোগে বিক্ষোভের সিদ্ধান্তই আন্দোলনের গতি নির্ধারণ করে দেয়। পরদিন ৫ আগস্ট ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের যৌথ আক্রমণ চালানো হয় আন্দোলনকারীদের উপর। কিন্তু এই দমনই জনগণের প্রতিরোধ মনোভাব আরও দৃঢ় করে এবং হাসিনার পতনের ভিত্তি তৈরি হয়।
এ সময়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবদুল কাদের, হান্নান মাসুদ, মাহিন সরকার, রিফাত রাশিদ এগিয়ে আসেন।
আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতৃত্বের কাঠামোকে সংহত ও নির্ভরযোগ্য রেখেছি—চিহ্নিত ছাত্রনেতাদের বাইরে রেখে অভ্যন্তরীণ কৌশলগত নেতৃত্ব গড়ে তুলেছি। তাতেই আমরা সংগঠনের ভারসাম্য রক্ষা করতে পেরেছি। ক্যাম্পাসের স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্রদের আমরা সাহস জুগিয়েছি, কিন্তু কৌশলগতভাবে নির্দেশনা দিয়েছি পেছন থেকে।
ইয়েনি সাফাক: সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং ভারত ও চীনের মতো বিদেশি শক্তির প্রভাব আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? ভবিষ্যতের কূটনীতি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
সাদিম কায়েম: আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর কিছু জুনিয়র কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সহানুভূতির ইঙ্গিত আমরা পেয়েছি। তারা বিপ্লবের আদর্শের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। যদিও সিনিয়রদের অনেকেই আগের শাসনের সুবিধাভোগী ছিলেন, কিন্তু নতুন প্রজন্ম রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের সেতুবন্ধন রচনায় আগ্রহী।
আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই—যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যায় জড়িত ছিলেন—তাদের রাজনীতিতে স্থান নেই যতক্ষণ না তারা বিচারের মুখোমুখি হন।
আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল—জার্মানির চরমপন্থি সংগঠনের মতোই তাদের স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।
ভারত গত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশকে একপ্রকার উপনিবেশ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা শুধু হাসিনার শাসন সমর্থনই করেনি, বরং ৫ আগস্টের গণহত্যাকেও নীরব সম্মতি দিয়েছে। তারা ভারতের মুসলমানদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে—এই দিক থেকে তারা দক্ষিণ এশিয়ার ইসরাইলে পরিণত হয়েছে। আমরা তাদের আধিপত্য আর মানতে রাজি নই।
চীনের সঙ্গে আমরা ভারসাম্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই—স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে।
এই বিপ্লব কারও দয়া বা বিদেশি হস্তক্ষেপে আসেনি—এটি এসেছে আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগে। তাই আমাদের কারো কাছে ঋণ নেই, আমরা স্বাধীনভাবে কূটনীতি চালিয়ে যাব—যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা ভারত—সবার সঙ্গে সমানভাবে।
ইয়েনি সাফাক: আপনি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান? তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী? আর আপনি নিজে কী করবেন?
সাদিম কায়েম: আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার ও স্বপ্ন রক্ষিত হবে—জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, কিংবা মতাদর্শ নির্বিশেষে।
যেখানে সরকার হবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, থাকবে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, এবং আইনের শাসন—যেখানে আইন হবে সকলের জন্য সমান।
আমরা চাই এমন অর্থনীতি, যেখানে ধনিক শ্রেণির একচেটিয়া ক্ষমতা নয়—গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, নারী ও যুবকের জন্য হবে স্বনির্ভরতা ও সম্ভাবনার পথ।
আমরা চাই এমন শিক্ষা, যা কেবল পরীক্ষায় পাস করানো নয়—চিন্তা, মানবিকতা ও নৈতিকতাকে উৎসাহিত করবে।
তরুণদের বলব—এই বিপ্লব প্রমাণ করেছে, তরুণরাই জাতির চালিকাশক্তি। তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, পোস্ট, প্রতিবাদ—সবই ইতিহাস গড়েছে। কখনও নিজের কণ্ঠকে তুচ্ছ ভেবো না।
আমি নেতৃত্বকে দেখি দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা নয়। আমি এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর যে ভালোবাসা ও আস্থা পেয়েছি—তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তবে আমি রাজনীতিকে পেশা হিসেবে দেখি না। আমি চাই নেতৃত্ব গড়ে উঠুক প্রতিষ্ঠান ও মূল্যবোধ-ভিত্তিক হয়ে—ব্যক্তিনির্ভর নয়।
আমি নিজেকে দেখতে চাই এক সংগঠক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে—যিনি তরুণ নেতৃত্বের বিকাশে সহায়তা করবেন।
নতুন বাংলাদেশ শুধু সম্ভাবনা নয়—এটি সময়ের দাবি। হয় আমরা এগিয়ে যাব, নয়তো আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাব। কিন্তু আমি নিশ্চিত, এবার আমরা এগিয়ে যাব—কারণ তরুণরা জেগে উঠেছে, জনগণ আর পেছনে ফিরবে না।
সূত্র: যুগান্তর
ইয়াছিন চৌধুরী (নিবিড়): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুন্ডা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রকিব মিয়া ও তার পরিবার। একইসঙ্গে মামলা প্রত্যাহার ও হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান তারা। শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টায় নাসিরনগর সদরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রকিব মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কুন্ডা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সামছু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাঁদার দাবিতে ভয়ভীতি ও নির্যাতন চালিয়ে…
ইয়াছিন চৌধুরী (নিবিড়): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সন্ত্রাসী হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কুন্ডা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রকিব মিয়া ও তার পরিবার। একইসঙ্গে মামলা প্রত্যাহার ও হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানান তারা।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) দুপুর ২টায় নাসিরনগর সদরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রকিব মিয়া অভিযোগ করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কুন্ডা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সামছু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাঁদার দাবিতে ভয়ভীতি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি জমি কেনাকে কেন্দ্র করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সামছু মিয়া। টাকা না দেওয়ায় গত ১৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে সামছুর নেতৃত্বে রইছ মিয়া, শামদানী, এখলাছ, জুনায়েদসহ কয়েকজন সশস্ত্রভাবে তার ও পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রকিব মিয়ার হাত ভেঙে যায় এবং তার মা ও ভাইরাও আহত হন।
