সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার মৃত্যু: দ্বীপকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পিবিআই ও নৌ পুলিশ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি’র মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌ পুলিশ ও পিবিআই।

Bangladesh ডেস্ক: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫৫ পূর্বাহ্ন
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি’র (২৮) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌ পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে দ্বীপকে নিয়ে টঙ্গীর হোন্ডা রোড ও হাজী মাজার বস্তি সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ এলাকায় অভিযান ও পরিদর্শন চালানো হয়।
এর আগে বুধবার বিকেলে ঢাকার তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। ঘটনার পর কাছেই টঙ্গী সেনাকল্যাণ সংস্থার পাশে হোন্ডা রোড এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হোন্ডা রোডের ওই জায়গা এবং হাজী মাজার বস্তি সংলগ্ন ইজতেমার মাঠ পরিদর্শনে যান তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
তদন্তে জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর আগে এই স্থানটিতেই তাহসিফ ও দ্বীপ একসঙ্গে এসেছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তারা সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ কিছু লোক তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন এবং দ্বীপ সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজবাড়ী ঘাট এলাকাটি স্থানীয়ভাবে মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, যেসব লোক তাদের ধাওয়া করেছিল তারা মাদক কারবারি হতে পারে। তাদের ধাওয়ার মুখে পড়ে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দিয়ে পানিতে ডুবে মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পিবিআই আরও জানিয়েছে, ঘটনার তথ্য সংগ্রহের জন্য বুধবার রাতেই দ্বীপকে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দুজনে একসাথে ঠিক কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কী ঘটেছিল—দ্বীপের দেওয়া সেসব তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির বিষয়ে পিবিআই নিশ্চিত করেছে যে, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ওই মোটরসাইকেলটিই ব্যবহার করছিলেন। তবে মোটরসাইকেলটিতে কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজেও তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে নম্বর প্লেট দেখা যায়নি। যানবাহনটির মূল মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই চলছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, দ্বীপের দেওয়া বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং ধাওয়াকারীদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
ঘটনাটির মূল তদন্ত পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় পিবিআই এর ছায়া তদন্ত করছে। পুলিশের অন্যান্য সংস্থার মতো পিবিআই নৌ পুলিশকে সহযোগিতার জন্য মাঠে কাজ করছে এবং সংগৃহীত সব তথ্য নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।





