জাজিরাতুল আরব থেকে সৌদি আরব: ইতিহাস, নজদ, ইয়েমেন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচলিত দাবির বাস্তবতা ↗
PothikTV
September 17, 2026
daily sokaler somay, bangladesher khabor, sobuj bangla, songbad
BSS, LLB, post graduate journalism
Reputation Building
PothikTV
September 17, 2026
PothikTV
September 16, 2026
PothikTV
September 14, 2026
PothikTV
September 3, 2026
PothikTV
September 1, 2026
PothikTV
June 8, 2026
PothikTV
May 23, 2026
PothikTV
May 23, 2026
লিটন হোসাইন জিহাদ: আজ International Workers' Day—শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক। উনিশ শতকের শেষভাগে শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী বিশ্বে শ্রমের শোষণ যখন চরমে পৌঁছায়, তখনই শ্রমঘণ্টা কমানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেন। এই সংগ্রামের এক মাইলফলক হয়ে ওঠে ১৮৮৬ সালের Haymarket affair, যেখানে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠার দাবিতে রক্ত ঝরে। সেই আন্দোলনের উত্তরাধিকারেই আজকের শ্রমিক দিবস, যা কেবল একটি স্মরণদিবস নয়, বরং চলমান…
লিটন হোসাইন জিহাদ: আজ International Workers' Day—শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক প্রতীক। উনিশ শতকের শেষভাগে শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী বিশ্বে শ্রমের শোষণ যখন চরমে পৌঁছায়, তখনই শ্রমঘণ্টা কমানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেন। এই সংগ্রামের এক মাইলফলক হয়ে ওঠে ১৮৮৬ সালের Haymarket affair, যেখানে ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস প্রতিষ্ঠার দাবিতে রক্ত ঝরে। সেই আন্দোলনের উত্তরাধিকারেই আজকের শ্রমিক দিবস, যা কেবল একটি স্মরণদিবস নয়, বরং চলমান সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।
সময়ের সাথে সাথে বিশ্ব অর্থনীতি বদলেছে, উৎপাদন ব্যবস্থার ধরন পাল্টেছে, প্রযুক্তি শ্রমবাজারে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। কিন্তু শ্রমিকের জীবনের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো—ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা—অনেক ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত থেকে গেছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রেক্ষাপটে এই বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট।
বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শ্রমনির্ভর খাতসমূহ। তৈরি পোশাক শিল্প, যা Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association-এর নেতৃত্বে পরিচালিত, দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ যোগান দেয়। এই খাতে প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই নারী। তাদের নিরলস পরিশ্রম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রেখেছে, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ নিশ্চিত করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে এই অর্জনের পেছনের বাস্তবতা সবসময় আশাব্যঞ্জক নয়। ২০১৩ সালের Rana Plaza collapse গোটা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। কয়েক হাজার শ্রমিকের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা শিল্প নিরাপত্তার ভয়াবহ ঘাটতিকে সামনে এনে দেয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পরবর্তীতে কারখানা পরিদর্শন, অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। International Labour Organization-এর সহায়তায় বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমও চালু হয়। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই সংস্কার কতটা টেকসই? বাস্তবতার মাটিতে এখনো বহু কারখানায় নিরাপত্তা মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসৃত হয় না।
মজুরি কাঠামোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের বৈপরীত্য দেখা যায়। সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি সময়ে সময় বৃদ্ধি করা হলেও, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে তার সামঞ্জস্য প্রায়ই থাকে না। ফলে প্রকৃত আয়ের সক্ষমতা কমে যায়। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য হন, যেখানে ওভারটাইমের যথাযথ পারিশ্রমিক বা বিশ্রামের সুযোগ সবসময় নিশ্চিত হয় না। শ্রম আইন অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে এগুলোর প্রয়োগ খণ্ডিত।
বাংলাদেশের শ্রমবাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, যেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সংখ্যা মোট শ্রমশক্তির বড় অংশ। নির্মাণশ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, গৃহকর্মী—এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষার আওতার বাইরে। বিশেষ করে গৃহকর্মীরা প্রায়ই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করেন। তাদের কাজের স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য পৃথক নীতিমালা থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
সমসাময়িক বিশ্বে শ্রমের একটি নতুন রূপ হলো গিগ অর্থনীতি। রাইড-শেয়ারিং, ডেলিভারি সার্ভিস, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং—এসব প্ল্যাটফর্মভিত্তিক কাজ তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এতে কাজের সময়ের নমনীয়তা ও স্বাধীনতা থাকলেও, এই খাতে কর্মরতদের জন্য নেই স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা বা পেনশন সুবিধা। স্বাস্থ্যবিমা, দুর্ঘটনা সুরক্ষা বা অসুস্থতাজনিত ছুটি—এসব সুবিধা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে শ্রমের নতুন কাঠামো তৈরি হলেও, অধিকার নিশ্চিত করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়।
লিটন হোসাইন জিহাদ
ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতাও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যদিও আইনগতভাবে সংগঠিত হওয়ার অধিকার স্বীকৃত, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সীমিত থাকায় শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। International Labour Organization শ্রমিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে সংগঠনের স্বাধীনতা, জোরপূর্বক শ্রমের অবসান, শিশুশ্রম নির্মূল এবং বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেছে। বাংলাদেশ এই মানদণ্ডগুলোর অনেকগুলোর সঙ্গে একমত হলেও, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
শ্রমিক অধিকার প্রশ্নে শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর প্রয়োগ, স্বচ্ছ নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। রাষ্ট্র, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে নাগরিক সমাজ ও ভোক্তাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে পণ্য ব্যবহার করি, তার পেছনের শ্রমিকের জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন কাহিনিতে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন, কৃষি থেকে সেবা খাত—সব জায়গাতেই তাদের ঘাম ও শ্রম জড়িয়ে আছে। কিন্তু উন্নয়নের সুফল বণ্টনের ক্ষেত্রে এই শ্রমিকরা কতটা অংশীদার—এই প্রশ্নটি এখনও প্রাসঙ্গিক।
কাব্যিকভাবে বলা যায়, শ্রমিকের হাতেই গড়ে ওঠে নগরসভ্যতা, কিন্তু সেই হাত অনেক সময়ই শূন্য থেকে যায়। তাদের ঘামে অর্থনীতির চাকা ঘোরে, কিন্তু সেই ঘামের ন্যায্য মূল্য সবসময় প্রতিফলিত হয় না। এই বৈপরীত্যই শ্রমিক দিবসের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে।
শ্রমিক দিবস তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এটি হওয়া উচিত আত্মসমালোচনার একটি উপলক্ষ, যেখানে রাষ্ট্র ও সমাজ নিজেদের দায়বদ্ধতা পর্যালোচনা করবে। প্রশ্নটি সরল কিন্তু গভীর—আমরা কি শ্রমিককে কেবল একদিন স্মরণ করবো, নাকি প্রতিদিন তার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবো?
একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হলে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা—এসব অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্তও বটে।
যেদিন একজন শ্রমিক তার শ্রমের ন্যায্য মূল্য পাবে, কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পাবে এবং বার্ধক্যে সামাজিক সুরক্ষা পাবে—সেদিনই শ্রমিক দিবস ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ থেকে বাস্তব জীবনের প্রতিদিনের সত্যে পরিণত হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি এবং সর্বোপরি সামাজিক সচেতনতা—যেখানে শ্রমিক কেবল উৎপাদনের একটি উপাদান নয়, বরং একজন মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
সাইফুল ইসলাম, পুর্তগাল (লিসবন) : পর্তুগালে প্রথমবারের মতো হচ্ছে সর্ববৃহৎ বাংলা কনসার্ট। " লিসবন বাংলা লাইভ কনসার্ট-২০২৬ " গাইবেন নগরবাউল জেমস।আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫টায় লিসবনের ‘Lisboa Ao Vivo’ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মেগা এই ইভেন্ট। কাজা দো বাংলাদেশ ও নোটিসিয়াস বাংলা-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হবে এ কনসার্ট।কনসার্ট উপলক্ষে আয়োজনদের পক্ষ থেকে রোববার (লিসবন) পুর্তগাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এভিনিউ রোমার ‘লিটন’স টার্কিশ গ্রিল’-এ সংবাদ সম্মেলন ও ডিনার নাইট আয়োজন…
সাইফুল ইসলাম, পুর্তগাল (লিসবন) : পর্তুগালে প্রথমবারের মতো হচ্ছে সর্ববৃহৎ বাংলা কনসার্ট। " লিসবন বাংলা লাইভ কনসার্ট-২০২৬ " গাইবেন নগরবাউল জেমস।
আগামী ২৬ জুলাই ২০২৬, বিকেল ৫টায় লিসবনের ‘Lisboa Ao Vivo’ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মেগা এই ইভেন্ট। কাজা দো বাংলাদেশ ও নোটিসিয়াস বাংলা-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হবে এ কনসার্ট।
কনসার্ট উপলক্ষে আয়োজনদের পক্ষ থেকে রোববার (লিসবন) পুর্তগাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় এভিনিউ রোমার ‘লিটন’স টার্কিশ গ্রিল’-এ সংবাদ সম্মেলন ও ডিনার নাইট আয়োজন করা হয়।
এতে গণমাধ্যমকর্মী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা বলেন , পর্তুগালের মাটিতে এটাই হবে সবচেয়ে বড় বাংলা কনসার্ট। জেমসের উপস্থিতি প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশকে জাগিয়ে তুলবে। কনসার্টটি ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
তারা আরো জানায়, কনসার্টে টিকিট তিন ক্যাটাগরি ক্লাসিক্যাল ২০ ইউরো, গোল্ডেন সার্কেল ৫০ ইউরো ও ভিআইপি ১০০ ইউরো করা হয়েছে, আয়োজকদের কাছ থেকে কনসার্ট কমিটির সদস্যদের থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ভালোবাসার যে জায়গাটা একদিন ছিল স্বচ্ছ নদীর মতো, সেখানে এখন জলের রং গভীরভাবে বদলে গেছে। একসময় যেখানে আলো পড়লে তরঙ্গগুলো রূপোর মতো ঝিকিমিকি করত, আজ সেখানে স্তব্ধ হয়ে জমে আছে ভারী, নাদুস নুদুস যন্ত্রণা—নরম নয়, বরং অস্বস্তিকরভাবে ঘন, যেন নিঃশ্বাসটুকুও আটকে দেয়। এই রূপান্তর হঠাৎ কোনো ঝড়ে আসেনি; এসেছে ধীরে, অদৃশ্য ক্ষয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়—একেকটা বিশ্বাস ভেঙে পড়ার মৃদু অথচ ধারালো শব্দে গড়ে উঠেছে এই ভাঙা দৃশ্যপট। আমি কখনো কল্পনাও করিনি,…
ভালোবাসার যে জায়গাটা একদিন ছিল স্বচ্ছ নদীর মতো, সেখানে এখন জলের রং গভীরভাবে বদলে গেছে। একসময় যেখানে আলো পড়লে তরঙ্গগুলো রূপোর মতো ঝিকিমিকি করত, আজ সেখানে স্তব্ধ হয়ে জমে আছে ভারী, নাদুস নুদুস যন্ত্রণা—নরম নয়, বরং অস্বস্তিকরভাবে ঘন, যেন নিঃশ্বাসটুকুও আটকে দেয়। এই রূপান্তর হঠাৎ কোনো ঝড়ে আসেনি; এসেছে ধীরে, অদৃশ্য ক্ষয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়—একেকটা বিশ্বাস ভেঙে পড়ার মৃদু অথচ ধারালো শব্দে গড়ে উঠেছে এই ভাঙা দৃশ্যপট।