তিনি আরও বলেন, হামলার পর উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে ও বিএনপিকে বিতর্কিত করতে একপক্ষীয় সংবাদ পরিবেশন করানো হয়েছে। তিনি এই মামলার দ্রুত প্রত্যাহার এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার বাদী রইছ মিয়া জানান, রকিব মিয়া তার ছেলের কাছে টাকা দাবি করেছিলেন এবং না দেওয়ায় হুমকি দেন। একপর্যায়ে তার ছেলেকে মারধর করে আহত করা হয়, যার ফলে তিনি বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে তার ছেলে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি ও খোঁজ নিয়ে জেনেছি এটি মূলত পারিবারিক বিরোধ থেকে সৃষ্ট ঘটনা। এখানে চাঁদাবাজির কোনো প্রমাণ পাইনি। এটি দলীয় কোনো বিষয় নয়।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা
মোশারফ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলাধীন কিন্ডারগার্টেন ভিত্তিক সংগঠন "বিজয়নগর কিন্ডারগার্টেন ফোরাম" এর নব-নির্বাচিত ১৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। গত সপ্তাহে দাউদপুর পাবলিক স্কুল প্রাঙ্গণে (স্থানে: আলাদাউদপুর, আমতলী বাজার, চান্দুরা, বিজয়নগর) আয়োজিত সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়। সাধারণ সভাটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন—নাজির মিয়া কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক জনাব মো: জহুর আহম্মেদ।সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন—দাউদপুর পাবলিক…
মোশারফ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলাধীন কিন্ডারগার্টেন ভিত্তিক সংগঠন "বিজয়নগর কিন্ডারগার্টেন ফোরাম" এর নব-নির্বাচিত ১৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। গত সপ্তাহে দাউদপুর পাবলিক স্কুল প্রাঙ্গণে (স্থানে: আলাদাউদপুর, আমতলী বাজার, চান্দুরা, বিজয়নগর) আয়োজিত সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের সম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়।
সাধারণ সভাটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন—নাজির মিয়া কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক জনাব মো: জহুর আহম্মেদ।
সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন—দাউদপুর পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (শাহেদ)।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন—গাছতলা মধুমিয়া মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আব্দুস সাত্তার।
সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মানোন্নয়ন, এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ।
আসছে "বিজয়নগর উপজেলা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫"
সংগঠনের নব-নির্বাচিত কমিটি ঘোষণা করেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসেই আয়োজিত হবে "বিজয়নগর উপজেলা মেধাবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫"।
এ পরীক্ষায় দেশের যেকোনো জেলা বা উপজেলা থেকে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিন্ডারগার্টেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবতেদায়ী মাদ্রাসাসহ সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
এই উদ্যোগকে উপজেলায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে উৎসাহ প্রদানের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খুব শিগগিরই পরীক্ষার সময়সূচি, কেন্দ্রসমূহ ও আবেদনপত্র জমাদানের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানটি সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।
বিজয়নগরের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে নব-নির্বাচিত এই কমিটি যাত্রা শুরু করল।
সারা দেশে চলমান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত "জুলাই পদযাত্রা"-র অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য পদযাত্রা ও কেন্দ্রীয় সমাবেশ।বেলা ১২টায় শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করে না। এই জেলার মানুষ ফ্যাসিবাদবিরোধী ও মোদীবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এখানকার আলেম সমাজ সবসময় ইনসাফ…
সারা দেশে চলমান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত "জুলাই পদযাত্রা"-র অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য পদযাত্রা ও কেন্দ্রীয় সমাবেশ।
বেলা ১২টায় শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করে না। এই জেলার মানুষ ফ্যাসিবাদবিরোধী ও মোদীবিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এখানকার আলেম সমাজ সবসময় ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার থেকেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কখনো মাথা নত করেনি—প্রয়োজনে জীবন দিয়েছে, কিন্তু আপোষ করেনি।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনীম জারা এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহ্দী জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা গতকাল বুধবার রাতে কুমিল্লায় পদযাত্রা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবেশ করেন।
আজ সকাল ১০টায় তাঁরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর সকাল ১১টায় শহরের কাউতলি এলাকায় জমায়েত হয়ে পদযাত্রা শুরু হয়।
পদযাত্রাটি টি.এ রোড, মসজিদ রোড, সড়ক বাজার, পুরাতন সিনেমা হল, কুমারশীল মোড়, রামকানাই মোড়, লোকনাথ উদ্যান (টেংকের পাড়) ও সদর হাসপাতাল রোড অতিক্রম করে পৌর মুক্ত মঞ্চে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা গণতন্ত্র, ন্যায়ের পক্ষে এবং দেশজুড়ে চলমান নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “জনগণের অধিকার আদায়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: কালজয়ী কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মৃতি পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো প্রখ্যাত কবি মহিবুর রহিম স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। জেলার সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম স্মরণীয় এই আয়োজনে অংশ নেন দেশের খ্যাতিমান কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ। আলোচনায় অংশ নেন কবি আবদুল মান্নান সরকার, কবি জয়দুল হোসেন, কবি শাহ মুহাম্মদ সানাউল হক, প্রাবন্ধিক মানবর্দ্ধন পাল, একে এম শিবলী, কবি হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, কথাশিল্পী পরিমল ভৌমিক,…
