বাংলাদেশিদের নেতিবাচক কর্মকান্ডে মালয়েশিয়ায় ক্ষুন্ন দেশের ভাবমূর্তি
এম এ আবির, মালয়েশিয়া, সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রতিদিন অসংখ্য বাংলাদেশি পাড়ি জমান বিদেশে । মধ্যবিত্ত পরিবারের এসব সদস্যদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। তবে সেখানে গিয়ে কেউ কেউ প্রতারণা করেন আবার অনেকে প্রতারণার শিকার হোন। এসব প্রতারক চক্র সাধারণ প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টিকটক, ইন্সটাগ্রামে বেশ সক্রিয়। চক্রটি বিভিন্ন সময় […]

এম এ আবির, মালয়েশিয়া,
সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রতিদিন অসংখ্য বাংলাদেশি পাড়ি জমান বিদেশে । মধ্যবিত্ত পরিবারের এসব সদস্যদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া। তবে সেখানে গিয়ে কেউ কেউ প্রতারণা করেন আবার অনেকে প্রতারণার শিকার হোন। এসব প্রতারক চক্র সাধারণ প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টিকটক, ইন্সটাগ্রামে বেশ সক্রিয়। চক্রটি বিভিন্ন সময় সোশাল মিডিয়ায় নানা লোভনীয় ভিডিও আপলোড করে। আর তা দেখে অর্থনৈতিক হতাশায় থাকা সহজ সরল প্রবাসীরা ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারান, কেউ আবার নির্মম হত্যার শিকার হোন। সম্প্রতি শাহীন ও প্রজাপতি সাথী নামের বাংলাদেশি দম্পতির নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে নতুন করে আবারও সমালোচিত হওয়ার পাশাপাশি অস্বস্তিতে পড়েছেন দেশটিতে থাকা প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশি। এই দম্পাতি ব্যক্তিগত গাড়িতে এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রী আনা-নেয়া, বাংলাদেশে ফেরা যাত্রীদের কাছে স্বর্ণ পাচার করে। এছাড়াও মালয়েশিয়ায় থাকা অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানোর সাজানো ভিডিওর পাশাপাশি জোরপূর্বক অর্থ আদায়সহ অন্যান্যদের দেশে যেতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের স্পেশাল পাস নিতে হলে তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করেলে ক্ষোভে ফুঁসে উঠে মালয় নাগরিক। ইমিগ্রেশনের স্পেশাল পাস দেয়ার নামে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুয়ালালামপুরে একটি ফ্ল্যাটে আটকে প্রতারণমূলক টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এসব প্রতারক চক্রের মধ্যে আরো রয়েছে অনলাইন অফলাইন জুয়া। মালয়েশিয়ায় জুয়ার বিশ্বস্ত এজেন্ট হিসেবে পরিচিত আরেক বাংলাদেশি, যিনি মামুন এলবি নামে পরিচিত মালয়েশিয়ায় টোটো নামে জনপ্রিয় লটারী সাইট রয়েছে। এটি অমুসলিমদের জন্য বৈধ হলেও মুসলিমদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রতারক চক্র টোটোর লটারী নাম্বার জিতিয়ে দেয়ার জন্য সোশাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দেয়। শতভাগ ভূয়া এই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে নিস্ব হচ্ছেন অসংখ্য বাংলাদেশিরা। এছাড়া রয়েছে, অনলাইন অফলাইন জুয়ার গেম। মোবাইল ফোনে এ্যপস ডাউনলোড করে রিঙ্গিত রিচার্জ করে বাসায় বসেই এসব জুয়া খেলে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা।
এদিকে ফেসবুকে রাণী’স ভয়েস আইডি থেকে এক দম্পতি জেল খানায় আটক বাংলাদেশিদের ছাড়িয়ে আনতে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে চটকদার বিজ্ঞাপনে স্থানীয় আইনজীবীর সাথে কোন কোন থানা, ইমিগ্রেশনের ডিটেনশন ক্যাম্পের সামনে ভিডিও শ্যুট করে ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছে। দেশটিতে যেহেতু অসংখ্য বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করেন। স্বাভাবিকভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানে আটক হয়ে তারা ডিটেনশন ক্যাম্প/জেলে থাকেন। সেখানে তাদের সাজা শেষ হলে ইমিগ্রেশন থেকে দূতাবাসে তালিকা পাঠায়। যাদের পাসপোর্ট কাছে থাকেনা দূতাবাস থেকে তাদের নামে ট্রাভেল পাস ইস্যু এবং কখনো কখনো বিমান টিকিট ই-মেইল করা হয়। এরপর টিকিটের তারিখ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে বাংলাদেশে পৌছান। এছাড়া যাদের ভিসা আছে তারা অন্য জায়গায় কাজ করার অপরাধে আটক হলে মালিকপক্ষ গিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এখানে আইনজিবীর কোন ভূমিকা নেই। অথচ প্রতারক চক্র আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনার নামে তাদের আত্মীয় স্বজনদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেন, ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে এমন দৃশই চোখে পড়ে।
অন্যদিকে আরেকটি চক্র রয়েছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ভায়াগ্রা বিক্রি করে। এসব চক্রও নিজেদের যৌন বিশেসজ্ঞ দাবী করে নানা ধরণের যৌনউত্তেজক ট্যাবলেট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেন। কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এসব ভায়াগ্রা সেবন করে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝঁকিতে পড়ছেন অনেকে। অবৈধ এসব ঔষধ বিক্রির প্রধান স্পট রাজধানী কুয়ালালামপুরের মিনি ঢাকা খ্যাত কোতরায়ায়। কোতরায়া দিয়ে হেটে গেলে গুলিস্তানের মতোই যৌনকর্মী এবং ঔষধ বিক্রেতারা ডাকাডাকি করেন। ডাকে সাড়া দিলেই ছোট চিকন সিড়ি দিয়ে দোতালয়ে নিয়ে যান। এরপর অপ্রয়োজনীয় ঔষধ নিতে বাধ্য করেন। দেশটির আইন শৃংখলাবাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে আটক করলেও থেমে নেই এসব অপকর্ম।
এছাড়া গুজব ছড়ানোর তালিকার উপরের সারিতেও রয়েছে এসব চক্র। কখনো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয় কখনো শ্রমবাজার কখনো বা সেদেশের কাজ এমনকি টাকার মান নিয়েও। ফেসবুকে হাবিব ভাই নামে এক আইডি থেকে গুজব ছাড়ানো হয় পাথরের নিচে স্থানীয় মুদ্রা রিঙ্গিত থাকে। তার ভিডিওতে দেখান পাথর সড়িয়ে ১০০ রিঙ্গিত পেয়েছেন। এছাড়া ফুটপাত থেকে দুই রিঙ্গিতে সরবত কিনে ১০০ দিয়ে কেনার দাবী করেন। আবার ১০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা প্রচার করেন। যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে ভিডিও করার অপরাধে বিভিন্ন সময় সেদেশর পুলিশের হাতে আটকও হোন অনেকে।
এর আগে ২০১৯ সালে স্থানীয় গণমাধ্যম হরিয়ানা মেট্রোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। যার শিরোনাম ছিলো “বাংলা জুয়াল বাংলা“ অর্থাৎ বাংলাদেশিরাই বাংলাদেশিদের বিক্রি করে। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এসব চক্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে দিন দিন বাংলাদেশের প্রতি তাদের নিতিবাচক ধারণা আরো বাড়বে।