আমি কখনো কল্পনাও করিনি, ভালোবাসার গভীর ভেতরেই এমন নিঃশব্দ ভাঙন লুকিয়ে থাকতে পারে। তুমি একসময় ছিলে সেই নরম বিকেলের আলো, যার ছায়া আমার প্রতিটি ভাবনার ভেতর মিশে থাকত। অথচ আজ মনে হয়, সেই আলো ছিল এক সূক্ষ্ম প্রতারণার পর্দা—যেখানে সত্যকে ইচ্ছে করে ঢেকে রাখা হয়েছিল এক অদৃশ্য অন্ধকারে। প্রতিটি কথার আড়ালে, প্রতিটি আশ্বাসের ভেতরে লুকিয়ে ছিল অসমাপ্ত ফাঁকি—যা আমি দেখিনি, কিংবা হয়তো দেখতে চাইনি।
এখন আমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, তা কোনো নাটকীয় বিচ্ছেদের চূড়া নয়; বরং এক দীর্ঘ ক্লান্তির নিঃশেষ প্রান্তর। এখানে আর কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, নেই তোমাকে ফিরে পাওয়ার কোনো ব্যাকুলতা। আছে শুধু এক নিঃশব্দ উপলব্ধি—কিছু পথ একবার ভেঙে গেলে, তা আর কখনো আগের মতো করে জোড়া লাগে না। ভালোবাসার মাটি যখন প্রতারণার ভারে শক্ত হয়ে যায়, সেখানে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে গেলে আঙুলে শুধু রক্ত ঝরে।
চারপাশে তাকালে দেখি, সবকিছুই যেন একই রয়ে গেছে—সেই পথ, সেই আকাশ, সেই বিষণ্ণ বিকেল। শুধু বদলে গেছি আমি। আমার ভেতরের সেই নির্ভার বিশ্বাস, যে সহজে ডানা মেলত, সে আর নেই। তার জায়গায় জন্ম নিয়েছে এক গভীর সতর্ক নীরবতা—যে প্রতিটি নতুন অনুভূতিকে দূর থেকে দেখে, কাছে আসতে দেয় না, ছুঁতে ভয় পায়।
আমি এখন আর কিছুই চাই না—না কোনো ব্যাখ্যা, না কোনো প্রত্যাবর্তন। শুধু চাই এই জমাট বাঁধা স্মৃতির গহ্বর থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে মুক্ত করতে। প্রতারণার প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি ফেলে যাওয়া শব্দ থেকে নিজেকে আলাদা করতে। কারণ আমি বুঝে গেছি—কিছু গল্প শেষ হয় না কোনো জোরালো সমাপ্তিতে; তারা নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে, নিজের ভেতরেই নিঃশেষ হয়ে যায়।
আর সেই নিঃশেষ হওয়ার গভীরতাতেই লুকিয়ে থাকে এক অদ্ভুত মুক্তি—
এক নতুন শূন্যতার দরজা খুলে যায় সেখানে,
যেখানে ভাঙা প্রতিশ্রুতির প্রতিধ্বনি নেই,
শুধু আছে নীরবে বেঁচে থাকার বিস্তীর্ণ অবকাশ।
নদীর ধারে আজকের বিকেলটি এক অদ্ভুত নীরব স্বপ্নের মতো লাগছে। পশ্চিম আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে ঢলে পড়ছে, তার সোনালি রশ্মি নদীর জলে প্রতিফলিত হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে কোমল আলো। বাতাসে হালকা নোনা ঘ্রাণ, ঢেউ এসে আলতো ছুঁয়ে দিচ্ছে বালুচর—সব মিলিয়ে প্রকৃতি এক নিঃশব্দ সঙ্গীত হৃদয়ের কুড়িডোরে সুর তুলছে আমি একেই নদীর কুল ঘেষে হাঁটছি। বিকেল হলে শহরের মানুষজন বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জন্যই এখানে জড়ো হয়। নদীর কাছে আসলেই আমার…
নদীর ধারে আজকের বিকেলটি এক অদ্ভুত নীরব স্বপ্নের মতো লাগছে। পশ্চিম আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে ঢলে পড়ছে, তার সোনালি রশ্মি নদীর জলে প্রতিফলিত হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে কোমল আলো। বাতাসে হালকা নোনা ঘ্রাণ, ঢেউ এসে আলতো ছুঁয়ে দিচ্ছে বালুচর—সব মিলিয়ে প্রকৃতি
এক নিঃশব্দ সঙ্গীত হৃদয়ের কুড়িডোরে সুর তুলছে
আমি
একেই নদীর কুল ঘেষে হাঁটছি। বিকেল হলে শহরের মানুষজন
বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার জন্যই এখানে জড়ো হয়। নদীর কাছে আসলেই আমার মনে জাগে অজানা কৌতূহল, এক ধরনের অদ্ভুত
প্রত্যাশা। জীবনের সকল উদাসিনতা উড়ে যায় ঢেউয়ের শিওরে।
জীবনের সকল কোলাহল এই
নদীতীরে এসে থমকে দাঁড়ায়। ভাবনার গভীরে যখন ভাবনার
জন্ম হচ্ছে-
ঠিক
তখনই রায়হানা এসে দাঁড়াল আমার সামনে। চোখে তার চিরচেনা খেয়ালী হাসি।
— “পথিক,
তোমাকে একজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। সে রাজুতি।”
আমি
তাকালাম।নদীর কূলে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি যেন প্রকৃতিরই অংশ। লাল পাড়ের শাড়ি হাওয়ায় দুলছে, চুলের মসৃণ রেখা কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে। শ্যামলা মুখে এক মৃদু হাসি,
চোখে কাজলের গভীরতা—সব মিলিয়ে সে
যেন এক জীবন্ত কবিতা।
আমি
ধীরে বললাম, — “কেমন আছেন আপনি”
সে
তাকিয়ে হালকা হাসল, — “শুভ বিকেল। সাংবাদিকতার খোঁজে এসেছেন?”
