জনসেবার মান বাড়াতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সমাধান নয়: অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সংস্কার নীতি নিয়ে আলোচনা
যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিষেবা ও এনএইচএস সংস্কারে কেবল নিয়মকানুন এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে জনসন্তুষ্টিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Health ডেস্ক: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও জনসেবা খাত পুনর্গঠনের পরিকল্পনায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বড় ধরনের সংস্কার ধীরগতির করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পানি শিল্প সংস্কার, স্থানীয় সরকার পুনর্গঠন, সামাজিক যত্ন এবং কল্যাণ খাতের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো পরবর্তী সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া কিংবা আগামী ২০৩০-এর দশকে পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, জনসেবার মান বৃদ্ধি ও জনগণের আস্থা ফেরাতে অতিরিক্ত নিয়মকানুন বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সেবার মূল উদ্দেশ্য অর্জন এবং গ্রাহক সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া বেশি জরুরি।
অর্থনীতিবিদ স্যার জন কে এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সংস্থা কার সুবিধার জন্য কাজ করছে তা সর্বদা মনে রাখা উচিত। বেসরকারি খাতে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গ্রাহক সন্তুষ্টি, যার ফলশ্রুতিতে মুনাফা আসবে। একইভাবে সরকারি খাতে মূল লক্ষ্য সেবার মান নিশ্চিত করা হলে স্বাভাবিকভাবেই অপচয় কমবে এবং অর্থ সাশ্রয় হবে। জন কে তাঁর ‘অবলিকুইটি’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন, যেসকল প্রতিষ্ঠান কেবল শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফাকে প্রধান লক্ষ্য বানিয়েছিল তারা পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়েছে, আর যারা সেরা পণ্য বা সেবা প্রদানে মনোযোগী ছিল তারাই দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য পেয়েছে।
সরকারি খাত বিশেষ করে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (এনএইচএস) কাজের প্রক্রিয়া কেবল নিয়মকানুন মেনে চলার জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যায় না এবং অর্থের অপচয় হয়। বর্তমানে এনএইচএসে জিপি (জেনারেল প্রাকটিশনার) এবং হাসপাতাল পরিদর্শনের ক্ষেত্রে রোগীদের সন্তুষ্টি কিছুটা বাড়ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের নতুন ব্যবস্থায় কিছু অসুবিধা থাকলেও মানুষ দ্রুত ডাক্তারদের সেবা পাচ্ছে। অন্যদিকে, মেটারনিটি ইউনিটে মৃত্যুহার বৃদ্ধির ঘটনা চেপে যাওয়ার মতো ব্যর্থতাও দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সাফল্য বা ব্যর্থতার মূল কারণ স্বাস্থ্যসেবার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ নয়। বরং অতিরিক্ত নিয়মকানুন প্রায়শই উৎপাদনশীল আচরণকে ব্যাহত করে এবং উদ্ভাবন থামিয়ে দেয়।
সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের পদ্ধতির এই ব্যর্থতা অন্যান্য খাতেই দৃশ্যমান। সম্প্রতি এনভাররনমেন্ট এজেন্সি স্থানীয় কাউন্সিল ও সংস্থাগুলোকে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর জন্য অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ২০২০ সালে এ১৪ মহাসড়কের পাশে ন্যাশনাল হাইওয়েজ সাড়ে আট লাখ গাছের চারা রোপণ করেছিল, যার তিন- চতুর্থাংশ চারা তিন বছরের মধ্যে মারা যায় বলে তাদের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে আসে। এই ধরণের ব্যর্থতাগুলো মূলত কাজের প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে ঘটে, যা কেবল প্রটোকল বা নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।
ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট জন সেডনের মতে, সমস্ত সংস্কার উদ্যোগই ব্যর্থ হয় যদি না সেবার মূল উদ্দেশ্য সঠিকভাবে অনুধাবন করা হয়। তিনি একেবারেই নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার পক্ষে নন, তবে সংস্থাগুলো তাদের মূল উদ্দেশ্য কতটা অর্জন করতে পারছে তার ওপর ভিত্তি করে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন। এর ফলে কোনো সংস্থা উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং সরকারি কর্মীদের সন্দেহ ও অনাস্থার পরিবেশ থেকে মুক্ত রাখা যাবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও তাঁর দলের উচিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানা সরকারি নাকি বেসরকারি—সে বিতর্ক বাদ দিয়ে কীভাবে সরকারি খাতের সংস্থাগুলো আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া। শুধুমাত্র প্রটোকল বা বক্স-টিকিং সংস্কৃতির পরিবর্তে গ্রাহক বা সেবাগ্রহীতার সন্তুষ্টিকেই জনসেবা উন্নয়নের মূল মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করার সময় এসেছে।