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: কালজয়ী কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মন স্মৃতি পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো প্রখ্যাত কবি মহিবুর রহিম স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠান। জেলার সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম স্মরণীয় এই আয়োজনে অংশ নেন দেশের খ্যাতিমান কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ।
আলোচনায় অংশ নেন কবি আবদুল মান্নান সরকার, কবি জয়দুল হোসেন, কবি শাহ মুহাম্মদ সানাউল হক, প্রাবন্ধিক মানবর্দ্ধন পাল, একে এম শিবলী, কবি হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, কথাশিল্পী পরিমল ভৌমিক, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম স্বপন, কবি আমির হোসেন, কবি শাদমান শাহিদ, কবি এম এ হানিফ, কবি মোসলেম উদ্দিন সাগর, কবি আবদুর রহিম, কবি মানিক রতন শর্মা, কবি মিযান আজিজ, অ্যাডভোকেট এম এ সাহিদ, কবি আবুল বাশার খাদেম, কবি শিরিন আক্তার, কবি শারমিন সুলতানা, কবি এসএম শাহনুর, কবি সৌমিক সাত্তার, কবি রুদ্র মুহম্মদ ইদ্রিস, কবি রিপন দেবনাথ, কবি গোলাম মোহাম্মদ মোস্তফা, কবি সৈম আকবর, কবি লিটন হোসাইন জিহাদ, কবি জাবেদ হোসাইন, কবি এসএম ইউনুস, কবি মাশরেকি সিপার, মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ, কবি মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, কবি কুহিনুর আখতারসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে কবির বড় সন্তান মাহমুদ শাহ তামিম আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা উদীচীর সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন, খ্যাতিমান চিকিৎসক ডা. জহিরুল হক, জেলা উদীচীর সহসভাপতি ফারুক উদ্দিন ভূইয়া, অধ্যাপক আবদুল হক আল আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমির ফারুক, সংগীতশিল্পী শাহাব উদ্দিন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সেলিম চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন ভূইয়া লিটন, স্কুল শিক্ষিকা সিরাজুম মনিরা, মাওলানা আবুল ফায়েজ, ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান, সাংবাদিক ও “চেতনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া” সম্পাদক হারুন আল রশিদ, সাংবাদিক সোলাইমান আহমেদ
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, কবি মহিবুর রহিম ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্যচর্চার এক অনন্য মুখ। তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্ম আজও পাঠকদের অনুপ্রেরণা দেয়। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে সাহিত্য ও মানবিকতার বাতিঘর হিসেবে আখ্যায়িত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল কবির স্মৃতিতে এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া মাহফিল। উপস্থিত সকলেই কবির আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর সাহিত্যচর্চা নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানান।
রুয়ান্ডার গীতারামা কারাগার ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর ও অমানবিক দৃষ্টান্ত। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষকে সাজা দেওয়ার আড়ালে তাদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। একটি রাষ্ট্র যখন তার বিচার ও বন্দিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই সমাজ কেমন ভয়াল রূপ নিতে পারে, তার এক নির্মম উদাহরণ এই কারাগার। আফ্রিকার ছোট্ট দেশ রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে সংঘটিত হয়েছিল ভয়াবহ গণহত্যা, যেখানে প্রায় আট থেকে দশ লাখ মানুষ নিহত হয়…
রুয়ান্ডার গীতারামা কারাগার ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর ও অমানবিক দৃষ্টান্ত। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে মানুষকে সাজা দেওয়ার আড়ালে তাদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। একটি রাষ্ট্র যখন তার বিচার ও বন্দিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই সমাজ কেমন ভয়াল রূপ নিতে পারে, তার এক নির্মম উদাহরণ এই কারাগার। আফ্রিকার ছোট্ট দেশ রুয়ান্ডায় ১৯৯৪ সালে সংঘটিত হয়েছিল ভয়াবহ গণহত্যা, যেখানে প্রায় আট থেকে দশ লাখ মানুষ নিহত হয় মাত্র কয়েক মাসে। এই ভয়াল ঘটনার পর সরকার বিরোধীদের দমন করতে গিয়ে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করে জেলখানায় পুরে দেয়, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল নিরপরাধ।
গীতারামা কারাগার মূলত ৪০০ বন্দির ধারণক্ষমতার একটি কারাগার ছিল। কিন্তু গণহত্যা-পরবর্তী সময়ে এখানে গাদাগাদি করে রাখা হয় প্রায় ৭,০০০ বন্দিকে। চারপাশে কেবল মানুষ, নড়ার জায়গা নেই, বসার সুযোগ নেই, শোয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। বন্দিরা দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হতো। দীর্ঘসময় একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে তাদের পায়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেত এবং পচন ধরত। অনেকের পা গ্যাংগ্রিনে আক্রান্ত হয়ে মাংস পচে যেতে থাকে। এইসব পঁচে যাওয়া পা অনেক সময় কেটে ফেলা হতো, কিন্তু চিকিৎসাসেবা না থাকায় আক্রান্ত কয়েদির মৃত্যু ঘটে যেত খুব শিগগিরই। এভাবে প্রতিদিন গীতারামা কারাগারে মানুষ মারা যেত, আর মৃতদেহগুলো দীর্ঘসময় পড়ে থাকত, সেগুলো সঠিকভাবে দাফন করার সুযোগও মিলত না।