তার
কণ্ঠে ছিল স্বাভাবিকতা, অথচ কোথাও এক অদৃশ্য টান।
রায়হানা
মুচকি হেসে বলল,
— “চল,
একটু হাঁটি। কফিও খাওয়া যাবে। আলাপটা জমে উঠুক।”
আমরা
তিনজন নদীর কূল ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। কিছুক্ষণ পর কথোপকথন আপনাতেই
গভীর হয়ে উঠল। শহর, সংবাদ, সাহিত্য—সবকিছু নিয়েই কথা হচ্ছিল, কিন্তু রাজুতির কথায় ছিল আলাদা এক সংবেদনশীলতা। সে
শুধু তথ্য বলছিল না, প্রতিটি কথার ভেতরে ছিল অনুভবের স্পর্শ।
তার
হাঁটার ছন্দ, কথা বলার ভঙ্গি, মাঝে মাঝে থেমে নদীর দিকে তাকানো—সবকিছু যেন পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাচ্ছিল।
সেই
দিন থেকেই শুরু হলো আমাদের আরেক জগতের সংযোগ—ফেসবুক মেসেঞ্জারে।
ছোট ছোট বার্তা, অল্প কথার হাসি, মাঝেমধ্যে গভীর কিছু ভাবনা—অদেখা এক বন্ধন ধীরে
ধীরে তৈরি হতে লাগল।
একদিন
আমরা ঠিক করলাম—শহরের বাইরে, নদীর ধারে একটা বিকেল কাটাবো।
রিকশা
থেকে নেমে যখন আমরা হাঁটছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল সময় যেন একটু ধীরে বয়ে যাচ্ছে। নরম বালুচরে পায়ের শব্দ, দূরের পাখির ডাক, আর নদীর স্রোতের
সুর—সব মিলিয়ে এক
অদ্ভুত প্রশান্তি।
রাজুতি
সেই দিনও লাল শাড়িতে। বাতাসে তার চুল উড়ছিল, নদীর ধারে বাতাসটা তখন একটু ঠাণ্ডা হয়ে এসেছে। সূর্যের আলো নরম হয়ে নদীর জলে লালচে ছায়া ফেলছে। আমরা পাশাপাশি হাঁটছিলাম, কিন্তু কথার চেয়ে নীরবতাই যেন বেশি কথা বলছিল।
রাজুতি হঠাৎ থেমে নদীর দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— “পথিক, তুমি কি কখনো খেয়াল
করেছ… নদী থামে না, কিন্তু তার ভেতরে কত কিছু জমে
থাকে?”
তার কণ্ঠে এমন এক শান্ত গাম্ভীর্য
ছিল, যা আমাকে একটু
থামিয়ে দিল।
আমি হালকা হেসে বললাম,
— “মানুষও তো তাই… বাইরে
চলতে থাকে, ভেতরে অনেক কিছু জমে যায়।”
সে মাথা নাড়ল।
চোখ তখনও নদীর দিকে।
— “হ্যাঁ… কিছু কথা বললে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু না বললে থেকে
যায়… ঠিক এই স্রোতের মতো।”
আমি তার দিকে তাকালাম। মনে হলো, সে শুধু কথা
বলছে না—কিছু অনুভব
করাচ্ছে।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
— “তুমি কি এমন কিছু
জমিয়ে রেখেছ?”
সে একটু হাসল,
কিন্তু সেই হাসিতে যেন পুরো আলো ছিল না।
— “সবাই রাখে, পথিক। কেউ ভুলে যেতে চায়, কেউ মনে রাখতে বাধ্য হয়।”
বাতাসে তার চুল উড়ে এসে মুখে পড়ছিল। সে ধীরে হাত
দিয়ে সরাল।
আমি বললাম,
— “তোমার কথাগুলো শুনে মনে হয়, তুমি অনেক কিছু দেখেছ।”
সে একটু চুপ
করে রইল। তারপর ধীরে বলল,
— “সবকিছু দেখা যায় না… কিছু জিনিস শুধু ভেতরে থেকে যায়। আর সেগুলো মানুষকে
বদলে দেয়।”
তার কথাগুলো সহজ, কিন্তু কোথাও যেন একটা চাপা ভার ছিল।
আমরা আবার হাঁটতে শুরু করলাম। কিছু দূর গিয়ে সে হালকা গলায়
বলল,
— “তুমি জানো, মানুষ আসলে কী চায়?”
