বাঞ্ছারামপুরে ফারজানার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি, মানববন্ধনে এলাকাবাসী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামকে ঘিরে রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় ফারজানার বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালীপুর সরকারি প্রাথমিক […]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামকে ঘিরে রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এ সময় ফারজানার বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের জয়কালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসী ও খাদেমুল ইসলাম মানবকল্যাণ সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফারজানার স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শুকুর আলী প্রধানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবুল কাশেম, শাহ আলম, মো. মোহন মেম্বার, মো. নাজিম উদ্দিন সরকার, হাফেজ মাহমুদুল হাসান রাসেল, শামীম বেপারী, আলিম আল কাছির, খাদেমুল ইসলাম, মো. সায়মন, আহম্মেদ, আলমগীর হোসেন, মো. আনারুল হক, মো. ফারুক মিয়া, শাহরিয়ার সুজন ও শাকিরুজ্জামান শাকির।
ফারজানা ইসলাম বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জয়কালীপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ফাজিলের মেয়ে। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তাঁরা দুজনই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যেও বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর আগে ফারজানার পরিবারের পক্ষ থেকে নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। পরে দুই পরিবারের আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয় বলে জানান ফারজানার বাবা।
মানববন্ধনে ফারজানার বাবা রফিকুল ইসলাম ফাজিল অভিযোগ করেন, পরকীয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হত্যার পর ফারজানার মরদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করেননি; বরং তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফারজানা ছিলেন একজন মেধাবী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ফারজানার পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।