খাবারের অভাব ছিল ভয়াবহ। দিনে মাত্র একবার খাবার দেওয়া হতো, যা সংখ্যার তুলনায় ছিল নগণ্য। বন্দিরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাত, এবং দুর্বলতা ও অপুষ্টিতে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করত। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠে যে, বেঁচে থাকার তাগিদে কিছু কয়েদি মৃতদেহের মাংস খাওয়া শুরু করে। কেউ কেউ জীবিত সহবন্দির শরীর থেকেও মাংস কেটে খেয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এটি ইতিহাসের এক অন্ধকারতম ও বিভীষিকাময় চিত্র, যেখানে সভ্য সমাজের চেহারা আর পশুত্বের মাঝে কোনো ফারাক থাকেনি।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা প্রথম বিশ্ববাসীর সামনে আসে ১৯৯৫ সালে, যখন এক ফরাসি চিত্রসাংবাদিক গোপনে গীতারামার ভেতরের ছবি তোলেন। সেই ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। Amnesty International, Human Rights Watch, Red Cross—সবাই একে বিশ্বের সবচেয়ে অমানবিক ও ভয়ানক কারাগার হিসেবে চিহ্নিত করে। জাতিসংঘও রুয়ান্ডা সরকারকে চাপ দেয় এই কারাগারের পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য।
পরে রুয়ান্ডা সরকার কারা সংস্কারে উদ্যোগ নেয় এবং গীতারামা কারাগারের নাম বদলে রাখা হয় ‘Muhanga Prison’। নতুন করে কারাগার সংস্কার, অতিরিক্ত বন্দিদের স্থানান্তর এবং বিচার ব্যবস্থায় গতি আনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা হয়। তবে ইতিহাসে গীতারামার সেই অন্ধকার অধ্যায় মুছে যায়নি। এটি আজও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের সাক্ষ্য হয়ে রয়েছে।
গীতারামা কারাগার আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিচারহীনতা, অব্যবস্থা ও যুদ্ধোত্তর প্রতিশোধ মানুষকে কোথায় নামিয়ে দিতে পারে। এটি শুধুই একটি কারাগারের গল্প নয়, এটি এক জাতির ব্যর্থতার দলিল। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, যখন ন্যায়বিচার প্রতিহিংসার কাছে পরাজিত হয়, তখন গীতারামার মতো একেকটি মৃত্যুর কূপ তৈরি হয় সমাজের ভেতরে। এই ভয়াল ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়—মানবতা যেন কোনো দিন আর এমন নির্লজ্জ পরিণতির মুখোমুখি না হয়।
দূর দক্ষিণে, পৃথিবীর শেষ প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বিশাল সাদা বরফের সাম্রাজ্য—অ্যান্টার্কটিকা। চারদিকে তুষার, নিঃসঙ্গতা আর তীব্র শীতলতা। এই সাদা পৃথিবীর বুকে হঠাৎ যদি দেখা যায় এক ধারা লাল রঙের রক্ত ঝরছে, তখন সেটা নিশ্চয়ই কল্পনার মতো শোনায়। কিন্তু বাস্তবেই অ্যান্টার্কটিকার বুকেই আছে এমন এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক দৃশ্য—যেটির নাম ব্লাড ফলস বা “রক্ত ঝর্ণা”। এই রহস্যময় ঝর্ণাটি অবস্থিত টেইলর গ্লেসিয়ার-এ, অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালি অঞ্চলে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বরফের…
দূর দক্ষিণে, পৃথিবীর শেষ প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বিশাল সাদা বরফের সাম্রাজ্য—অ্যান্টার্কটিকা। চারদিকে তুষার, নিঃসঙ্গতা আর তীব্র শীতলতা। এই সাদা পৃথিবীর বুকে হঠাৎ যদি দেখা যায় এক ধারা লাল রঙের রক্ত ঝরছে, তখন সেটা নিশ্চয়ই কল্পনার মতো শোনায়। কিন্তু বাস্তবেই অ্যান্টার্কটিকার বুকেই আছে এমন এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক দৃশ্য—যেটির নাম ব্লাড ফলস বা “রক্ত ঝর্ণা”।
এই রহস্যময় ঝর্ণাটি অবস্থিত টেইলর গ্লেসিয়ার-এ, অ্যান্টার্কটিকার ম্যাকমার্ডো ড্রাই ভ্যালি অঞ্চলে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বরফের শরীর চিরে যেন রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। লাল রঙের সেই তরল ধারা যেন এক চুপচাপ আতঙ্ক, আবার এক প্রাকৃতিক বিস্ময়।
ব্লাড ফলসের লাল রঙ আসলে রক্ত নয়—এটি এক ধরণের আয়রনসমৃদ্ধ লবণাক্ত পানি। এই পানির উৎস একটি প্রাচীন হ্রদ, যা প্রায় ২০ লাখ বছর ধরে বরফের গভীরে আটকে আছে। ওই হ্রদের পানিতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ আয়রন। যখন এই আয়রনসমৃদ্ধ পানি বরফ চিরে উপরে উঠে আসে এবং বাতাসের সংস্পর্শে পড়ে, তখন এর মধ্যে থাকা ফেরাস আয়রন (Fe²⁺) অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়া করে হয়ে যায় ফেরিক আয়রন (Fe³⁺)। এর ফলে গঠিত হয় আয়রন অক্সাইড, যেটি দেখতে অনেকটা জংধরা লোহা কিংবা রক্তের মতো লালচে।
এই প্রক্রিয়াটাই ব্লাড ফলসকে দেয় তার রহস্যময় রক্তরঙা চেহারা।
বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে ব্লাড ফলসের নিচের হ্রদে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ব্যাকটেরিয়াদের অস্তিত্ব। এই হ্রদে নেই কোনো সূর্যালোক, নেই অক্সিজেন—তবুও সেখানে প্রাণ আছে! এই ব্যাকটেরিয়ারা হাজার হাজার বছর ধরে লবণাক্ত, অন্ধকার, বদ্ধ পরিবেশে বেঁচে আছে। তারা সূর্যের আলো ব্যবহার না করে আয়রন ও সালফেটের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। একে বলে chemosynthesis—এমন এক প্রক্রিয়া যা আমাদের পরিচিত জীবনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
ব্লাড ফলস শুধু অ্যান্টার্কটিকার একটি দৃশ্য নয়—এটি বৈজ্ঞানিকদের কাছে একটি জীবনের সম্ভাবনার জানালা। অনেক গবেষক মনে করেন, যেহেতু পৃথিবীর এমন প্রতিকূল পরিবেশেও জীবন আছে, তাই হয়তো মঙ্গল গ্রহ বা বৃহস্পতির বরফাবৃত উপগ্রহ ইউরোপা-তেও জীবনের অস্তিত্ব থাকতে পারে।
এই ব্যাকটেরিয়ারা যেভাবে আলো ও অক্সিজেন ছাড়াই টিকে আছে, সেভাবে হয়তো আমাদের অজানা কোনো গ্রহেও এমন প্রাণ লুকিয়ে আছে বরফের নিচে।
ব্লাড ফলস প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯১১ সালে, জিওলজিস্ট গ্রিফিথ টেইলর-এর অভিযানের সময়। এরপর থেকেই এটি গবেষকদের কাছে ছিল এক রহস্য। বর্তমানে NASA, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তর্জাতিক গবেষকরা এখানে কাজ করছেন, সাবগ্লেসিয়াল হ্রদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন, রোবট পাঠাচ্ছেন, আর খুঁজে ফিরছেন জীবনের সূক্ষ্মতম ইঙ্গিত।
ব্লাড ফলস আমাদের শেখায়, প্রকৃতি কখনোই সাধারণ নয়। তার বুকের ভাঁজে লুকিয়ে আছে হাজারো রহস্য, অজানা গল্প। কখনো বরফের নিচে ঘুমিয়ে থাকা লাল হ্রদে, আবার কখনো আলোহীন জগতের ব্যাকটেরিয়ার প্রাণে। এই ঝর্ণা আমাদের চোখ খুলে দেয়—জীবন আসলে কত বিস্ময়কর, আর কতটা বৈচিত্র্যময়।
প্রকৃতির প্রতিটি বিন্দু এক একটি গল্প। ব্লাড ফলস সেইসব গল্পের একটি—যেখানে বিজ্ঞান, বিস্ময় ও সৌন্দর্য একসাথে মিশে আছে।
অনুসন্ধান ও বিশেষ প্রতিবেদন ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্নওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ওসমান গাজীর মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়। ওসমানের দ্বিতীয় স্ত্রী বালা হাতুনের সন্তান আলাউদ্দিন বে ছিলেন জ্ঞানচর্চা ও জনহিতকর কাজে নিয়োজিত এক ব্যক্তিত্ব। তিনি কোনিয়াতে দ্বীনি শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান অর্জন করেন। জীবনের একটি বড় সময় ১৩ শতাব্দীর বিখ্যাত দরবেশ শাইখ এদেবালির সাহচর্যে কাটানোর কারণে সুফি-দরবেশ ও আলেমদের সঙ্গে…