আমি তাকিয়ে বললাম,
— “কি?”
সে মৃদু হেসে
বলল,
— “একটা জায়গা… যেখানে কিছু লুকাতে হবে না।”
আমি একটু ভেবে বললাম,
— “তুমি কি এমন জায়গা
পেয়েছ?”
সে সরাসরি উত্তর
দিল না। আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “হয়তো পেয়েছিলাম… কিন্তু সবকিছু সবসময় থাকে না।”
তার এই কথাটা খুব
সাধারণ শোনালেও, কোথাও যেন একটু থেমে গেল।
আমি বললাম,
— “তাহলে এখন?”
সে আমার দিকে
তাকিয়ে হালকা হাসল,
— “এখন শিখছি… যেখানে ভালো লাগে, সেখানেই কিছুক্ষণ থামতে।”
তার সেই হাসিটা শান্ত ছিল, কিন্তু পুরোপুরি নির্ভার না।
আমরা নদীর ধারে বাশের মাছা করে একটি ছোট টং দোকান,
বাশ কেটে সুন্দর করে বসার একটা জাযগা করা আছে আমি আর সেজুতি সেখানে বসে দুটো চার অর্ডার
করলাম। চারপাশে নরম
আলো, হালকা বাতাস। সাথে টং দোকানে বসে চার অনুভুতি
পৃথিবীর সেরা কিছু প্রাপ্তির তৃপ্তি এনে দিয়েছিল ঐদিন।
সে কাপটা হাতে নিয়ে বলল,
— “কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলোকে বেশি ভাবা উচিত না… শুধু অনুভব করা উচিত।”
আমি বললাম,
— “আজকের মতো?”
সে মাথা নেড়ে
বলল,
— “হ্যাঁ… আজকের মতো।”
কিছুক্ষণ আমরা চুপ করে থাকলাম। সেই নীরবতায়ও অদ্ভুত একটা স্বস্তি ছিল।
হঠাৎ সে আবার বলল,
— “পথিক, তুমি কি বিশ্বাস করো—সব মানুষ ঠিক
সময়েই একে অপরের জীবনে আসে?”
আমি বললাম,
— “হয়তো… না হলে দেখা
হতো না।”
সে একটু ধীরে
বলল,
— “হয়তো ঠিক সময়েই আসে… কিন্তু সবাই থাকার জন্য আসে না।”
তার কথাটা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলাম। কেন জানি না, কিন্তু কথাটা মনে রয়ে গেল।
তারপর সে হেসে বলল,
— “আমি না, একটু বেশি ভাবি।”
আমি হেসে বললাম,
— “ভালোই তো… তোমার কথা শুনলে মনে হয়, একটা গল্পের ভেতরে আছি।”
সে তাকিয়ে রইল
কিছুক্ষণ, তারপর খুব আস্তে বলল,
— “গল্পের ভেতরে থাকাই ভালো… বাস্তব কখনো কখনো কঠিন হয়ে যায়।”
সেই
বিকেলটি শেষ হয়েছিল, কিন্তু তার রেশ থেকে গিয়েছিল আমাদের ভেতরে।
নদীর ঢেউ, লাল শাড়ির দুলন, আর কিছু অব্যক্ত
অনুভূতি—সব মিলিয়ে সেটি
হয়ে উঠেছিল এক নিঃশব্দ কবিতা।
সন্ধ্যার আলো নরম হয়ে নামতে নামতে শহরটা যেন একটু থেমে যায়। নদীর ধারের বিকেলটাকে পেছনে ফেলে বাসায় ফিরলাম—চারপাশে সবই আগের মতো: দেয়াল, টেবিল, বই, আলো। তবু ভেতরে কোথাও এক অদ্ভুত শূন্যতা
রয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, বিকেলের কিছু কথা, কিছু নীরবতা এখনো আমার সঙ্গেই হাঁটছে।
মোবাইলটা টেবিলে পড়ে ছিল। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তুলে নিলাম।
ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটা নতুন নোটিফিকেশন।
রাজুতি।
ছোট্ট একটা বার্তা—
— “পৌঁছেছ, পথিক?”
আমি লিখলাম,
— “হ্যাঁ, একটু আগে। তুমি?”
— “আমিও… কিন্তু মনে হচ্ছে এখনো যেন ফিরিনি।”
তার কথাটা পড়ে থমকে গেলাম। মনে হলো, বিকেলটা শেষ হয়নি—শুধু জায়গা বদলেছে।
আমি লিখলাম,
— “কিছু কিছু বিকেল এমনই হয়… শেষ হয় না।”
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল—
— “আজকেরটা একটু অন্যরকম ছিল।”
— “কেন?”
ওপাশে সামান্য বিরতি। তারপর—
— “কারণ আজ আমি নিজেকে
একটু কম লুকিয়েছি।”
লাইনটা পড়তে পড়তে মনে হলো, সে যেন আমার
সামনেই বসে আছে।
— “তুমি কি সবসময় নিজেকে
লুকিয়ে রাখো?”—আমি জিজ্ঞেস করলাম।
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর—
— “সবাই রাখে, সখা।”
আমি থেমে গেলাম।
শব্দটা নতুন, অথচ অদ্ভুতভাবে কাছের।
— “সখা?”
