এইচএসসির ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাসের হারে শীর্ষে সদর, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে সরকারি কলেজ
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সদর উপজেলা। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কসবা উপজেলা। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও জেলায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১১ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর […]

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সদর উপজেলা। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে কসবা উপজেলা। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও জেলায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১১ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ হাজার ৭৯১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫ হাজার ৭৭৩ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৯৭ জন এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নবীনগর উপজেলায় ১০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে ৩ হাজার ৯৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৭৫৬ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আশুগঞ্জ উপজেলা। সেখানে ৫৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭৪ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আখাউড়ায় ৬০০ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৫৪ জন, পাসের হার ৫৯ শতাংশ। নাসিরনগরে ৫৪৮ জনের মধ্যে ২৭০ জন পাস করেছে, পাসের হার ৪৭ শতাংশ। বিজয়নগরে ৬৪৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬৭ জন। পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে সরাইল, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও কসবা উপজেলা। সরাইলে পাসের হার ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ, নবীনগরে ৩৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বাঞ্ছারামপুরে ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং কসবায় সবচেয়ে কম ২৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
কলেজভিত্তিক ফলাফলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে জেলার শীর্ষে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। এ বছর কলেজটি থেকে ১ হাজার ১৯৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ হাজার ১৮ জন। পাসের হার ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯১ জন।
শহরের কলেজগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনাইটেড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৪৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৮৫ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজ। এ কলেজ থেকে ৮৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। তবে প্রকাশিত তথ্যে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৯৭ জন উল্লেখ করা হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে বেশি। ফলে এ কলেজের পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
সামগ্রিক ফলাফলে সদর উপজেলার ভালো অবস্থানের বিপরীতে কসবা উপজেলার পাসের হার আশাব্যঞ্জক নয়। একই সঙ্গে জেলার মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