অনুসন্ধান ও বিশেষ প্রতিবেদন ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ওসমান গাজীর মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়। ওসমানের দ্বিতীয় স্ত্রী বালা হাতুনের সন্তান আলাউদ্দিন বে ছিলেন জ্ঞানচর্চা ও জনহিতকর কাজে নিয়োজিত এক ব্যক্তিত্ব। তিনি কোনিয়াতে দ্বীনি শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞান অর্জন করেন। জীবনের একটি বড় সময় ১৩ শতাব্দীর বিখ্যাত দরবেশ শাইখ এদেবালির সাহচর্যে কাটানোর কারণে সুফি-দরবেশ ও আলেমদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যদিকে ওরহান গাজী ছিলেন যুদ্ধ ও সামরিক অভিযানে অত্যন্ত দক্ষ।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রের মতে, ওসমান বে তাঁর বিভিন্ন অভিযান চলাকালে নিজের সিংহাসন, গোত্র ও রাজধানীর দায়িত্ব আলাউদ্দিনের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যেতেন এবং আলাউদ্দিনও নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করতেন। ওসমানের মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও শতবর্ষী বিখ্যাত যোদ্ধা তুরগুত বে, আবদুর রহমান গাজী, কোসে মিহাল, কনুর আল্প, তুরহান, সামসা চাভুস এবং ওসমানের ভাতিজা আকতেমুর বে ও সুলেইমান বেসহ অধিকাংশ বে ওরহানের পক্ষে অবস্থান নেন। পাশাপাশি বাবার অসিয়ত ও অধিকাংশ বের সমর্থনে ওরহান সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় শাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আলাউদ্দিনও বাবার এক সাম্রাজ্য ও এক শাসক নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে ওরহানকে পূর্ণ সমর্থন জানান এবং সাম্রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
ক্ষমতায় বসে ওরহান গাজী সাম্রাজ্যে উজির পদের সৃষ্টি করেন এবং তাঁর ভাই আলাউদ্দিন বে-কে প্রথম উজির হিসেবে নিয়োগ দেন। সাম্রাজ্যের প্রধান বে ও নেতৃস্থানীয়দের পরামর্শে ওরহান 'সুলতান' উপাধি লাভ করেন, যা তাঁকে ওসমানীয়দের প্রথম সুলতান হিসেবে মর্যাদা দেয়। তবে তিনি বাবার মতো সুলতান হিসেবে ডাকার চেয়ে সাম্রাজ্যের প্রধান 'বে' হিসেবেই প্রজা সেবায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।
সাম্রাজ্যকে সুসংগঠিত করতে উজির আলাউদ্দিন পাশা ওরহানকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব দেন। সেগুলো হলো— সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য নিজস্ব স্থায়ী মুদ্রা ব্যবস্থা চালু করা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নির্দিষ্ট ওসমানীয় পোশাক বা ইউনিফর্ম নির্ধারণ করা এবং একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠন করা।
ওরহান গাজী এই পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করেন। ১৩২৮ ও ১৩২৯ সালে ওরহানের নামাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা চালুর মাধ্যমে সাম্রাজ্যের নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থা শুরু হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বে-দের পোশাকে আনা হয় পরিবর্তন। পূর্বে কায়ী গোত্রের ঐতিহ্য অনুযায়ী আল্প বা সিপাহিরা অনিয়মিত বাহিনী হিসেবে কাজ করত এবং যুদ্ধ ছাড়া অন্য সময়ে কৃষিকাজ ও বসতি পাহারায় যুক্ত থাকত। ওরহান গাজী প্রথম একটি নিয়মিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের স্থায়ী বেতনভাতার ব্যবস্থা করেন, যা ওসমানীয় সাম্রাজ্যকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে ভূমিকা রাখে।
Business ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্নমূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট–সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধ মিটিয়ে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষ সুযোগ এনেছে সরকার। অর্থ আইন, ২০২৬–এর মাধ্যমে ভ্যাট আইনে নতুন ‘১৩৭ক’ ধারা যুক্ত করে এই ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে নির্ধারিত সময় পার হতে চললেও এই সুবিধার বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।নতুন এই বিধানের মাধ্যমে ১৯৯১ সালের পুরোনো ভ্যাট আইন অথবা ২০১২ সালের…
Business ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট–সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধ মিটিয়ে আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষ সুযোগ এনেছে সরকার। অর্থ আইন, ২০২৬–এর মাধ্যমে ভ্যাট আইনে নতুন ‘১৩৭ক’ ধারা যুক্ত করে এই ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে নির্ধারিত সময় পার হতে চললেও এই সুবিধার বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
নতুন এই বিধানের মাধ্যমে ১৯৯১ সালের পুরোনো ভ্যাট আইন অথবা ২০১২ সালের বর্তমান ভ্যাট আইনের আওতায় আটকে থাকা বকেয়া কর, উৎসে কর্তিত কর, জরিমানা কিংবা অন্য যেকোনো পাওনা সহজে পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের মধ্যে মাসিক ২ শতাংশ হারে মোট ২৪ মাসের সরল সুদ পরিশোধ করলেই পুরোনো করদায়ের চ্যাপ্টার থেকে চূড়ান্ত মুক্তি পাওয়া যাবে।
বাস্তবতা হলো, নির্ধারিত ছয় মাস সময়সীমার মধ্যে ইতিমধ্যে তিন মাস পেরিয়ে গেছে এবং হাতে রয়েছে আর মাত্র তিন মাস। অথচ মাঠপর্যায়ে সাধারণ করদাতা বা ভ্যাট কর্মকর্তা—কাউকেই স্পষ্ট করা হয়নি ঠিক কীভাবে বা কোন নিয়মে এই সুবিধা কার্যকর করা হবে। ফলে একটি ভালো উদ্যোগ সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আইনে বকেয়া পরিশোধের বিধান থাকলেও কয়েকটি বিষয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা থেকে গেছে। এর মধ্যে ভ্যাট আপিল কমিশনারেট, আপিলাত ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা অসংখ্য মামলার প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই। এছাড়া হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা মামলা বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে (এডিআর) চলমান প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর জমা দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি লাগবে কি না, তা অনুচ্চারিত রয়ে গেছে।
অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানে মূল কর পরিশোধ হলেও কেবল সুদ বা আনুষঙ্গিক পাওনা বকেয়া রয়েছে, তারা এই বিশেষ স্কিমের আওতায় কীভাবে সুরাহা পাবেন তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কিন্তু চূড়ান্ত দাবিনামা জারি হয়নি, তাদের সুবিধা নেওয়ার নিয়মও আইনে উল্লেখ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আইনে একটি ধারা যোগ করলেই রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়। ৩১ ডিসেম্বরের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে করদাতারা কখন, কোথায়, কীভাবে আবেদন করবেন এবং কোন কোডে অর্থ জমা দেবেন, তা পরিষ্কার করে আদেশ জারি করা ও গণমাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা জরুরি।
একইসঙ্গে প্রতিটি ভ্যাট কমিশনারেটে ঝুলে থাকা পুরোনো ফাইল ও মামলা দ্রুত চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ভ্যাট অফিসগুলোতে বিশেষ সহায়তা সেল বা হেল্প ডেস্ক চালু করার পাশাপাশি স্পষ্ট নিয়ম ও আস্থার পরিবেশ তৈরির জোর দাবি উঠেছে। এতে করে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব জমা হওয়া সম্ভব হবে।
Sports ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্নএশিয়ান গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে ভারতের মহিলা রিকার্ভ তিরন্দাজি দল। নাগানোয় অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে ১০ বারের অলিম্পিক বিজয়ী তথা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জিতেছে তারা।শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন ভারতীয় তিরন্দাজরা। বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়ার তিরন্দাজদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, পুরো ম্যাচে চমৎকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলা রিকার্ভ ইভেন্টে এটি ভারতের…
Sports ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন
এশিয়ান গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে ভারতের মহিলা রিকার্ভ তিরন্দাজি দল। নাগানোয় অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে ১০ বারের অলিম্পিক বিজয়ী তথা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জিতেছে তারা।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন ভারতীয় তিরন্দাজরা। বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়ার তিরন্দাজদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, পুরো ম্যাচে চমৎকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।
এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলা রিকার্ভ ইভেন্টে এটি ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক জয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এই সাফল্য লাভ ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল।
Sports ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্নএশিয়ান গেমস ২০২৬-এর রোমাঞ্চকর ১৩তম দিনে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রিংয়ে নামছেন ভারতীয় বক্সাররা। প্রতিযোগিতা যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, পদক তালিকার লড়াই ততই তীব্র হয়ে উঠছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে ভারতীয় সমর্থকদের চোখ থাকবে দলের তারকা বক্সারদের পারফরম্যান্সের দিকে।ভারতের বক্সিং স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার লাভলিনা বোরগোহাইন এবং প্রতিশ্রুতিশীল তারকা পারভীন হুডা। নিজ নিজ ওজন শ্রেণীতে সেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের জন্য পদক…
Sports ডেস্ক: ২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর রোমাঞ্চকর ১৩তম দিনে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়ে রিংয়ে নামছেন ভারতীয় বক্সাররা। প্রতিযোগিতা যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, পদক তালিকার লড়াই ততই তীব্র হয়ে উঠছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে ভারতীয় সমর্থকদের চোখ থাকবে দলের তারকা বক্সারদের পারফরম্যান্সের দিকে।
ভারতের বক্সিং স্কোয়াডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার লাভলিনা বোরগোহাইন এবং প্রতিশ্রুতিশীল তারকা পারভীন হুডা। নিজ নিজ ওজন শ্রেণীতে সেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের জন্য পদক নিশ্চিত করতে মুখিয়ে আছেন এই দুই অ্যাথলেট। তাদের ম্যাচগুলোকে ঘিরে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও বক্সিং ইভেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার বড় সুযোগ আসছে এই দিনে। লাভলিনা ও পারভীন অতীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাধিক সাফল্য অর্জন করেছেন, ফলে তাদের ওপর প্রত্যাশার চাপও বেশ বেশি।
দর্শকরা টেলিভিশন সম্প্রচার ও লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি এই ম্যাচগুলোর ওপর চোখ রাখতে পারবেন। ম্যাচের সময়সূচী অনুযায়ী দিনের শুরু থেকেই ভারতীয় বক্সিং ভক্তরা টিভির পর্দা এবং ডিজিটাল ডিভাইসে চোখ রাখবেন তাদের প্রিয় তারকাদের লড়াই দেখতে।
১৩তম দিনে কেবল বক্সিং নয়, আরও কয়েকটি ইভেন্টেও ভারতীয় অ্যাথলেটরা অংশ নেবেন। তবে বক্সিং রিংয়ে লাভলিনা ও পারভীনের উপস্থিতি দিনটিকে ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তাদের সাফল্য ভারতের সার্বিক পদক সংখ্যা বাড়াতে বড় অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Education ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থায়ন ও গবেষণায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ (MI5)। চিনের একটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রিটিশ গবেষকদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য ও প্রযুক্তি চুরির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সংস্থাটি। এর ফলে আর্থিক সঙ্কটে থাকা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চীনের একাডেমিক সহযোগিতার সম্পর্কে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমআইফাইভ দেশটির গবেষক ও একাডেমিকদের…
