POTHIKTV

টুয়ামের গণকবরের ইতিহাস সেলুলয়েডে: লিয়াম নিসনের প্রযোজনায় তৈরি হলো ‘দ্য লস্ট চিলড্রেন অব টুয়াম’

আয়ারল্যান্ডের টুয়ামে মাদার অ্যান্ড বেবি হোমে প্রায় ৮০০ শিশুর মৃত্যুর মর্মান্তিক সত্য উন্মোচন করেছিলেন এক অপেশাদার ইতিহাসবিদ। সেই ঘটনা নিয়ে প্রযোজক লিয়াম নিসন নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র।

টুয়ামের গণকবরের ইতিহাস সেলুলয়েডে: লিয়াম নিসনের প্রযোজনায় তৈরি হলো ‘দ্য লস্ট চিলড্রেন অব টুয়াম’

Entertainment ডেস্ক: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ন

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি গলওয়ের টুয়ামে ক্যাথলিক নানদের পরিচালিত একটি মাদার অ্যান্ড বেবি হোমে প্রায় ৮০০ শিশুর মৃত্যু ও তাদের অচিহ্নিত গণকবরের করুণ ইতিহাস এবার রুপালি পর্দায় উঠে এসেছে। ‘দ্য লস্ট চিলড্রেন অব টুয়াম’ নামের এই ফিচার চলচ্চিত্রটির প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন হলিউড অভিনেতা লিয়াম নিসন। চলতি সপ্তাহে আয়ারল্যান্ডে এবং আগামী মাসে যুক্তরাজ্যে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে।

২০১৭ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ড্যান বেরির একটি প্রতিবেদন পড়ে এই ট্র্যাজেডির বিষয়ে জানতে পারেন ক্যাথরিন করলিস নামের এক স্থানীয় অপেশাদার ইতিহাসবিদ। ক্যাথরিন নিজের অনুসন্ধানের মাধ্যমে উন্মোচন করেন যে, কীভাবে প্রশাসনিক ও ধর্মীয় অবহেলার কারণে শত শত শিশুর প্রাণ গিয়েছিল এবং তাদের লাশ গণকবরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরটি পড়ে গভীরভাবে মর্মাহত হন অভিনেতা লিয়াম নিসন।

ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠা নিসন নিজেই একসময় গির্জার অলটার বয় ছিলেন। এই ঘটনা জানার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সত্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবং নিহত শিশুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে তার প্রভাব ব্যবহার করবেন। এরপর তিনি প্রথমবারের মতো প্রযোজকের ভূমিকা গ্রহণ করেন, প্রতিবেদনের স্বত্ব কেনেন এবং ক্যাথরিন করলিসের সঙ্গে দেখা করে চলচ্চিত্র তৈরির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ নয় বছরের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে এই চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্রটির মুক্তি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন পাঁচ হাজার বর্গমিটারের সেই বিতর্কিত স্থানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল ও ফরেনসিক প্রত্নতাত্ত্বিকরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ১৯২৫ থেকে ১৯৬লাই সাল পর্যন্ত সেন্ট ম্যারিস মাদার অ্যান্ড বেবি হোমে বোন সেকোর্স অর্ডার নামক ধর্মীয় গোষ্ঠী প্রায় ৭৯৬ জন শিশুর লাশ দাফন করেছিল বলে ধারণা করা হয়। গত বছর থেকে শুরু হওয়া খননকাজে এ পর্যন্ত ৯৯ জন শিশু ও নবজাতকের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্যাথরিন করলিস তার অনুসন্ধানের শুরুতে কর্তৃপক্ষ ও বোন সেকোর্স অর্ডারের নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে তিনি দমে যাননি। তার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে যে ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ও ভেঙে ফেলার আগে সেখানে ৭৯৬ জন শিশু মারা যায়, যাদের দাফনের কোনো সরকারি নথি রাখা হয়নি। ক্যাথরিনের এই অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করেই রেবেকা লেনকিউইচ ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনায় ছিলেন ফ্রাঙ্ক বেরি।

চলচ্চিত্রটিতে ক্যাথরিন করলিসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী মনিকা ডোলান। ক্যাথরিনের স্বামী এইডানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যান্ড্রু বেনেট। ছবিটি ইতিমধ্যে সমালোচকদের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে। গত জুলাইয়ে গলওয়ে ফিল্ম ফ্লিতে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ারে এটি সেরা আইরিশ চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে।

ক্যাথরিন করলিস ছবিটির মূল্যায়নে বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে এটি নির্মাণ করেছেন। এটি সাধারণ মানুষের দৃঢ়তার এক অসাধারণ উদাহরণ এবং দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করবে। অন্যদিকে পরিচালক ফ্রাঙ্ক বেরি জানান, ছবিটিতে ক্যাথরিনের সততা ও অধ্যবসায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা প্রমাণ করে যে একজন সাধারণ মানুষও সত্য উদঘাটনে অসাধারণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Film
1
0 comments·0 shares

সম্পর্কিত সংবাদ

এই বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংবাদ

Entertainment →