— “হ্যাঁ… এমন কাউকে বলা যায়, যার সঙ্গে কথা বললে মনে হয়—নিজেকে একটু
কম লুকাতে হয়।”
শব্দটার ভেতরে এক ধরনের নীরব
উষ্ণতা ছিল। বুঝতে পারলাম, আমাদের কথার ভেতর দিয়ে অচেনা কিছু ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে।
আমি লিখলাম,
— “তাহলে আমি ভাগ্যবান।”
সে সঙ্গে সঙ্গে
উত্তর দিল না। একটু পর লিখল—
— “ভাগ্য… সবসময় একরকম থাকে না, পথিক।”
এই কথার ভেতরে
হালকা একটা ভাঙন টের পেলাম।
— “কিছু হয়েছে?”
অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই। শুধু ‘typing…’ আসে, মিলিয়ে যায়।
শেষমেশ সে লিখল—
— “তুমি কি কখনো এমন
কাউকে বিশ্বাস করেছ, যাকে মনে হয়েছিল—সে কখনো বদলাবে
না?”
আমি থেমে লিখলাম,
— “হয়তো… কেন বলছ?”
তার উত্তর এল ধীরে, ভাঙা
লাইনে—
— “কারণ আমি করেছিলাম।”
— “অনেকটা সময়… অনেকটা বিশ্বাস…”
— “তারপর একদিন বুঝলাম—সবকিছু আসলে আমার একারই ছিল।”
শব্দগুলো খুব সাধারণ, কিন্তু তাদের ভেতরে জমে থাকা নীরব ব্যথা স্পষ্ট।
সে আবার লিখল—
— “নিরব… নামটা হয়তো তেমন কিছু না, কিন্তু আমার কাছে একসময় পুরো পৃথিবী ছিল।”
আমি ধীরে জিজ্ঞেস করলাম—
— “সে কি… তোমাকে
কষ্ট দিয়েছে?”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে লিখল—
— “কষ্টটা দিলে হয়তো সহজ হতো… সে শুধু বদলে
গেল।”
— “আর আমি বুঝলাম,
আমি যাকে চিনতাম—সে আসলে ছিলই
না।”
এইবার কথাগুলোতে অভিযোগ নেই, শুধু ক্লান্তি।
আমি লিখলাম,
— “তুমি কি এখনো তাকে
ভাবো?”
— “ভাবি না… কিন্তু কিছু স্মৃতি নিজে থেকেই ফিরে আসে।”
— “তখন মনে হয়, আমি হয়তো ভুল ছিলাম… মানুষটা না।”
আমি একটু থামলাম। তারপর প্রসঙ্গটা নরমভাবে ঘুরিয়ে দিলাম—
— “আজ যে নীরবতার
কথা বলছিলে… সেটা কি তখন থেকেই?”
সে লিখল—
— “হয়তো… তখন থেকেই শিখেছি, শব্দ সবসময় সত্যি বলে না।”
— “তাই এখন শব্দের চেয়ে অনুভূতিতে বেশি বিশ্বাস করি।”
আমি লিখলাম—
— “তাই তোমার কথা শুনলে মনে হয়, তুমি শুধু বলো না—অনুভব করাও।”
সে হালকা সুরে
উত্তর দিল—
— “তুমি বুঝতে পারো… এটাই আশ্চর্য।”
— “হয়তো আমাদের ভাবনাগুলো কাছাকাছি।”
— “শুধু ভাবনা না… তুমি লেখো, তাই না?”
আমি একটু হেসে লিখলাম—
— “হ্যাঁ, চেষ্টা করি।”
— “বোঝা যায়,” সে লিখল,
— “তোমার কথার ভেতরে একটা ছন্দ আছে… জোর করে না, নিজে থেকেই আসে।”
— “তুমি কি সাহিত্য পড়ো?”
— “পড়ি না বললে ভুল
হবে… বাঁচার জন্য পড়ি।”
— “কিছু লেখা আছে, যেগুলো মানুষকে ভাঙে না—ধরে রাখে।”
— “তুমি নিজেও লিখতে পারো।”
সে একটু থেমে
লিখল—
— “লিখি মাঝে মাঝে… কিন্তু কাউকে দেখাই না।”
— “সব লেখা সবার
জন্য না, সখা।”
আবার সেই শব্দ—“সখা”।
এবার আর অচেনা লাগল
না।
কথা ঘুরতে ঘুরতে আমরা যেন আরেক জগতে ঢুকে গেলাম—
সাহিত্য, অনুভূতি, মানুষ, ভাঙন, আবার উঠে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে দুই
আলাদা পথ থেকে এসে
একই জায়গায় দাঁড়ানোর মতো।
আমি বুঝতে পারছিলাম, সে ধীরে ধীরে
তার ভেতরের দরজাগুলো খুলছে—পুরোটাই নয়, কিন্তু অল্প অল্প করে।
রাত বাড়ছিল।
শেষে সে লিখল—
— “আজকের বিকেলটা… মনে থাকবে।”
আমি লিখলাম—
— “আমারও।”
সে আবার লিখল—
— “সব স্মৃতি ভারী
হয় না… কিছু স্মৃতি মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।”
আমি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
মনে হলো, এই কথাগুলোর ভেতরেই
কোথাও আমাদের সম্পর্কের শুরুটা নীরবে গড়ে উঠছে।
আমি লিখলাম—
— “তাহলে আজকেরটা তেমনই থাক।”
সে শুধু লিখল—
— “হ্যাঁ, সখা।”
চ্যাট শেষ হলো।
কিন্তু কথাগুলো থেকে গেল।
ঘরের আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়লাম।
মনে হচ্ছিল, এই পরিচয়টা সাধারণ
না—
কিছু একটা শুরু হয়েছে। নীরবে, ধীরে, গভীরভাবে।
আর অদ্ভুতভাবে আমি
বুঝতে পারছিলাম—
আমি তার জন্য একটা নাম ভেবে ফেলেছি।
কিন্তু সেটার সময় এখনো আসেনি।
সৃষ্টি যখন প্রথম আলো জ্বালিয়েছিল অন্ধকারের বুক চিরে, তখন কেউ ছিলনা ডাকার জন্য, কেউ ছিলনা সাড়া দেওয়ার। তখন শব্দ ছিল না, ছিল না ভাষা। সময় তখনো নিজেকে চিনতে শেখেনি। স্থান ছিলো না, গতি ছিলো না, কিছুই ছিলো না Ñশুধু ছিল এক নিঃশব্দ প্রেম, যা আত্মার গভীরতম স্তর থেকে প্রস্ফুটিত হয়েছিল। সেই প্রেম কার প্রতি ছিল? কিসের প্রতি ছিল? সে কি স্রষ্টার নিজেরই ভেতরের এক তীব্র আকুলতা? হয়তো তিনি একা ছিলেন…
সৃষ্টি যখন প্রথম আলো জ্বালিয়েছিল অন্ধকারের বুক চিরে, তখন কেউ ছিলনা ডাকার জন্য, কেউ ছিলনা সাড়া দেওয়ার। তখন শব্দ ছিল না, ছিল না ভাষা। সময় তখনো নিজেকে চিনতে শেখেনি। স্থান ছিলো না, গতি ছিলো না, কিছুই ছিলো না Ñশুধু ছিল এক নিঃশব্দ প্রেম, যা আত্মার গভীরতম স্তর থেকে প্রস্ফুটিত হয়েছিল।