Education ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থায়ন ও গবেষণায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ (MI5)। চিনের একটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্রিটিশ গবেষকদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য ও প্রযুক্তি চুরির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সংস্থাটি। এর ফলে আর্থিক সঙ্কটে থাকা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চীনের একাডেমিক সহযোগিতার সম্পর্কে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমআইফাইভ দেশটির গবেষক ও একাডেমিকদের ‘চায়না একাডেমি অফ জেনারেল টেকনোলজি’ (CAGT) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ব্রিটিশ নিরাপত্তার জন্য ‘উল্লেখযোগ্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিএজিটি মূলত ‘চায়না জেনারেল টেকনোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ নামেও পরিচিত। সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কর্মরত ব্রিটিশ গবেষকদের অর্থ প্রদানের মাধ্যমে চীনের মূল গোয়েন্দা সংস্থা ‘মিনিস্ট্রি অফ স্টেট সিকিউরিটি’র (MSS) সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে।
এমআইফাইভের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০ জন যুক্তরাজ্য-সংলগ্ন গবেষক ও একাডেমিক এমএসএস দ্বারা অর্থায়িত এই প্রকল্পে কাজ করেছেন। গবেষকদের অজান্তেই অথবা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের তথ্য সংগ্রহ করা চীনের গোয়েন্দা কৌশলের একটি অংশ। এর আগে ২০২৩ সালের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করা যুক্তরাজ্যের আইনে মারাত্মক অপরাধ।
যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাত দীর্ঘদিন ধরেই চীনের অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে। দেশটির অ-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চীনা শিক্ষার্থীরাই বৃহত্তম গোষ্ঠী, যা প্রতি বছর ব্রিটিশ শিক্ষায় প্রায় ৬০ কোটি পাউন্ড অর্থ জোগায়। এছাড়া, সম্প্রতি চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২১-এর বেশি নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে, যার পঞ্চমংশের বেশি অংশীদারই যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এমন পরিস্থিতিতে এমআইফাইভের সতর্কতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রযুক্তি বা গবেষণাগুলোতে চিনের সাথে সহযোগিতা করা যাবে এবং কোনগুলোতে করা যাবে না—তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো চার্লস পার্টন এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউটের মিয়া নাউয়েন্সের মতে, শুধু নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম ঘোষণা করে বা সাধারণ সতর্কতা জারি করে এই ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মূলত তাদের কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ থাকে। তাই কোন ক্ষেত্রগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তা পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করে গবেষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা জরুরি।
Technology ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্নই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টের আসন্ন 'বিগ বিলিয়ন ডেজ' সেলে বেশ কয়েকটি মডেলের ওপর আকর্ষণীয় ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড পোকো। সি, এম এবং এক্স সিরিজের অন্তর্ভুক্ত পোকো ডিভাইসে এই মূল্যছাড় প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত ব্যাংক কার্ড ও ক্যাশব্যাক অফার ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতারা অতিরিক্ত সঞ্চয়ের সুযোগও পাবেন।এই মূল্যছাড়ের আওতায় রয়েছে পোকো এক্স৮ প্রো ম্যাক্স ৫জি, যা দুটি আলাদা কনফিগারেশনে বাজারে উপলব্ধ হবে। এছাড়া কোম্পানি নিশ্চিত করেছে…
Technology ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টের আসন্ন 'বিগ বিলিয়ন ডেজ' সেলে বেশ কয়েকটি মডেলের ওপর আকর্ষণীয় ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড পোকো। সি, এম এবং এক্স সিরিজের অন্তর্ভুক্ত পোকো ডিভাইসে এই মূল্যছাড় প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত ব্যাংক কার্ড ও ক্যাশব্যাক অফার ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতারা অতিরিক্ত সঞ্চয়ের সুযোগও পাবেন।
এই মূল্যছাড়ের আওতায় রয়েছে পোকো এক্স৮ প্রো ম্যাক্স ৫জি, যা দুটি আলাদা কনফিগারেশনে বাজারে উপলব্ধ হবে। এছাড়া কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে পোকো এক্স৮ প্রো এবং পোকো এক্স৮ পাওয়ার মডেল দুটির দামও এই সেল চলাকালীন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমানো হবে।
ফ্লিপকার্টের বার্ষিক এই বিগ বিলিয়ন ডেজ সেল সব সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আগামী ৯ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। তবে ফ্লিপকার্টের বিশেষ সুবিধাভোগী সদস্য এবং নির্দিষ্ট ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডধারীরা একদিন আগেই অর্থাৎ ৮ অক্টোবর থেকে অফারগুলো পাওয়ার আগাম সুবিধা পাবেন।
ফ্লিপকার্ট তাদের এই কেনাকাটার উৎসবে ব্যাংক অফারের আওতায় তাৎক্ষণিক মূল্যছাড়ের সুযোগ দিচ্ছে। গ্রাহকরা এই সেল চলাকালীন নির্ধারিত পোকো স্মার্টফোনগুলো তাদের বাজেটের মধ্যে সহজে কিনে নিতে পারবেন।
Technology ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্নপ্রযুক্তি ব্র্যান্ড ভিভো ভারতীয় বাজারে তাদের দুটি জনপ্রিয় স্মার্টফোন—ভিভো টি৫ লাইট ৫জি এবং ভিভো টি৫ প্রো ৫জি-এর নতুন র্যাম ও স্টোরেজ কনফিগারেশন উন্মোচন করেছে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টগুলো ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।ফ্লিপকার্টের তালিকায় ফোনগুলোর জন্য 'কামিং সুন' বা 'শীঘ্রই আসছে' ট্যাগ যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, খুব দ্রুতই ক্রেতারা নতুন এই স্টোরেজ অপশনগুলো কেনার সুযোগ…
Technology ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ন
প্রযুক্তি ব্র্যান্ড ভিভো ভারতীয় বাজারে তাদের দুটি জনপ্রিয় স্মার্টফোন—ভিভো টি৫ লাইট ৫জি এবং ভিভো টি৫ প্রো ৫জি-এর নতুন র্যাম ও স্টোরেজ কনফিগারেশন উন্মোচন করেছে। নতুন এই ভ্যারিয়েন্টগুলো ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফ্লিপকার্টে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ফ্লিপকার্টের তালিকায় ফোনগুলোর জন্য 'কামিং সুন' বা 'শীঘ্রই আসছে' ট্যাগ যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, খুব দ্রুতই ক্রেতারা নতুন এই স্টোরেজ অপশনগুলো কেনার সুযোগ পাবেন।
