আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল, এআই অডিট ও ভারী জরিমানার হুঁশিয়ারি এফবিআরের
পাকিস্তান ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ (এফবিআই) আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়সীমা ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে। ভুল তথ্য বা সম্পদ গোপনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও এআই প্রযুক্তির সাহায্যে অডিটের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

World ডেস্ক: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ন
পাকিস্তানের ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ (এফবিআর) আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমার আগে করদাতাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। আগামীকাল ৩১ অক্টোবর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুল তথ্য প্রদান বা আয় গোপন করার চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্রে জানা গেছে, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে ভারী জরিমানা আরোপ করা হবে।
এফবিআর সূত্র জানিয়েছে, নতুন আয়কর রিটার্নে সম্পত্তি বা আর্থিক রেকর্ডে কোনো ধরনের জালিয়াতি পাওয়া গেলে জরিমানা করা হবে। ইতিমধ্যেই সংস্থাটি সারা দেশের নাগরিকদের সম্পত্তি ও আর্থিক সম্পদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। করদাতাদের জমা দেওয়া রিটার্ন যাচাই করতে এফবিআর একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ব্যবহার করবে। এর পাশাপাশি তথ্যের নিখুঁততা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হবে।
জরিমানা ও জটিলতা এড়াতে করদাতাদের অভিজ্ঞ পেশাদার পরামর্শকদের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি রিটার্নে কোনো ভুল থেকে থাকে, তবে তা আগামী ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১৮২ নম্বর ধারা এবং এর প্রাসঙ্গিক উপধারা অনুযায়ী এফবিআর যেকোনো প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে।
বেতনভোগী কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে একটি কঠোর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভুল বা মিথ্যা ঘোষণা দাখিল করলে বকেয়া করের ওপর ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। এ ছাড়া বকেয়া জরিমানা সময়মতো পরিশোধ না করা হলে প্রতিদিন ১,০০০ পাকিস্তানি রুপি করে বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে বেতনভোগী করদাতাদের জন্য একটি স্বস্তির খবরও পাওয়া গেছে। বেতনভোগী ব্যক্তিদের কাছে অগ্রিম আয়কর নোটিশ পাঠানোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন এফবিআরের চেয়ারম্যান রশিদ মাহমুদ ল্যাঙ্গরিয়াল। সূত্র মতে, এফবিআর চেয়ারম্যান মনে করেন কেবল বেতনের ওপর নির্ভর করা ব্যক্তিদের ওপর অগ্রিম আয়কর চাপানো যুক্তিসঙ্গত নয়।
সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেতনভোগী করদাতারা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রিম আয়কর দেওয়ার নোটিশ পাচ্ছিলেন। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের আওতায় যাদের একমাত্র আয়ের উৎস চাকরি বা বেতন, তারা আর এই ধরনের নোটিশ পাবেন না। তবে বেতন ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম থেকে আয় থাকলে সে ক্ষেত্রে অ্যাডজাস্টেবল অগ্রিম কর প্রযোজ্য হতে পারে।
বেতনভোগী কর্মচারীদের থেকে অতিরিক্ত সংগৃহীত অগ্রিম আয়কর দ্রুততম সময়ে সমন্বয় করা হবে বলে এফবিআর সূত্রে জানানো হয়েছে। সাধারণ চাকরিজীবীদের ওপর করের বোঝা কমানো এবং দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায়সঙ্গত কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবির মুখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।