সেই প্রেম কার প্রতি ছিল? কিসের প্রতি ছিল? সে কি স্রষ্টার নিজেরই ভেতরের এক তীব্র আকুলতা? হয়তো তিনি একা ছিলেন না, কারণ যিনি প্রেম ধারণ করেন, তিনি কখনো একা হন না। তিনি নিজের প্রেমেই পূর্ণ ছিলেন। সেই প্রেমই ছিল আদিম স্রষ্টার নিঃশব্দ উচ্চারণÑ "হও", আর সেই হওয়া থেকেই জন্ম নিয়েছিল আকাশ, ধরণী, নক্ষত্র, নদী, এবং মানুষ।
মানুষÑ এই রহস্যময় প্রাণ, যার হৃদয়ে এক অতল প্রেমের বীজ রোপিত করে দিয়েছিল স্রষ্টা। সে প্রেম শুধু কারো প্রতি আকর্ষণ নয়, বরং নিজের আত্মার এক বিস্ময়কর অন্বেষণ। সেই প্রেমে রয়েছে স্রষ্টার সন্ধান, রয়েছে ভাঙনের ভিতরে গড়ার আহ্বান, রয়েছে হারানোর মাঝেও এক চিরন্তন প্রাপ্তি।
প্রেম কোনো রূপ বা শরীরের কাছে বাঁধা নয়। এটি এক ধ্রুব জ্যোতি, যা অন্তরের দৃষ্টিতে দেখা যায়, হৃদয়ের কান দিয়ে শোনা যায়। যেখানে প্রেম এবং প্রার্থনা এক হয়ে যায়Ñ সেখানে সৃষ্টি আর স্রষ্টার ব্যবধান বিলীন হয়ে যায়।
মানুষ যখন প্রেম করে, সত্যিকারভাবে, তখন সে আসলে সৃষ্টি রহস্যের গভীরে প্রবেশ করেÑ যেখানে প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি নীরবতা একেকটি মহাজাগতিক ভাষ্য। সেই প্রেম আত্মাকে পবিত্র করে, যেমন নদী ধুয়ে দেয় পাথরের ধুলো।
জগৎ সৃষ্টি হয়নি আকস্মিকতায়। জগৎ সৃষ্টি হয়েছে ভালোবাসার প্রবল আকর্ষণে। প্রেমই স্রষ্টাকে বলেছিল, “তুমি নিজেকে প্রকাশ করো। তোমার নিখুঁত সৌন্দর্য আর কাঁপনজাগানো করুণা যেনো রূপ লাভ করে।” তখন তিনি বলেননি কোনো শব্দ, উচ্চারণ করেননি কোনো নির্দেশÑ তিনি শুধু প্রেমের সাগরে নিজেকে ঢেলে দিলেন। আর সেই ঢেলে দেওয়া থেকেই জন্ম নিলো প্রথম আলো।
আলো আসার আগে, প্রেমই ছিল প্রথম সৃষ্টি। আলো প্রেমের ভাষা হতে চেয়েছিল, নক্ষত্রেরা প্রেমের চোখ, আর সময় হয়েছিল তার দিগন্ত। এক গভীর, অথচ নীরব বিস্ফোরণÑ যেখানে শব্দ ছিল না, ছিল কেবল এক মরমি সাড়া। সেই সাড়ায় জন্ম নিলো “কুন”Ñ স্রষ্টার সেই অনন্ত ইচ্ছা, যা এক মহাসৃষ্টির সূত্রপাত করেছিল।
আর সেই সৃষ্টিÑ মানব আত্মাÑ যার হৃদয়েই তিনি প্রেমের পূর্ণ রূপ রাখলেন। মানুষ হলো প্রেমের অভিপ্রায়, প্রেমের বাহক, প্রেমের অন্বেষণকারী।
এই অধ্যায়ে যখন আমরা ফিরে তাকাইÑ আলোকের পূর্বের সেই নিস্তব্ধতায়Ñতখন আমরা দেখতে পাই, প্রেম কোনো মানসিক অনুভূতি নয়, এটি এক অস্তিত্বগত সত্য। প্রেম কোনো ঘটনা নয়, প্রেম হলো সত্তা। একমাত্র প্রেমই এমন কিছু, যা সৃষ্টি হওয়ার আগেও ছিল, থাকবে সৃষ্টির অন্তেও।
তাই যিনি সত্য প্রেম খোঁজেন, তিনি আলোর বাইরে যেতে শেখেন। তিনি শব্দের বাইরে ভাবেন। তিনি সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে যান। তিনি অনুভব করেন সেই প্রেমÑ যা একসময় নিজেরই প্রেমে পড়ে সৃষ্টি করেছিল আমাদের।
A drone strike targeted a weapons depot at the headquarters of an Iranian Kurdish armed group in the city of Dekala in Iraq’s semi-autonomous Kurdistan region. Two fighters were injured in the attack, according to security sources. Al Jazeera reported the development.Iran has long accused the authorities in Iraq’s Kurdish region of providing shelter to armed groups involved in attacks against the Iranian government. The country’s powerful force, the Islamic…
A drone strike targeted a weapons depot at the headquarters of an Iranian Kurdish armed group in the city of Dekala in Iraq’s semi-autonomous Kurdistan region. Two fighters were injured in the attack, according to security sources. Al Jazeera reported the development.
Iran has long accused the authorities in Iraq’s Kurdish region of providing shelter to armed groups involved in attacks against the Iranian government. The country’s powerful force, the Islamic Revolutionary Guard Corps (IRGC), has previously carried out multiple strikes targeting the bases of these groups.
In a report published this week, Reuters stated that in recent days Iranian Kurdish militias had consulted with the United States about whether to launch attacks against Iranian security forces in western Iran and, if so, how to carry them out.