নতুন তালিকার তথ্য অনুযায়ী, ভিভো টি৫ লাইট ৫জি ফোনটি এখন ৪ জিবি র্যাম এবং ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ অপশনে পাওয়া যাবে। যারা সাশ্রয়ী মূল্যে ফাইভ-জি ফোন খুঁজছেন, তাদের লক্ষ্য করেই এই ভ্যারিয়েন্টটি আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ভিভো টি৫ প্রো ৫জি মডেলটিতে নতুন ৬ জিবি র্যাম এবং ১২৮ জিবি স্টোরেজ কনফিগারেশন যুক্ত করা হয়েছে। মধ্যম বাজেটে উন্নত পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে এই মডেলটিকে সাজানো হয়েছে।
প্রসেসরের দিক থেকে, ভিভো টি৫ লাইট ৫জি মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৬৩০০ চিপসেট। এটি দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং সাধারণ গেমিংয়ের জন্য ভালো পারফরম্যান্স প্রদান করবে।
ভিভো টি৫ প্রো ৫জি স্মার্টফোনটি চালিত হয় শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ চিপসেট দিয়ে। এই প্রসেসরটি মাল্টিটাস্কিং এবং ভারী অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দ্রুত গতি নিশ্চিত করবে।
নতুন এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর যুক্ত হওয়ার ফলে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী আরও নতুন বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ফ্লিপকার্টে তালিকাভুক্ত হলেও এগুলোর সঠিক দাম ও বিক্রির তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
Uncategorized ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্নআজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কফি উদ্যাপন, প্রতি কাপ কফির নেপথ্য কারিগরদের শ্রদ্ধা’। কফি চাষ এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণে যাঁরা কঠোর পরিশ্রম ও অবদান রাখছেন, তাঁদের বিশেষ সম্মান জানাতেই এই দিবসে তাঁদের স্মরণ করা হচ্ছে।একসময় বাংলাদেশে কফি পানের অভ্যাস মূলত অভিজাত ক্যাফে ও বাসাবাড়ির ড্রয়িংরুমের শৌখিনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সময়ের আবর্তে দেশের কফি-সংস্কৃতিতে এসেছে এক বড়…
Uncategorized ডেস্ক: ১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন
আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কফি উদ্যাপন, প্রতি কাপ কফির নেপথ্য কারিগরদের শ্রদ্ধা’। কফি চাষ এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণে যাঁরা কঠোর পরিশ্রম ও অবদান রাখছেন, তাঁদের বিশেষ সম্মান জানাতেই এই দিবসে তাঁদের স্মরণ করা হচ্ছে।
একসময় বাংলাদেশে কফি পানের অভ্যাস মূলত অভিজাত ক্যাফে ও বাসাবাড়ির ড্রয়িংরুমের শৌখিনতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে সময়ের আবর্তে দেশের কফি-সংস্কৃতিতে এসেছে এক বড় ধরনের পরিবর্তন। বর্তমানে কফি আর কেবল আভিজাত্য বা বিলাসী পানীয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি বাসা, অফিস, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস ও ভ্রমণের নিত্যদিনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে জেন-জি ও জেন আলফা প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা এখন চায়ের বিকল্প হিসেবে কফিকেই তাঁদের দৈনন্দিন প্রধান পানীয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দ্রুত নগরায়ণ, বৈশ্বিক জীবনযাত্রার প্রভাব এবং রাতে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করা কিংবা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজে জেগে থাকার অভ্যাসের কারণে তরুণদের কাছে কফি একটি জরুরি অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।
দেশে বিশেষায়িত কফি শপ এবং বিন কফির বাজার প্রতিনিয়ত বিস্তৃত হলেও এখনো ইনস্ট্যান্ট কফির চাহিদা ও দাপটই সবচেয়ে বেশি। আলাদা কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতি ছাড়াই সহজে ও দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলে সাধারণ গ্রাহকদের বাসা ও কর্মস্থলে ইনস্ট্যান্ট কফিই প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে গলির মোড়ের টংদোকানগুলোতেও কফির সহজলভ্যতা বেড়েছে। মাত্র ১৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে ইনস্ট্যান্ট কিংবা ফেনা তোলা কফি। ফলে রিকশাচালক, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন ক্লান্তি দূর করার এক বড় ভরসা হয়ে উঠেছে টংদোকানের কফি।
অন্যদিকে আভিজাত্য ও আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে ক্যাপুচিনো, লাতে, আমেরিকানো কিংবা কোল্ড কফির মতো পানীয়ের জনপ্রিয়তাও সমানভাবে বাড়ছে। দেশের কফি ব্যবহারের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা গেছে আমদানির তথ্যেও। টানা তিন বছর আমদানি হ্রাসের পর সর্বশেষ অর্থবছরে কফি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
একসময় কেবল শীতকালের শৌখিন পানীয় হিসেবে বিবেচিত কফি এখন বাঙালির বারো মাসের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। সকালের আলস্য ও ক্লান্তি দূর করা থেকে শুরু করে গভীর রাতের আড্ডা পর্যন্ত—বাঙালির দৈনন্দিন জীবনযাপনে কফি এখন চায়ের মতোই এক চিরচেনা অভ্যাসে রূপ নিয়েছে।
Published newsroom dispatches by Liton Hossain Jihad.
Visual work published by this member.
Selected published work from this profile.

ঘৃণার পাহাড়টি আজ এতটাই দুর্লঙ্ঘ্য হয়ে উঠেছে যে, তাকে অতিক্রম করে আর তোমার কাছে ফেরার কোনো পথ অবশিষ্ট…

ুািাি

ুািাৃু

মন খারাপের অসুখটা আমাকে ছাড়েই না। সে কোনো দৃশ্যমান ব্যাধি নয়, কোনো চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাতায় তার নাম নেই, কোনো…
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নবাগত পুলিশ সুপারের যোগদান।

‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের…

‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের…

“প্রকৃতি যখন নিজের রঙে সাজায় নিজেকে, তখন শব্দরা থমকে দাঁড়ায়; শুধু চোখ ভরে দেখে যেতে হয় এই নীরব…

এখন আর আগের মতো রেকর্ড করা হয়নি। ২০১৫ থেকে ২০ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল খুব আনন্দের

পথিকটিভি স্টোর

ব্রিটেনের একটি স্থানীয় প্রাণী উদ্ধার সংস্থায় অদ্ভুত এক ফোন আসে একবার। জানানো হয়, একটি কাঠবিড়ালি মাথায় কিছু একটা…

পথিকটি়ভির সংবাদ সেকশন এখন নতুন ভাবে আসছে!
Skills stored in this member's professional account.
Achievements and accolades stored for this member.
To: Liton Hossain Jihad
Private messages are stored by PothikTV. Do not assume end-to-end encryption unless a separate secure channel is configured.
Update, lead, inquiry, event, poll, visual or announcement
In Safari, tap Share, then choose Add to Home Screen.






