এআই নিয়ে অ্যানথ্রোপিক গবেষকদের তীব্র উদ্বেগ, জল্পনাকে ‘সাইঅপ’ আখ্যা ইলন মাস্কের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চূড়ান্ত ঝুঁকি ও মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যানথ্রোপিকের গবেষকরা। অন্যদিকে এই উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র বা ‘সাইঅপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ইলন মাস্ক।

প্রযুক্তি ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভয়াবহ ঝুঁকি ও এর সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে এআই স্টার্টআপ কোম্পানি অ্যানথ্রোপিকের গবেষক ও কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তীব্র হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক গবেষকের সাম্প্রতিক পদত্যাগের পর একাধিক বর্তমান গবেষক প্রকাশ্যে এই প্রযুক্তির চরম ঝুঁকি এবং মানবজাতির সম্ভাব্য বিলুপ্তির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে এসব আশঙ্কাকে ষড়যন্ত্র বা সাজানো নাটক (‘সাইঅপ’) বলে অভিহিত করেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কসহ বেশ কয়েকজন কট্টরপন্থী ব্যক্তিত্ব।
ঘটনার সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। কক্সন গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানান, তার সাবেক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক কিংবা এর প্রতিযোগী ওপেনএআই—কোনোটিই দায়িত্বশীলভাবে এআই মডেল তৈরি করছে না। তারা মানুষের জীবন নিয়ে এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় মেতেছে। এরপরই অ্যানথ্রোপিকের অন্যান্য গবেষকরা তার বক্তব্যের সমর্থনে মুখ খুলতে শুরু করেন।
অ্যানথ্রোপিকের আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সেফটি বিভাগে কর্মরত এবং গুগল ডিপমাইন্ডের সাবেক কর্মী অ্যানা ওয়াং বৃহস্পতিবার জানান, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের উন্নতি ঘটাতে সক্ষম এআই মডেলগুলোর ঝুঁকি সমাধানের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা নেই। তাই ঝুঁকি কমানোর উপায় বের করতে অনেকেই এই প্রযুক্তির বিকাশের গতি কমানোর পক্ষে। প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী ড্রেক থমাসও জানান, চরম ঝুঁকিপূর্ণ আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্সের (এএসআই) ব্যাপারে আমরা কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারিনি এবং বর্তমানে সবকিছু অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।
অ্যানথ্রোপিকের সেফটি রিসার্চার স্যামুয়েল মার্কস উল্লেখ করেন, এআই ডেভেলপাররা মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। সাধারণত প্রতিষ্ঠানের কর্মী যত বেশি সিনিয়র, তার উদ্বেগের মাত্রাও তত বেশি। অন্যদিকে, অ্যালাইনমেন্ট ডিভিশনের প্রধান ইভান হাবিনগার স্বীকার করেছেন যে তারা সত্যিই মনে করেন এআই মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগামী এক দশকের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি বলে ধারণা করছেন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এসব উদ্বেগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইলন মাস্ক। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে একটি ‘সেটআপ’ বা সাজানো ঘটনা বলে অভিহিত করেন। এর জবাবে কক্সন নিজের একটি সেলফি পোস্ট করে মাস্ককে উদ্দেশ্য করে লেখেন, তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি এবং এগুলো তার নিজস্ব বিশ্বাস। মাস্ক তার নিজের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই (xAI)-এর গবেষকদের কাছেও চাইলে খোঁজ নিতে পারতেন, যদি না তিনি তাদের চাকরিচ্যুত করতেন।
ইলন মাস্ক এবং এআই সমর্থকদের একাংশের মতে, কক্সনের পদত্যাগ ও পরবর্তী পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ। কনজারভেটিভ থিঙ্কট্যাঙ্ক ক্যাপিটাল রিসার্চের গবেষক পার্কার থায়ার দাবি করেন, এটি এআই নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন জোগাড় করার একটি সুঅর্থায়িত জনসংযোগ অভিযান। বিলিয়নিয়ার সিইও বিল অ্যাকম্যানও এই তত্ত্বটিকে ‘আকর্ষণীয়’ বলে মন্তব্য করেন।
সামগ্রিক বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র কোম্পানির কৌশল সমর্থন করে জানান, এআই যেমন বিশাল সুবিধা এনে দেবে, তেমনি অভূতপূর্ব ঝুঁকিও তৈরি করবে—এ বিষয়ে তারা সবসময়ই স্বচ্ছ। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় তারা শিল্পখাতের অন্যতম শক্তিশালী সুরক্ষাবলয়সহ মডেল তৈরি করে যাচ্ছেন।
অবশ্য সব বিশেষজ্ঞ মানব বিলুপ্তির ধারণায় বিশ্বাসী নন। এআই বিশেষজ্ঞ গ্যারি মার্কাস জানান, বিলুপ্তির চেয়েও বর্তমানে এআই-উৎপাদিত রোগজীবাণু, ভুল তথ্যের মাধ্যমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া কিংবা সাইবার হামলার মাধ্যমে অবকাঠামো ধ্বংস হওয়ার মতো বাস্তব বিপর্যয়ের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বেশি চিন্তিত। কাকতালীয়ভাবে, একই দিনে অ্যানথ্রোপিক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, তাদের এআই মডেল ব্যবহার করে জৈবিক অস্ত্র তৈরির একটি প্রচেষ্টা তারা সফলভাবে নস্যাৎ করেছে।
সূত্র: The Guardian – Technology






