ইনিয়ারিতুর নতুন পরিবেশভিত্তিক ব্যাঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র ‘ডিগার’-এ অভিনয়ে টম ক্রুজ
অস্কারজয়ী মেক্সিকান পরিচালক আলেহান্দ্রো গোনসালেস ইনিয়ারিতুর পরিবেশভিত্তিক স্যাটায়ার চলচ্চিত্র ‘ডিগার’-এ টেক্সাসের এক তেল ধনকুবেরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম ক্রুজ। ২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটি।

Entertainment ডেস্ক: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ন
অস্কারজয়ী মেক্সিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেহান্দ্রো গোনসালেস ইনিয়ারিতুর নতুন সিনেমা ‘ডিগার’ বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। জলবায়ু সংকট ও পরিবেশগত বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই স্যাটায়ার বা ব্যাঙ্গাত্মক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউড তারকা টম ক্রুজ। ছবিটিতে তাকে টেক্সাসের এক তেল ধনকুবের ‘ডিগার’ রকওয়েলের ভূমিকায় দেখা যাবে। আগামী ২ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে এই ছবি।
চলচ্চিত্রটির গল্পে দেখা যায়, টেক্সাসের প্রবীণ তেল ব্যবসায়ী ডিগার রকওয়েল আর্টিকা অঞ্চলে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তেল উত্তোলনের কাজ পরিচালনা করেন। এই দায়িত্বজ্ঞানহীন ড্রিলিংয়ের ফলে আর্টিক ভূখণ্ড থেকে ম্যানহাটন দ্বীপের চেয়েও কয়েক গুণ বড় একটি বিশাল বরফখণ্ড আলাদা হয়ে দ্রুত নরওয়ের উপকূলের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। এই আসন্ন দুর্যোগের প্রভাব একটি পারমাণবিক আক্রমণের মতো ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেন কোম্পানির প্রধান বিজ্ঞানী গণেশ। অভিনেতা রিজ আহমেদ এই বিজ্ঞানীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি দীর্ঘ দিন ধরে ডিগারকে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ড্রিলিং বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।
বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের সংকট দেখা দেওয়া সত্ত্বেও ডিগার চরিত্রটিকে নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হতে দেখা যায় না। সংকট মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে যোগ দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কম্পসনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেই বৈঠকে সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ ও ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জন গুডম্যান এবং ভাইস-প্রেসিডেন্টের চরিত্রে রয়েছেন মাইকেল স্টুহলাবার্গ। বৈঠকে ডিগার পুরো পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সরকারি ভর্তুকি ও অনুমতি দেওয়ার পর এখন দায়িত্ব এড়াতে চাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন।
ছবিটিতে সিনেমাটোগ্রাফার ইমানুয়েল লুবেজকি এবং প্রোডাকশন ডিজাইনার ডেনিস গ্যাজনারের কাজ বেশ কিছু স্বপ্নিল ও উদ্বেগজনক দৃশ্য তৈরি করেছে। টম ক্রুজ এই চরিত্রটির জন্য টাক মাথা ও অন্যান্য কৃত্রিম রূপসজ্জা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি তার হাতে একটি পুরোনো কোদাল দেখা যায়, যা ১০০ বছর আগে টেক্সাসে তার দাদা প্রথম তেল খোঁজার সময় ব্যবহার করেছিলেন। ডিগার তার বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝাতে বারবার এই কোদালটি প্রদর্শন করেন।
চলচ্চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে জাতিসংঘের একটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন ডিগার। সেখানে তিনি তেল ব্যবহারের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক নেতা ও প্রতিনিধিদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশ্ববাসী তেল ছাড়া এক মুহূর্ত চলতে পারে না উল্লেখ করে তাদের এই অবস্থানকে ভণ্ডামি বলে আখ্যা দেন তিনি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তর তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন এই চরিত্রটি।
ছবিটিতে ডিগারের সৎ বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন স্যান্ড্রা হুলার। তবে তার চরিত্রটির ব্যাপ্তি সম্পাদনার টেবিলে কিছুটা ছোট হয়ে গেছে বলে মনে হয়। গল্পে হঠাৎ একটি অপ্রত্যাশীত মোড় আসে, যা সিনেমার গতিপথ পরিবর্তন করে দ্বিতীয় একটি বয়ান তৈরি করে। আর্টিকা অঞ্চল ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের লোভনীয় মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ছবিটিতে বিশেষ কিছু বার্তা রয়েছে। অ্যাডাম ম্যাককের ‘ডোন্ট লুক আপ’ চলচ্চিত্রের মতোই এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কথা বলা একটি মূলধারার চলচ্চিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।