Desk Reporter: Iran has claimed that it shot down a U.S. F-15 fighter jet. The information was reported by Iran’s semi-official news agency Tasnim News Agency, citing a related source. According to the source, Iran’s air defense forces brought down the American F-15 aircraft. Earlier, the Khatam al-Anbiya Central Headquarters, the military operations branch of Iran’s Islamic Revolutionary Guard Corps, announced on Monday that Iran’s indigenous air defense system had…
Desk Reporter: Iran has claimed that it shot down a U.S. F-15 fighter jet. The information was reported by Iran’s semi-official news agency Tasnim News Agency, citing a related source.
According to the source, Iran’s air defense forces brought down the American F-15 aircraft.
Earlier, the Khatam al-Anbiya Central Headquarters, the military operations branch of Iran’s Islamic Revolutionary Guard Corps, announced on Monday that Iran’s indigenous air defense system had shot down three U.S. warplanes.
Since then, various images have circulated showing U.S. military aircraft being downed. In the images, pilots were seen descending to the ground using parachutes.
However, the United States and Kuwait later stated that the aircraft were brought down in Kuwait due to “friendly fire,” meaning they were mistakenly hit by missiles fired by their own side. The pilots were reportedly able to land safely.
Desk Report: Iran’s Islamic Revolutionary Guard Corps (Islamic Revolutionary Guard Corps) has stated that the country maintains “full control” over the Strait of Hormuz, a sea route that is critically important for global trade. Earlier, U.S. President Donald Trump said he was preparing to deploy the U.S. Navy to escort tankers passing through the strategic waterway. Following that statement, the IRGC declared that it holds “complete control” over the Strait…
Desk Report: Iran’s Islamic Revolutionary Guard Corps (Islamic Revolutionary Guard Corps) has stated that the country maintains “full control” over the Strait of Hormuz, a sea route that is critically important for global trade.
Earlier, U.S. President Donald Trump said he was preparing to deploy the U.S. Navy to escort tankers passing through the strategic waterway. Following that statement, the IRGC declared that it holds “complete control” over the Strait of Hormuz.
In a statement issued on Wednesday, Mohammad Akbarzadeh, an official from the IRGC Navy, said, “At this moment, the naval forces of the Islamic Republic have full control over the Strait of Hormuz.”
The statement was reported by Iran’s Fars News Agency.
Source: Al Jazeera
@lhjihad · Journalist · Brahmanbaria
A quick introduction for the PothikTV community.
Liton Hossain Jihad is a Bangladeshi journalist, poet, writer, and digital media entrepreneur based in Brahmanbaria. He has been active in journalism for more than a decade and is associated with PothikTV and PothikNews, where he works across journalism, publishing, and digital media development. Alongside journalism, he is known for his literary work, particularly poetry and essays. His published works include poetry collections such as *Somay Akhon Jagaroner*, while a number of his poems have appeared on Bengali literary platforms. His work focuses on journalism, literature, digital communication, community media, and the development of technology-driven platforms for journalists and creative professionals in Bangladesh.
Professional experience, education and languages.
Goals, milestones and personal values.
Skills stored in this member's professional account.
Achievements and accolades stored for this member.
To: Liton Hossain Jihad
Private messages are stored by PothikTV. Do not assume end-to-end encryption unless a separate secure channel is configured.
Update, lead, inquiry, event, poll, visual or announcement
In Safari, tap Share, then choose Add to Home Screen.








